নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা নগরীকে যানজটমুক্ত ও দখলমুক্ত করতে বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক)। রবিবার (২৮ জুন) বিকেল থেকে শুরু করে রাত অবধি নগরীর ব্যস্ততম রানির বাজার, মর্ডান স্কুল এলাকা, নজরুল এভিনিউ এলাকা, কান্দিরপাড়,লিবার্টি মোর থেকে রাজগঞ্জ পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা এবং ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় শতাধিকের বেশি ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর ভ্যান ও দোকান ভাঙচুর করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুসিকের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। এ সময় সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন, নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন হাসানসহ সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও সড়কের একাংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে যেমন যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল, তেমনি চরম দুর্ভোগে পড়ছিলেন পথচারীরাও। জনস্বার্থে এবং নগরীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে কুসিক।
অভিযান চলাকালে অবৈধ দোকান, দোকানের বর্ধিত অংশ, অস্থায়ী শেড ও ভ্রাম্যমাণ স্টল অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি ফুটপাত দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করা হয়।
অভিযান শেষে কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, কুমিল্লার মানুষের প্রধান দাবি একটি যানজটমুক্ত নগরী। আর সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমেই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। হকাররা শুধু ফুটপাত নয়, অনেক ক্ষেত্রে সড়কেরও বড় অংশ দখল করে। এতে ২০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা কার্যত ১৪ ফুটে নেমে আসে এবং যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। তাই এই অভিযান নিয়মিত চলবে।
তিনি আরও বলেন, ফুটপাত জনগণের হাঁটার জন্য, ব্যবসার জন্য নয়। যারা নিয়ম ভেঙে জনভোগান্তি সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তবে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নিয়েছে কুসিক। প্রশাসক জানান, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সিটি মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলাসহ চারটি ফ্লোর হকারদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেখানে স্বল্পমূল্যে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং মার্কেটকে জনপ্রিয় করতে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণাও চালানো হবে। ভবিষ্যতে এর নাম ‘সিটি হকার মার্কেট’ রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি হকারদের উদ্দেশে বলেন, যারা বৈধভাবে ব্যবসা করতে চান, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। কিন্তু ফুটপাত আর দখল করবেন না। স্বেচ্ছায় ফুটপাত ছেড়ে দিলে ভাঙচুরের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে না।
এদিকে, ফুটপাত দখলে সহযোগিতা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন প্রশাসক। তিনি জানান, যেসব বাড়িতে অবৈধভাবে ভ্যান বা হকারদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, সেসব ভবনের হোল্ডিং বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবনগুলো অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন বলেন, যানজটের কারণে নগরবাসীর মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসকের নির্দেশনায় এ অভিযান শুরু হয়েছে এবং যানজটমুক্ত কুমিল্লা গড়তে এটি ধারাবাহিকভাবে চলবে।
অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, অতীতে এ ধরনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তবে ফুটপাত যেন পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি বজায় রাখার দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে, উচ্ছেদ হওয়া এক ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, আগে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মী ছিলেন। বেতন না পাওয়ায় জীবিকার তাগিদে ভাড়া করা ভ্যানে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। অভিযানে তার ভ্যানটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
কুসিক জানিয়েছে, নগরীর সৌন্দর্য, শৃঙ্খলা ও নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের উচ্ছেদ অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালিত হবে।