প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 23 Dec 2025, 11:49 PM
ব্রাহ্মণপাড়ার দুই হাত বিহীন শিশু আরশাদুলকে পড়াশোনায় ফেরাতে পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও
মো. আনোয়ারুল ইসলাম
জন্ম থেকেই নেই দুই হাত। তবুও জীবনযুদ্ধে হার মানতে শেখেনি প্রতিবন্ধী শিশু আরশাদুল ইসলাম। তার বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা পড়াশোনা। আর্থিক অনটনের কারণে প্রায় এক বছর ধরে স্কুলের বাইরে থাকলেও তার চোখেমুখে আজও ভেসে বেড়ায় আলোকিত ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের শিদলাই ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়াপাড়া এলাকায় নানাবাড়িতে বসবাস করছে আরশাদুল। জন্মের পর থেকেই নানীর কাছেই তার বেড়ে ওঠা। তার বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মেহারী ইউনিয়নের শিমরাইল গ্রামে হলেও জীবনের কঠিন বাস্তবতা তাকে নানাবাড়িতেই আটকে রেখেছে।
আরশাদুলের বাবা সুমন মিয়া ছিলেন পেশায় রাজমিস্ত্রি। তিন বছর আগে তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। নানীর সহযোগিতায় কোনোভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল আরশাদুল। কিন্তু অর্থাভাবে গত এক বছর ধরে বন্ধ হয়ে যায় তার পড়ালেখা। নিয়মিত পড়াশোনা চালু থাকলে এ বছর তার পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার কথা ছিল।
আরশাদুলের মা মিনুয়ারা বেগম ব্রাহ্মণপাড়া সদরে ভাড়া বাসায় অন্য সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন। সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালাতে গিয়ে জীবিকার তাগিদে আরশাদুলকে নানাবাড়িতেই রেখে যেতে বাধ্য হন তিনি।
অভাব-অনটন আর জীবনসংগ্রামও আরশাদুলের বইয়ের প্রতি ভালোবাসা কেড়ে নিতে পারেনি। স্কুলে যেতে না পারলেও সুযোগ পেলেই বই-খাতা নিয়ে পড়তে বসে সে। সহযোগিতা পেলে আবারও নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ এই অদম্য শিশুর।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আরশাদুল অত্যন্ত মেধাবী। যথাযথ সুযোগ-সুবিধা পেলে সে ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে।
ইতোমধ্যে আরশাদুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান। তার বন্ধ হয়ে যাওয়া পড়াশোনা পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে ইউএনও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু আরশাদুল ইসলামকে শিক্ষাসামগ্রী উপহার দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও তার পড়াশোনাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদা জাহান বলেন, শিদলাই এলাকার শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু আরশাদুল ইসলামের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া ও তাকে উৎসাহিত করার জন্য প্রাথমিকভাবে কিছু সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও তার প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধকতা কোনো শিশুর শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না। আরশাদুলের মতো আগ্রহী ও সাহসী শিশুর পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। তার পড়াশোনা যেন কোনো কারণে বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে আরশাদুল। দুই হাত না থাকলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সহানুভূতির হাত ধরে সে এগিয়ে যেতে চায় আলোকিত ভবিষ্যতের পথে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণে প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা-ঢাকা যাতায়াতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প প...
ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণে প্রকল্প প্রস্তাবনা উপস্...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা-ঢাকা যাতায়াতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প প...
দীর্ঘদিন ধরে একসাথে চলা ও যৌথ বিজনেস করা ২ বন্ধুর মৃত্যুও এক...
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিচৌদ্দগ্রামের ইউনুস (৫৫) ও পাশ^বর্তী নাঙ্গলকোট উপজেলার নূর আলম (৪৫) দুই বন্ধু দীর...
৭ হাসপাতাল ঘুরেও হামে আক্রান্ত শিশু সাজিদকে বাঁচানো গেলোনা
এমরান হোসেন বাপ্পি, চৌদ্দগ্রামবিয়ের ১৬ বছরে পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির ঘরে জন্ম নিয়ে...
তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ-ড. খন্দকার মোশা...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লার দাউদকান্দিতে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫৮৭টি অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড...
নতুন প্রজন্ম যে প্রত্যাশা নিয়ে আন্দোলন করেছিল, তা এখনো পূরণ...
হোমনা( কুমিল্লা) প্রতিনিধি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্...