প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 23 May 2026, 10:11 AM
তথ্য গোপন করে সরকারি চাকুরিতে যোগদান ১
এমরান হোসেন বাপ্পি
মৌসুমী দস্তিদার, পিতা: শশাংক দস্তিদার, মাতা: রানী প্রভা দস্তিদার, স্বামী: কাজল পাল। তিনি চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও গ্রামের জনার্দ্দন ঠাকুরবাড়ীর বাসিন্দা। অথচ সরকারি নিয়োগের বিধিমালার তথ্য গোপন করে প্রায় ১৬ বৎসর ধরে প্রধান শিক্ষকের স্ব-পদে বহাল রয়েছেন মৌসুমী দস্তিদার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের ২০নং শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন।
দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌসুমী দস্তিদারের জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৯৫৫০৮৬২৪১২ তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ করা হয় চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও এলাকার জনার্দ্দন ঠাকুর বাড়ী। তার পিতার নাম শশাংক দস্তিদার, মাতা রানী প্রভা দস্তিদার, স্বামী কাজল পাল। অথচ ২০০৮ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর তিন পার্বত্য জেলা বাদ দিয়ে ৬১টি জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। মৌসুমী দস্তিদার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করা হয় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৬নং ঘোলপাশা ইউনিয়নের সলাকান্দি গ্রামে। উক্ত গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মৌসুমী দস্তিদার নামে কোন ব্যক্তির অস্তিত্ব নেই। কাজল পাল নামেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অথচ তথ্য গোপন করে তিনি ২০১০ সালের ২১শে অক্টোবর প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেন।
এ বিষয়ে ঐ গ্রামের পাল বাড়ীর শিক্ষক রাম প্রসাদ পাল জানান, মৌসুমী দস্তিদার তার নিকটাত্মীয় হয়। কেমন আত্মীয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আত্মীয় হয়। মৌসুদী দস্তিদারের স্বামীর নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বামীর নাম আমি আপনাকে বলতে পারবো না, তবে তিনি আমাদের আত্মীয়। পরবর্তীতে অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মৌসুমী দস্তিদারের স্বামীর নাম জীবন কৃষ্ণ পাল। তারা এ গ্রামে থাকেন না। কুমিল্লা শহরে বসবাস করেন। তাই গ্রামে তাদেরকে কেউ চিনেন না।
পাল বাড়ীর পার্শ্ববর্তী গোলক চন্দ্র জানান, মৌসুমী দস্তিদার নামে কাউকে আমরা চিনি না, কাজল পাল অথবা জীবন কৃষ্ণ পাল নামেও এখানে কোন লোক বসবাস করে না। এ নাম আমরা এই প্রথম শুনেছি।
চৌদ্দগ্রামে ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষক সহ ১৪০০ শিক্ষক নিয়োজিত রয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সাথে মৌসুমী দস্তিদার সম্পর্কে কথা হয়। তারা বলেন, মৌসুমী দস্তিদার আমাদের সাথে শিক্ষকতা করেন, তার মুখে আমরা শুনেছি তিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তবে তাকে কখনোই চৌদ্দগ্রামের ঐ গ্রামে দেখি নাই। তার আসল ঠিকানা নিয়ে আমরা নিজেরাও সন্দিহান।
পরে অনুসন্ধান করে জীবন কৃষ্ণ পালের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে জীবন কৃষ্ণ পালের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসন্ধান করে জানা গেছে, সেখানে তার স্ত্রীর নাম লেখা আছে কনিকা পাল। এই বিষয়ে জীবন কৃষ্ণ পালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে এক নারী ফোনটি রিসিভ করে সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। প্রতিবেদক পরবর্তীতে জীবন কৃষ্ণ পালের হোয়াটস আপ নাম্বারে ভয়েস রেকর্ড পাঠিয়েও তার কোন উত্তর পায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘোলপাশা ইউনিয়নের সলাকান্দি গ্রামের শিক্ষক রামপ্রসাদ পালের দুঃহ সম্পর্কের আত্মীয় হন মৌসুমী দস্তিদার। রাম প্রসাদ পাল তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৌসুমী দস্তিদারকে স্থানীয় নাগরিক দেখিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করান।
একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে মৌসুমী দস্তিদারের চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও এলাকায় খবর নিয়ে জানা যায়, কাজল পাল নামে যেই ব্যক্তিকে স্বামী দেখিয়ে মৌসুমী দস্তিদার জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন তার বাড়ী যশোরে।
পরবর্তীতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে মৌসুমী দস্তিদারের বড় ভগ্নিপতি পরিমল চৌধুরীর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। পরিমল চৌধুরীর কাছে মৌসুমী দস্তিদারের স্বামীর নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, নামটি আমার সঠিক জানা নেই। তবে এতটুকুই বলতে পারি মৌসুমী দস্তিদার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থাকেন এবং সেখানে সরকারি চাকুরি করেন এই কথা বলে তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন।
২০০৮ সালের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম খাঁন স্বাক্ষরিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ১৪নং ধারা উল্লেখ করা হয়, প্রার্থীকে নিম্নবর্ণিত দরখাস্ত ও প্রবেশপত্র নমুনা ফরম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে অথবা এ-৪ সাইজের সাদা কাগজে একই ভাবে কম্পিউটার কম্পোজ করে স্ব-হস্তে পূরণপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনে প্রার্থীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইতে হবে। অথচ মৌসুমী দস্তিদার নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী তথ্য গোপন করে কাজল পালকে স্বামী দেখিয়ে ঘোলপাশা ইউনিয়নের সলাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়ে যান।
শিক্ষক রামপ্রসাদ পাল বলেন, আমি মৌসুমী দস্তিদারকে চাকুরি পাওয়ার জন্য কোন সহযোগিতা অথবা নাগরিকত্ব সনদ সংগ্রহ করে দেই নাই।
এ বিষয়ে কথা হয় মৌসুমী দস্তিদারের সাথে, তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি এ সম্পর্কে আপনার সাথে কথা বলতে চাই না। এ বিষয়ে কৈফিয়ত চাইলে আমি আমার কর্তৃপক্ষকে দিবো।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইতে হবে। মৌসুদী দস্তিদারের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো। যদি মৌসুমী দস্তিদার তথ্য গোপন করে চাকুরিতে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুনছুর আলী চৌধুরী বলেন, আপনার মাধ্যমে মৌসুমী দস্তিদার সম্পর্কে জানতে পারলাম, শীঘ্রই এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
বিশ্বকাপের আগে ইবোলা ধাক্কা: কঙ্গো দলকে কড়া আইসোলেশনের নির্দ...
এফএনএস স্পোর্টস: দেশজুড়ে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বড় ধরনের বিপাকে পড়েছে ডেম...
টানা চতুর্থবার শীর্ষে রোনালদো, তালিকায় তৃতীয় মেসি
এফএনএস স্পোর্টস: বিশে^র সর্বোচ্চ আয়কারী ক্রীড়াবিদদের ফোর্বসের বার্ষিক তালিকায় এবারও শীর্ষে ক্...
জাফনা কিংসের হয়ে এলপিএলে ফিরছেন সাকিব আল হাসান
এফএনএস স্পোর্টস: প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে আবারও সক্রিয় হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার...
বদলির ১০ সেকেন্ড, মুখ ঢাকলে লাল কার্ড ২০২৬ বিশ্বকাপে আসছে ৫...
এফএনএস স্পোর্টস: উত্তর আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফিফা বিশ^কাপ...
হেডের বাড়ানো হাত উপেক্ষা করলেন কোহলি, আইপিএলে নতুন হ্যান্ডশে...
এফএনএস স্পোর্টস: মাঠের স্লেজিং শেষ হলেও উত্তাপ থেমে থাকেনি| গত শুক্রবার হায়দরাবাদের রাজিব গান্...
দশ বছর, বিশটি ট্রফি, এক যুগের অবসান
সিটির ডাগআউট থেকে বিদায় নিচ্ছেন পেপ গার্দিওলাএফএনএস স্পোর্টস: ট্রফিতে ঠাসা এক দশক পার করে ম্যা...