প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: জাতীয় | প্রকাশ: 23 Jul 2026, 8:56 AM
বিবিরবাজার স্থলবন্দরে স্থবিরতা, রপ্তানি কমেছে অর্ধেকে
বিবিরবাজার স্থলবন্দরে স্থবিরতা, রপ্তানি কমেছে অর্ধেকে
# তিন মাসে আমদানি ২৩ ট্রাক পণ্য, রপ্তানি ৭৩২ ট্রাক
# রপ্তানির ৯০ শতাংশই সিমেন্ট
# আমদানি-রপ্তানিতে জটিলতা
# পণ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান বন্দরকর্তৃপক্ষ-ব্যবসায়ীরা
জাহিদ পাটোয়ারী
আমদানি-রপ্তানিতে জটিলতা এবং ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরের কার্যক্রম। এক সময়ের ব্যস্ত এই বন্দরে আমদানির তুলনায় রপ্তানি কমে নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।
১৯৯৫ সালের ২৪ আক্টোর শুল্ক স্টেশন হিসেবে আমদানি-রপ্তানি শুরু হয় বিবির বাজার এলাকা দিয়ে। পরবর্তীতে দেশের ১৩তম স্থলবন্দর হিসেবে বিবির বাজারকে ঘোষণা করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে। ২ দশমিক ৮৩ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত বন্দরটিতে বর্তমানে ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত। পণ্য খালাসেও রয়েছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এই বন্দর দিয়ে হাতেগোনা কয়েকটি পণ্য রপ্তানি করা হলেও আমদানি নেই বললেই চলে। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও নানান জটিলতায় ভারতে পাঠানো যাচ্ছে না মাছ, পোলট্রি খাদ্য, গ্লাস ও সুতলিসহ বেশ কয়েকটি পণ্য। চাহিদার শীর্ষে থাকা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফলমূলসহ বেশ কিছু ভোগ্যপণ্যে ভারতের পক্ষ থেকে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা থানায় সেগুলিও পাঠানো যাচ্ছে না। এতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
বন্দর সূত্রমতে, গত এপ্রিল মাস থেকে জুন পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৯০ টাকার পণ্য। সেখানে রপ্তানি হয়েছে মাত্র দুই লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৩ টাকার পণ্য। তবে দু’দেশের নাগরিকদের আসা যাওয়া চলছে অনেকটাই সমান তালে। গত তিন মাসে এ বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৫ হাজার ৫২১ জন ভারতীয় নাগরিক। আর ভারতে ঢুকেছে ৫ হাজার ১৭৯ জন বাংলাদেশী নাগরিক।
বর্তমানে এ স্থবন্দর দিয়ে সিমেন্ট, এলপিজি গ্যাস ও গুঁড়া পাথরসহ হতো গোনা কয়েকটি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। অথচর আগে এই পথ দিয়ে কয়লা, ঢেউটিন, সিমেন্ট শিট, পিভিসি কম্পাউন্ড, প্লাস্টিকের দরজা, ইট ভাঙার মেশিন, ধান মাড়াই কল, কোমল পানীয় এবং ভোগ্যপণ্যণসহ অন্তত অর্ধশতাধিক পণ্য রপ্তানি করা হতো। ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি হতো অন্তত ৪০-৪৫টি পণ্য। প্রতিদিন অন্তত ৬০-৭০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো। যারকারণে বিবিরবাজর এলাকায় ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় আগের মতো হাকডাক নেই বন্দরে। নেই আগের জৌলুসও।
দেশের বড় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে বন্দরটি চাঙা হবে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। রাধানীর সঙ্গে এই বন্দরের দূরুত্ব মাত্র ১০৭ কি.মি হওয়ায় পণ্য পরিবহনে খরচ কমবে কয়েকগুন। বন্দরের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আসতে বাংলাদেশ-ভারত দু’দেশের সরকার সহযোগিতার প্রয়োজন বলে মনে করেন ব্যবসায়ী ও বন্দর কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল মিয়া, জাফর আহমেদ ও তনু মিয়াসহ অন্তত ৫ জনের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, আগে দেখতাম বন্দর এলাকায় এবং সড়কের পাশে মালবাহি গাড়ির দীর্ঘ লাইন। দোকপার্টে ছিল মানুষের হাকডাক। এখন গাড়ির দীর্ঘ সারি আর মানুষের ভিড় কোনটাই দেখা যায় না। বন্দর এলাকায় স্থানীয় যারা মালামাল লোড-আনলোড করতে তারাও বেকার। বন্দরগেইটে গেলে মনেহয় পরিত্যক্ত স্থাপনা পড়ে আছে। বন্দর এলাকা আগের মতো জমজমাট করতে তারা সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি কামনা করেছেন।
