প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 13 May 2026, 12:17 AM
পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের বিজ্ঞপ্তির আড়ালে কাজী মুনসুর উল হককে মানহানির অপচেষ্টা
২০১৬ সালে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর মৌজায় অবস্থিত ২.০৬ একর জমি ক্রয় করেন কুমিল্লার গোবিন্দপুর (কাজী বাড়ি) নিবাসী জনাব কাজী মুনসুর উল হক। জমিটির বিক্রেতা ছিলেন রাকেশের পাড় নিবাসী জনাব আজহারুল হাসান মজুমদার, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
উক্ত জমির অবস্থান বড় ধর্মপুর (১২৪) মৌজার অধীন হোল্ডিং নং ১৮৫৪, খতিয়ান নং ১৮১৫ এবং দাগ নং ৪০৫৫/৪১৮৯/৪২২১। মৃত মাস্টার আমিরুল ইসলাম মজুমদারের পুত্র জনাব আজহারুল হাসান মজুমদারের নিকট হতে ২৫/০২/২০১৬ তারিখে ১,৬৪,৬৫,০০০/- (এক কোটি চৌষট্টি লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার) টাকা সম্পূর্ণ পরিশোধের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করা হয়।
জনাব কাজী মুনসুর উল হক এই জমিতে একটি ইউনানী ঔষধ উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে কোম্পানির নামে সম্পত্তি স্থানান্তরের সময় দ্বিগুণ রেজিস্ট্রেশন ব্যয় এড়ানোর লক্ষ্যে তিনি সরাসরি নিজের নামে দলিল না করে ২৫/০২/২০১৬ তারিখে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নং ১৮৮৯ মূলে একটি অ-প্রত্যাহারযোগ্য আম-মোক্তারনামা (Irrevocable Power of Attorney) নিজের অনুকূলে রেজিস্ট্রি করান। উক্ত দলিলে জমির পূর্ণ মূল্য পরিশোধের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং বিক্রয়, হস্তান্তর, বন্ধক, উন্নয়নসহ সম্পত্তির উপর পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে তিনি এই প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অর্থ, শ্রম ও সময় বিনিয়োগ করেন এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA) থেকে ইউনানী ঔষধ উৎপাদনের লাইসেন্সও সংগ্রহ করেন।
জমির মূল্য বৃদ্ধির পর বিরোধের সূত্রপাত
সাম্প্রতিক সময়ে জমির বাজারমূল্য বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার পর জনাব আজহারুল হাসান মজুমদার বিদেশ থেকে উক্ত জমি পুনরুদ্ধারের অপচেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ লক্ষ্যে তিনি—
রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও অর্থ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন;
জনাব কাজী মুনসুর উল হকের উপর পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের চাপ প্রয়োগ করেন;
দাবি না মানলে শারীরিক ক্ষতির হুমকিও প্রদান করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
১২ মে ২০২৬: বিভ্রান্তিকর সংবাদপত্র বিজ্ঞাপন
১২ মে ২০২৬ তারিখে কুমিল্লার দুটি স্থানীয় দৈনিক — কুমিল্লার কাগজ এবং দৈনিক রূপসী বাংলা — এ “পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের বিজ্ঞপ্তি” শিরোনামে অর্থের বিনিময়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
উক্ত বিজ্ঞাপনে একাধিক বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, চুক্তি আইন, ১৮৭২-এর ধারা ২০২ অনুযায়ী মূল্যের বিনিময়ে প্রদত্ত অ-প্রত্যাহারযোগ্য আম-মোক্তারনামা একতরফাভাবে বাতিলযোগ্য নয়। অথচ বিজ্ঞাপনদাতা জনাব আজহারুল হাসান মজুমদার এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছেন। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায় — আদৌ কি উক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইনগতভাবে বাতিল হয়েছে?
বিজ্ঞাপনে আরও দাবি করা হয় যে, জনাব কাজী মুনসুর উল হক নাকি জনাব আজহারুল হাসান মজুমদারের “আত্মীয়” এবং কেবল “রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে” এই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি অনুযায়ী, এই বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
পরিকল্পিত হয়রানির অভিযোগ
জনাব কাজী মুনসুর উল হকের পরিবার কুমিল্লার সুপরিচিত ও সম্মানিত পরিবার হিসেবে পরিচিত। তাঁর পিতা মরহুম কাজী আব্দুল হক ছিলেন কুমিল্লা জেলার সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট এবং পৌরসভার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান।
সাধারণ জনগণকে আমার সঙ্গে কোনো প্রকার লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়ে আমার সম্পত্তির বাজারযোগ্যতা নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, যা সরাসরি আমার সামাজিক সম্মান ও ব্যবসায়িক সুনামের উপর আঘাত।
পরিকল্পিত হয়রানি ও মানহানির অভিযোগ
জনাব আজহারুল হাসান মজুমদারের কার্যকলাপ নিছক কোনো আইনি মতবিরোধ নয়; বরং একজন বয়স্ক, সরল ও বিশ্বাসী ক্রেতাকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিত হয়রানি, মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং আর্থিক ক্ষতিসাধনের অপচেষ্টা।
ঘটনার প্রকৃতি থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়—
প্রায় এক দশক নীরব থাকার পর জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ামাত্রই বিরোধ সৃষ্টি করা হয়েছে;
নিজের স্বাক্ষরিত ও রেজিস্ট্রিকৃত দলিলে মূল্য গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার থাকার পরও প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করা হচ্ছে;
বিদেশে অবস্থান করে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে ভয়ভীতি, মানসিক চাপ ও হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে;
সংবাদপত্রে অসত্য তথ্য প্রকাশ করে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে;
পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে জনমনে ভুল ধারণা সৃষ্টি করা হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রভাব
এই ধারাবাহিক হয়রানি ও অপপ্রচারের ফলে আমি আর্থিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি।
দীর্ঘদিনের শিল্প প্রকল্প কার্যত পরিত্যক্ত হয়েছে;
DGDA লাইসেন্স সংগ্রহে ব্যয়িত সময়, অর্থ ও শ্রম নষ্ট হয়েছে;
প্রকাশ্য অপপ্রচার, হুমকি ও অনিশ্চয়তার কারণে জমির বাজারমূল্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে;
আমার সামাজিক সম্মান ও দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে;
আমি ও আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি।
আমি প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত, আমার জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মিথ্যা তথ্য প্রচার ও হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
নেইমার ‘সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে’ বিশ্বকাপ জেতাবে : রোনালদো
দীর্ঘদিন পর ব্রাজিল দলে ফেরা নেইমারকে নিয়ে আশাবাদী দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো নাজারিও। তার বিশ...
সংসদ অধিবেশন থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
বিলের প্রতিলিপি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। রবিবার (২৮ জ...
জুলাইয়ে মিলতে পারে পে স্কেলের সম্পূর্ণ বেতন
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর আসতে পারে জুলাইতে। নবম পে স্কেলের আওতায় সম্পূর্ণ মূল বেতন আগামী মাস থ...
ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৫০০
ভেনেজুয়েলায় দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। উদ্ধারকারী দল ও প্রশিক্ষিত উ...
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে কার মুখোমুখি স্বাগতিক কানাডা
বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক কানাডা। রাউন্ড অব ৩২-এ দক্ষিণ আফ...
বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় তদন্তের নির্দেশ দক্ষিণ কোরিয়া প্রেসিডেন্ট...
২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর জাতীয় দলের ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দ...