আয়েশা আক্তার
কুমিল্লা নগরীর বাদুরতলা এলাকায় অবস্থিত বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে বৈদ্যুতিক সংযোগের তার চুরির ঘটনায় টানা কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ক্লিনিকের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মিজানুর রহমান জানান, গত শুক্রবার রাতে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে ভবনের মিটার পর্যন্ত সংযোগের তার চুরি হয়ে যায়। এরপর থেকে ক্লিনিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানানো হয়। তাঁর নির্দেশে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং গণপূর্ত বিভাগকেও অবহিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ চালু করা সম্ভব হয়নি।
ডা. মিজানুর রহমান আরও জানান, ক্লিনিকে বর্তমানে তিনজন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও অফিস সহায়ক চারজন থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে রাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া স্থাপিত সিসি ক্যামেরার মধ্যে দুটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পরে রয়েছে। এসব বিষয়ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা দাউদকান্দির বাসিন্দা আলী আক্কাস বলেন, অনেক দূর থেকে এসেও বিদ্যুৎ না থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা ঠিকভাবে নিতে পারেননি।
দেবিদ্বার থেকে আসা রোগীর স্বজন আমেনা খাতুন বলেন, সকাল থেকে অপেক্ষা করেও চিকিৎসা সম্পন্ন করা যায়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় দোকানদার করিম মিয়া বলেন, প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা দুর্ভোগে পড়ছেন। নগরীতে চুরি-ছিনতাই রোধে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মো. আলী নীর বশির আহমেদ বলেন, গত শনিবার বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই থানায় জিডি করা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে। তিনি আরও বলেন,গতকাল সোমবারও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
সিসি ক্যামেরা প্রসঙ্গে সিভিল সার্জন বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্লিনিকের নষ্ট ক্যামেরাগুলোও দ্রুত গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে মেরামত বা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে।
লোকবল সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, নতুন জনবল নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
কান্দিরপাড় ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদ চৌধুরী বলেন, শুধু বক্ষব্যাধি ক্লিনিক নয়, কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ, কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান হীরা কে একাধিকবার কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।