মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা।
কুমিল্লা নগরীর প্রবেশদ্বার পদুয়ার বাজার, আলেখারচর ও সোয়াগাজী এখন ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। দিন দিন বাড়ছে তাদের দৌরাত্ম্য, আর এতে চরম আতঙ্কে রয়েছে নগরবাসী। সন্ধ্যা নামলেই নগরীর সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সক্রিয় হয়ে ওঠে সংঘবদ্ধ এসব চক্র। অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ধারালো অস্ত্রের মুখে ছিনতাই চালানো হচ্ছে।
সম্প্রতি ২৫ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় এসে ঝাগুরঝুলি এলাকায় ছিনতাইকারীদের হামলায় নিহত হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
শুধু এই ঘটনাই নয়, গত এক বছর ধরে নগরীর ধর্মপুর, চকবাজার, কান্দিরপাড়, টমছমব্রিজ, পদুয়ার বাজার, আলেখারচর ও সোয়াগাজী এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ভুক্তভোগীরা জানান, মোটরসাইকেল বা সিএনজিতে যাত্রী সেজে ওঁৎ পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। সুযোগ বুঝে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। প্রতিরোধ করলে অনেক সময় হামলার শিকার হয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
বিশেষ করে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড থেকে কান্দিরপাড় পর্যন্ত সড়কটি এখন ছিনতাইকারীদের জন্য নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ। গেলো দুই মাসেই এই এলাকায় শতাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নগরীর বাসিন্দা সাইফুল আলম, বিবেক বড়ুয়া, আজমিরি বেগমসহ অন্তত দশজন বাসিন্দা জানান, পদুয়ার বাজার থেকে কান্দিরপাড় আসতে তারা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু'একজন থানায় মোবাইল হারানোর ডায়েরী করেছেন। বাকিরা বাড়তি ঝামেলা এড়াতে থানায় যান নি।
নগরবাসীর অভিযোগ, কুমিল্লার প্রবেশপথগুলোতেই নিরাপত্তাহীনতা সবচেয়ে বেশি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আগত যাত্রীরাই বেশি টার্গেটে পরিণত হচ্ছেন। রাত গভীর হলেই ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বেড়ে যায়।
এদিকে জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ টিম কাজ করছে এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে দ্রুত জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, কুমিল্লা জেলা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর কাইমুল হক রিংকু জানান, রাষ্ট্রপক্ষও চায় না অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে দ্রুত ছাড়া পেয়ে যাক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্তি, সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক নজরদারির অভাব ও প্রযুক্তির অপব্যবহার কিশোর গ্যাং বিস্তারের অন্যতম কারণ। তারা মনে করেন, প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।
নগরবাসীর দাবি, দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে কুমিল্লাকে ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের কবল থেকে মুক্ত করা হোক, যাতে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।