আয়েশা আক্তার
কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিবন্ধনহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল, লাইসেন্সবিহীন চালকদের দৌরাত্ম্য এবং এসব যানবাহন ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ এলাকায় চলাচলরত অবৈধ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, তাদের চালক ও মালিকদের শনাক্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার কম নন—এমন একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিন তদন্ত করে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪ ও আমলি আদালত-৬ (কুমিল্লা সদর দক্ষিণ)-এর বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, সদর দক্ষিণ থানা এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাকেন্দ্রিক অপরাধের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। এসব যানবাহনের অনেকগুলোর নিবন্ধন নেই এবং অনেক চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। ফলে কোনো দুর্ঘটনা কিংবা অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মাদকসংক্রান্ত অনেক মামলায় নিবন্ধনহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা কিংবা অন্য যানবাহন ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। নিবন্ধন ও চালকের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য না থাকায় অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেগ পোহাতে হয়। পাশাপাশি নিবন্ধনহীন যানবাহন চলাচলের কারণে সরকার রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সংশ্লিষ্ট যানবাহন শনাক্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সমন্বিত তদন্ত ও কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন আদালত।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, পিবিআইয়ের তদন্তে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। এর মধ্যে রয়েছে- সদর দক্ষিণ এলাকায় চলাচলরত নিবন্ধনহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা শনাক্ত করে তালিকাভুক্ত করা।
- চলাচলরত সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক ও চালকদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা। নিবন্ধনহীন যানবাহন এবং বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদের শনাক্ত করা। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা। এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল কার্যক্রম পর্যালোচনা করা। যানবাহন ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধের বিবরণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা এবং অপরাধ দমনে কার্যকর সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা।
আদালত মনে করেন, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধের ধরন, সংশ্লিষ্ট যানবাহনের ব্যবহার এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তাজমিন ও বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন, দুই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করেছে রাতের কুমিল্লা কতটা অনিরাপদ, মহাসড়কের ৫টি অংশে টহল দেয় পুলিশের মাত্র দুটি দল, বাড়ানোর আশ্বাস! শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও চালকের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়।
দৈনিক রুপসি বাংলার প্রকাশিত শিরোনামে' দুই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করেছে রাতের কুমিল্লা কতটা অনিরাপদ, মহাসড়কের ৫টি অংশে টহল দেয় পুলিশের মাত্র দুটি দল, বাড়ানোর আশ্বাস'
প্রতিবেদনে সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আশপাশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে অপরাধীরা ওত পেতে থাকে বলে চালক ও যাত্রীদের অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছিল। তবে এসব ঘটনায় কোন যানবাহন, চালক বা মালিকের কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে যাচাই করা জরুরি। আদালতের নির্দেশিত তদন্তে এ-সংক্রান্ত তথ্য উঠে এলে অপরাধ প্রতিরোধ ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আদালতের আদেশের অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পিবিআই সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি, কুমিল্লার পুলিশ সুপার, পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কুমিল্লা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) কুমিল্লা, সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এখন পিবিআইয়ের তদন্তে সদর দক্ষিণ এলাকায় চলাচলরত নিবন্ধনহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লাইসেন্সবিহীন চালক এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিষয়ে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।