নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কুচাইতলী মধ্যপাড়া এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, জোর-জুলুম, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গোলাম মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি। সোমবার (১৮ মে) সকালে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা বলেন, তিনি পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বসতভিটা ও সম্পত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। তার কোনো ছেলে সন্তান না থাকায় প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তার সম্পত্তির ওপর কুনজর দিয়ে নানা কৌশলে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী আবদুস ছালাম ও তার বেয়াই আব্দুল কাদের তার বসতভিটার জমি কিনতে চাইলে তিনি রাজি না হওয়ায় বিরোধের সূত্রপাত ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, আমার ভাগিনাকে ৪ শতক জায়গা বায়না দলীল দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে নানান অপপ্রচার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে, থানায় অভিযোগ দেওয়ায় ঘটনাস্থলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে রাজিব আমার ভাগিনার গায়ে হাত উঠায়। এ বিষয়ে রাজিবের নামে কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করা আছে।
এ সময় তিনি গায়ে হাত তুলার একটি অডিও ক্লিপ সাংবাদিকদের উপস্থাপন করেন।
স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী আবদুস ছালাম, কাদের রাজিব ও তাদের সহযোগীরা আওয়ামী লীগের আমল থেকেই এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি, জুলুম-নির্যাতন ও হুমকি-ধমকির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। বিগত স্বৈরাচার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখারও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া, অনুমোদনবিহীনভাবে নিয়ম ভেঙে পাঁচতলার অনুমতি নিয়ে সাততলা ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগও তোলেন গোলাম মোস্তফা। তিনি দাবি করেন, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে তদন্ত করে অবৈধভাবে নির্মাণকাজের প্রমান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ করেও বহাল তবিয়তে রয়েছে।
বর্তমানেও আওয়ামী কায়দায় এলাকার কিছু সন্ত্রাসীদের ছত্রছায়ায় সেই প্রভাবকে পুঁজি করেই তার পরিবারকে নানা ধরনের ভয়ভীতি, হুমকি ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যে রাখা হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, গত ১৫ এপ্রিল ও ৩ মে ২০২৬ তারিখে আবদুস ছালাম, আব্দুল কাদির, হাবিবুর রহমান মানিক, সেলিমসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তার বাড়িতে হামলা চালায়। এসময় তারা টিনশেড ঘর ভাঙচুর, গাছপালা কেটে ফেলা এবং বসতভিটার ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। এতে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তার স্ত্রী আয়শা বেগম বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা বলেন, থানায় এজাহারভুক্ত অভিযোগ করার পরই প্রতিপক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে উল্টো তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। শুধু তাকেই নয়, তার ভাই, ভাতিজা ও ভাগিনাকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং এলাকা ছাড়া করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কাদের রাজিব ও তার গংদের অব্যাহত জোর-জুলুমে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
এসময় তিনি প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, অবৈধ ভবন নির্মাণের তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।