অশোক বড়ুয়া
কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬–২০২৭ বর্ষের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ পদে বিজয়ী হয়েছেন। সভাপতি পদে মোঃ শহিদুল্লাহ ৬৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ মাহবুবুল হক খন্দকার পিপুল ৭১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
তিনটি প্যানেলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ১৩টি পদে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও দুটি পদে বিজয়ী হন।
সভাপতি পদে অপর দুই প্রার্থী মোঃ গোলাম ফারুক ২১০ ভোট এবং মোঃ ইউসুফ ৩৪৯ ভোট পান। সাধারণ সম্পাদক পদে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে মোঃ নেয়ামত উল্লাহ চৌধুরী জামান ৩৪৯ ভোট এবং তৌফিক আহমেদ চৌধুরী ১৩৯ ভোট লাভ করেন।
সহ-সভাপতি পদে দুইটি আসনে নির্বাচিত হন মোঃ জাকির হোসেন (৬৫৭ ভোট) এবং মোঃ আব্দুল বাতেন মজুমদার (৫৭৯ ভোট)। এ পদে অপর প্রার্থীদের মধ্যে মোঃ মাহবুবুর রহমান ৪৯৪, মোঃ আবু ইউসুফ ৪০৩ এবং মোঃ নুরুল হুদা কাজল ২০৩ ভোট পান।
সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ৬৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার পান ৪৮৯ ভোট।
কোষাধ্যক্ষ পদে মোঃ আবু ইউসুফ ভূঁইয়া ৭৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ মোশারফ হোসেন পান ৪৬৬ ভোট।
লাইব্রেরি সম্পাদক পদে মোঃ আবুল কাশেম ৬১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। অপর প্রার্থীদের মধ্যে মোঃ জহিরুল ইসলাম পান ৩৪২ ভোট এবং মোঃ আরিফুর রহমান পান ২৫৪ ভোট।
আইসিটি সম্পাদক পদে মোঃ শাহ আলম ৬৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফারহানা সেলিম পান ৫৪৭ ভোট।
এনরোলমেন্ট সম্পাদক পদে মোঃ শাহজাহান ভূঁইয়া ৬৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। প্রতিদ্বন্দ্বী হারুনুর রশিদ সবুজ পান ৫৪১ ভোট।
ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে মোঃ সাইফুর রহমান ৫৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মোহাম্মদ আশফাক উদ্দিন (জোটন) পান ৪৬৩ ভোট এবং মোঃ মোজাদ্দেদ হোসেন আদনান পান ১৩৪ ভোট।
নির্বাহী সদস্য পদে পাঁচটি আসনের জন্য নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচিত পাঁচ সদস্য হলেন— মোঃ আবুল হাসনাত হিমেল (৮৮২ ভোট), বেলাল হোসেন (৭২৯ ভোট), মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (৭১৩ ভোট), মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (৭০৪ ভোট) এবং মোঃ লোকমান হোসেন (৬৪০ ভোট)। অপর প্রার্থীদের মধ্যে ফেরদৌসী আক্তার লাকি পান ৬১০ ভোট, নজরুল হাসান অপু ৫৯০ ভোট, নিগার সুলতানা ৪৮১ ভোট এবং মিজানুর রহমান পান ৪৪৮ ভোট।
এ নির্বাচনে মোট ১৫টি পদের বিপরীতে ৩৪ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। তিনটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে দুটি দল পৃথক প্যানেল দেয় এবং অপর একটি দলের কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মিজানুর রহমান। সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক গাজী মোঃ নসরুল ইসলাম মানিক এবং কোষাধ্যক্ষ মোঃ মজিবুল ইসলাম ভূঁইয়া।
সমিতির মোট ১,২৮৭ জন ভোটারের মধ্যে ১,২৫৩ জন ভোট প্রদান করেন। তিনটি কক্ষে মোট ১৮টি বুথে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র তিনজন নারী প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।