প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: আন্তর্জাতিক | প্রকাশ: 9 Oct 2026, 8:27 PM
ইরানে ৩ দিনের তীব্র হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন
এফএনএস বিদেশ :
ইরানের বিরুদ্ধে টানা ৩ দিনের তীব্র সামরিক হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানো হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার, জ্বালানি স্থাপনা এবং অন্যান্য সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রস্তাবগুলোতে প্রায় তিন দিন ধরে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার প্রধান লক্ষ্য হতে পারে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ভাণ্ডার। যুদ্ধের শুরুর দিকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এগুলোর বড় অংশ পুনর্গঠন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, আইআরজিসির কমান্ড পোস্ট ও সদর দপ্তরও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। এদিকে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সম্ভাব্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে কয়েক দিন আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে (সেন্টকম) নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। তবে ওই নির্দেশে হামলার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি এবং ট্রাম্পও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হলে ইরানের জ্বালানি, অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনায় ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান কিংবা ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ট্রাম্পের কাছে এ নিয়ে ষষ্ঠ দফায় পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হলো। আগের পরিকল্পনাগুলো তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে ওই সময়ে জাহাজ চলাচল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর হামলার পর ইরানের কিছু লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত পাল্টা হামলা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করতে পারে। ২০০৩ সালের পর এই প্রথম অঞ্চলটিতে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি থাকার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে বলেও দাবি করেন। ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সঙ্গে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর একটি প্রতিবেদনের অসংগতি দেখা গেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিতে ইসরায়েলকে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। সেই সময়সীমা শেষ হবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে। নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। যদিও একই সময়ে তিনি পেন্টাগনকে নতুন হামলার বিকল্প পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার শহরগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করতে পারে; এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকানোর বিনিময়ে জ্বালানির দাম সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছিলেন। গত সোমবার নেব্রাস্কায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে যুদ্ধের কারণে মার্কিন নাগরিকদের অর্থনৈতিক ত্যাগের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছিলেন, বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখার জন্য জ্বালানির বাড়তি দাম একটি সামান্য মূল্য। একই বক্তব্যে তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস ও সান ডিয়েগোতে ইরানের হামলার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তার মন্তব্যের পর ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট নেতাদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকানও সমালোচনা করেন। গত বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার জন্য পেট্রলের দামে সাময়িক বৃদ্ধি মেনে নেওয়া যেতে পারে। তিনি আরও লেখেন, ইরান যদি সান ডিয়েগো বা লস অ্যাঞ্জেলেসে হামলা চালাত, তাহলে তার মূল্য কত বড় হতো, তা কল্পনা করা যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা এবং দেশটির শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যুদ্ধ শুরু করে। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিসম্পন্ন আরব দেশগুলোতে হামলা চালায়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেত। এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এপ্রিলে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সরাসরি লড়াই অনেকটাই থেমে যায়। তবে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও অ্যাক্সিওস
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ড সিএনজি চালক সুমন আটক...
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা।কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের...
বান্ধবীর বিষয়ে সন্দেহে ছয় মাস স্কুলে যেতে দেননি মা, মেয়েকে আ...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান স...
বাঞ্ছারামপুরে নেশার টাকা না পেয়ে বসতবাড়িতে আগুন
ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দর...
খাদি শিল্পকে রক্ষায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি- ড. সায়মা...
কামরুল হাসানকুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী হাতে বোনা খাদিশিল্পের বর্তমান সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে...
পিকআপের ‘গোপন কুঠুরিতে’ ৩৬ হাজার ইয়াবা, চালকের আসনের নিচে ছ...
নিজস্ব প্রতিবেদক,দাউদকান্দিকুমিল্লার দাউদকান্দিতে একটি পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজি...
ব্রাহ্মণপাড়ায় চুরি-ছিনতাই, মাদকবিরোধী সভা ও সচেতনতামূলক র্য...
মো. আনোয়ারুল ইসলাম।।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চুরি, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে আলো...