বিবিরবাজার স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জামাল আহম্মদ বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত জনবল, ডিজিটাল স্কেলিং, পার্কিং ব্যবস্থা এবং পর্যান্ত নিরাপত্তা সহ সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে। বর্তমানে এ বন্দরদিয়ে মাত্র ৪৩টি পণ্য আমদানির অনুমতি থাকলেও তা বাড়ানো দরকার এবং বাংলাদেশী যেসব পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অনুমতি না থাকায় এ বন্দর দিয়ে মাছ ও পোলট্রি খাদ্যসহ বেশ কয়েটি পণ্য চাইলেও রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দু’দেশে আমদানি-রপ্তানি যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য উভয় দেশের সরকারের পৃষ্ঠপোষতকা প্রয়োজন বলে মনে করেন এ ব্যবসায়ী।
বিবিরবাজার স্থলবন্দরের সহকারি পরিচালক মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া বলেন, ৫ আস্টের পর প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য (চিপস, স্ন্যাকস, কনফেকশনারি, বেকারি পণ্য), তুলা ও সুতার বর্জ্য, প্লাস্টিক, পিভিসি পাইপ, ফার্নিচার, ফল, ফলের ফ্লেভারের পানীয় ও কোমল পানীয় রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এরপরেই মুলত বন্দরে স্থবিরতা নেমে আসে। গত তিন মাসে এ বন্দর দিয়ে মাত্র ২৩ ট্রাক ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে এসেছে আর বাংলাদেশ থেকে ভারতে গিয়েছে ৭৩২ ট্রাক পণ্য। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই সিমেন্ট। আগের মতো এখন গাড়ি আসেনা। অনেকটাই অলস সময় কাটতে হয় কর্মকর্তাদের।
দু’দেশের কর্তব্যক্তিদের আলোচনা এবং এ বন্দর দিয়ে আগে যে সমস্ত পণ্য আমদানি-রপ্তানি হতো তা পুনরায় চালু হলে বন্দর আবারও সচল হবে বলে মনে করে দায়িত্ব প্রাপ্ত এই কর্মকর্তা।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কুমিল্লা নগরীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সাবেক সভাপতি, ইউপি স...
মাহফুজ নান্টুকুমিল্লা নগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ম...
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাঠপর্যায়ে কুসিক প্রশাস...
আয়েশা আক্তার ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করেছে কুমিল্লা সি...
গোমতীর স্রোতের সঙ্গে হারিয়েছে চারশ বছরের মালাপাড়া বাজারের ঐত...
মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোমতী নদীর তীর...
বুড়িচংয়ে জামগাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বিএনপি নেতা...
কাজী খোরশেদ আলমকুমিল্লার বুড়িচংয়ে জামগাছের ডাল কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. রফিকুল ইসলাম (৬০) ন...
কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে মাদকসহ ১ কোটি ৫ লাখ টাকার...
মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী...
ময়নামতিতে দিন দিন বেড়েই চলছে অপরাধ; এবার ডাকাতের কবলে প্রবাস...
কুমিল্লা উত্তর প্রতিনিধিকুমিল্লার বুড়িচংয়ে ডাকাতের কবলে পড়েছেন আবুল কালাম নামে এক প্রবাস ফেরত যুবক...