মোঃ মাসুদ রানা বিশেষ প্রতিনিধি ।।
মাদক নির্মূলে গত এক বছরে কুমিল্লা জেলার ১৭টি উপজেলা, ১টি সিটি কর্পোরেশন ও সব থানা এলাকায় পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান চলেছে। অভিযানে শতাধিক মামলা, বহু গ্রেফতার এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। একই সময়ে মুরাদনগরে মা ও দুই সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা জেলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
মাদকের সরবরাহ , পাইকারি ও খুচরা কারবারি গ্রেফতার, সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ হাসান মারুফ মার্চ ২০২৫ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিত অভিযান বেড়েছে।
তিতাস উপজেলা ৪ মে ২০২৬ রাতে ১০ পিস ইয়াবা ও নগদ ১ হাজার টাকাসহ ৩ জন গ্রেফতার।
সদর দক্ষিণ উপজেলা*: ২০ এপ্রিল ২০২৬ দুর্গাপুরে অভিযানে বিদেশি পিস্তল, ৫ রাউন্ড গুলি, ৩০ পিস ইয়াবা, ওয়াকিটকি, হ্যান্ডকাপ ও দেশীয় অস্ত্রসহ একাধিক মামলার আসামি মোঃ সোলেমান গ্রেফতার। তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা বিচারাধীন।
২ এপ্রিল ২০২৬ বিজিবি কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৮৪ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় চোরাচালানি মালামাল জব্দ করে।
মুরাদনগর উপজেলা ১৫ মে ২০২৬ সকালে কড়ইবাড়ি গ্রামে খলিলুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা বেগম, ছেলে রাসেল মিয়া ও মেয়ে তাসপিয়া আক্তারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
ঘটনার ৩৯ ঘণ্টা পর বাঙ্গরা বাজার থানায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়। যৌথ অভিযানে ২ জন আটক হয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলায় টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলের হাতে বাবা খুন হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও মাদক সংশ্লিষ্টতা তদন্তাধীন।
অভিযানে আটকৃতদের কাছ থেকে প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় সংঘর্ষের ঝুঁকি থাকে। সরাসরি “অভিযানে খুন” শিরোনামের ঘটনা এক বছরে পুলিশ নিশ্চিত করেনি।
কুমিল্লা জেলায় ১৭টি উপজেলা ও ১টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। প্রতিটি থানায় মাদকবিরোধী টিম সক্রিয়। রিপোর্টে যেসব উপজেলার তথ্য পাওয়া গেছে:
উপজেলা/থানা ঘটনা/অভিযান মামলা/গ্রেফতার
তিতাস থানা ১০ পিস ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেফতার মাদক মামলা
সদর দক্ষিণ থানা অস্ত্র-ইয়াবাসহ ১ জন গ্রেফতার অস্ত্র ও মাদক মামলা
মুরাদনগর থানা মা ও দুই সন্তান খুন, ৩৮ জনের নামে মামলা হত্যা মামলা
লাকসাম, লালমাই, দেবিদ্বার, নাঙ্গলকোট পুলিশের যৌথ সচেতনতা ও অভিযান নিয়মিত মামলা
বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি, হোমনা, লাঙ্গলকোট, মেঘনা, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া, কুমিল্লা কোতোয়ালি থানাতেও নিয়মিত অভিযান ও মামলা হয়েছে।
নগর এলাকায় ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাঁজা পাচার রোধে চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সুজন কুমিল্লা মহানগর কমিটি স্কুল-কলেজে সচেতনতা সভা করেছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের বক্তব্য –
মাদক আমাদের সমাজ, যুবসমাজ ও পরিবারকে ধ্বংস করছে গত এক বছর ধরে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।
পুলিশ জানায়, মাদক নির্মূলে অভিযান চলমান থাকবে। নাগরিকদের সন্দেহজনক তথ্য ৯ বা নিকটস্থ থানায় জানানোর আহ্বান । কুমিল্লা র্যাব-১ এর কোম্পানি অধিনায়ক লে: কমান্ডার মাহমুদুল হাসান জানান, র্যাব প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধের উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেফতার ও আইন-শৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক নির্মূলে আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জনগণের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে। তথ্য দিলে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হয়।
কুমিল্লায় মাদক নির্মূলে র্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।