প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 17 Jan 2026, 9:57 AM
ব্রাহ্মণপাড়ায় শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর চোখের জলে শিক্ষকের রাজকীয় বিদায়
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণপাড়া
একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন—তিনি একটি প্রজন্মের নীরব স্থপতি। সেই নির্মাতা যখন বিদায় নেন, তখন বিদায়ের ক্ষণ হয়ে ওঠে শূন্যতা আর কান্নার গল্প। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সবুজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিক এমনই এক হৃদয়বিদারক বিদায়ের সাক্ষী হলো শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসরে গেলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদ আলম মোল্লা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে সবুজপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে তাঁর বিদায় সংবর্ধনায় কান্না, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার অশ্রুতে ভিজে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে দেওয়া হয় এক রাজকীয় বিদায়—যেখানে শব্দ ছিল কম, অনুভূতি ছিল অসীম।
শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা ফুলের তোড়া, সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহারে তাঁকে বিদায় জানালেও চোখের জলেই ফুটে উঠেছে প্রকৃত সম্মান। বিদায়ের মুহূর্তে অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কেউ নীরবে চোখ মুছেছেন, কেউ আবার শিক্ষককে জড়িয়ে ধরে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেছেন- স্যার, আপনি শুধু শিক্ষক নন, আপনি আমাদের জীবনের অংশ।
জানা যায়, ১৯৯০ সালে সোনার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবনের সূচনা করেন মো. মাসুদ আলম মোল্লা। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে সবুজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং পরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান। দীর্ঘ এই ৩৬ বছরে তিনি কেবল পাঠ্যপুস্তকের শিক্ষা দেননি—মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও সততার পাঠও দিয়েছেন। এই বিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত। কিন্তু বিদায়ের দিনে তারা ফিরে এসেছেন সেই প্রথম পাঠ শেখা মানুষটির কাছে—শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাতে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দৌলত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গৌরীপুর ফজলুর রহমান সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. ইউনুস মিয়া, আবদুল মতিন খসরু মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বক্তারা বলেন, মাসুদ আলম মোল্লা ছিলেন একজন নিরলস কর্মী, যাঁর জীবনজুড়ে ছিল শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ব্রত। বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত মো. মাসুদ আলম মোল্লা বলেন, এই ভালোবাসা, এই সম্মান আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি যদি জীবনে কিছু করে থাকি, তা এই শিক্ষার্থীদের জন্যই। বক্তব্য শেষ করতেই কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তাঁর—ভেজা চোখে তিনি তাকান সেই প্রাঙ্গণের দিকে, যেখানে কেটে গেছে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। একজন শিক্ষক চলে যান অবসরে, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ভালোবাসা, আদর্শ আর শিক্ষা থেকে যায় প্রজন্মের পর প্রজন্মে। সবুজপাড়ার এই বিদায় তাই শুধু একজন মানুষের নয়—একটি যুগের নীরব সমাপ্তি।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
হলিউডের আগে বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে ‘স্পাইডারম্যান’
মার্ভেল ভক্তদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পর্দায় ফিরছে স্পাইডারম্যান। বহুল প্রতীক্ষিত ‘স্পাইডারম্যান : ব্...
নুসরাত হত্যা; মৃত্যুদণ্ডপাপ্ত ১৬ আসামির ডেথ রেফারেন্স ও আপিল...
ফেনীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপাপ্ত ১৬ আসামির হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শু...
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লেও নেতৃত্ব বাড়েনি নারীদের
দেশে এনজিও, ফাউন্ডেশন, ট্রাস্ট এবং কমিউনিটিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসং...
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার উৎসবে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরে একটি জনপ্রিয় খাবার উৎসবে বন্দুক হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা...
কুমিল্লার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী সবজি ও মাছের বাজার, দিশেহারা নিম...
বিশেষ প্রতিনিধিকুমিল্লায় আকস্মিক ও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে সবজি, মাছ এবং মাংসের দাম। বিশেষ করে ইলিশ ও...
আর্জেন্টিনার জালে জড়ানো কাবরালের অনিন্দ্য গোলটিই বিশ্বকাপের...
মায়ামি স্টেডিয়ামে গোলটি করার পর বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না সিডনি লোপেস কাবরাল। আর্জেন্টিনার জালে বল জ...