ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
চলছে মধুমাস। এ মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নানা রকমের ফল বাজারে ওঠে। ইতোমধ্যে বাজারে আম, লিচু,কাঁঠাল, বাঙ্গিসহ হরেক রকমের ফল বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে নতুন করে দেখা মিলছে তালের শাঁস।
এটি খুবই সুস্বাদু। গ্রাম্য ভাষায় এটি ‘তালের চোখ’ নামেই বেশি পরিচিত। গরমে অস্থির পথচারীদের এক মুহূর্তের জন্য হলেও স্বস্তি এনে দিচ্ছে এই কচি তালের শাঁস। তাইতো প্রচণ্ড তাপদাহে চাহিদার পাশাপাশি বেড়েছে তালের শাঁসের কদর।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় ধুমছে বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস।
সরেজমিনে, আজ (১০ জুন) পৌর এলাকার প্রতাপগঞ্জ বাজার ও উজানচর বাজারে ক্রেতার চাপে তাল ব্যবসায়ীদের দম ফেলানোর সময় যেনো নেই৷
জৈষ্ঠ্যমাস মধুর মাস এ মধুময় মাসে বিভিন্ন ধরণের সুস্বাদু ফল পাওয়া যায়। বিশেষ করে এ এলাকায় আম,লিচু,কাঁঠালের পাশাপাশি তালের শ্বাস তালের হালি নামের ফলটিরও চাহিদা ও কদর বেড়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে খোলা স্থানে বিক্রি হচ্ছে এ সুস্বাদু ফলটি, ক্রেতাদেরকে লাইন ধরে কিনতেও দেখা গিয়েছে।
সারাদেশে তালের শাঁস নামে পরিচিত হলেও এই এলাকায় তালের চোখ বা তালের হালি নামে পরিচিত।
শিশু থেকে সববয়সী মানুষের প্রিয় খাবার এ ফলটি।
উপজেলার উজানচর বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তা ধারে বসে তালের শাঁস বিক্রি করছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
দাঁড়িয়ে থেকে তা ক্রয় করছেন সব শ্রেণির মানুষ।তালের ছড়ি কাইন থেকে হাঁসুয়া বা ছুড়ি বা দা দিয়ে তাল কেটে শাঁস বা চোখ বের করছেন। ক্রেতারা মনের আনন্দে ফলটি কিনে খাচ্ছেন বা বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন৷ তালের শ্বাসের চোখের পানি অনেকটা পুষ্টি সমৃদ্ধ বলে অনেক ক্রেতা জানিয়েছেন।
ক্রেতারা বলছেন,আম,লিচু,কাঁঠাল সবকিছুতেই ক্ষতিকর কেমিক্যাল থাকলেও তালের শাঁসে তা নেই।এ জন্য এটি খাওয়া নিরাপদ।তবে,আগের চেয়ে এর দাম কিছুটা বেড়ে গেছে।
উজানচর বাজারের বিক্রেতা মোঃ ইসমাইল হোসেনের ভাষ্য, "৩৭ বছর যাবৎ তিনি এ পেশায় জড়িত রয়েছেন। ২ মাস এই ব্যবসাটা করেন। আগে আমার আব্বা কাশু বেপারী করতো এখন আমি করি,ভবিষ্যতে আমার ছেলে করবে।"
আরেক বিক্রেতা ইকবাল বলেন, আমার আব্বা বাবুল মিয়া ২৩ বছর যাবৎ এই ব্যবসার সাথে জড়িত আব্বার সাথে এখন ফাকে ফাকে আমিও করি আর নছিমন গাড়ী চালাই।
মাল কোথা থেকে আনা হয় প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঘোড়াশাল,সাতক্ষীরা, ঢাকা,কুমিল্লার চান্দিনা,বরুড়া,দেবিদ্দার, কোম্পানীগঞ্জ সহ বিভিন্ন জায়গায় থেকে সংগ্রহ করি।
বিক্রেতারা জানান, তারা প্রতি হালি ১০০ হতে ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন।হালিতে আনুষাঙ্গিক খরচ ছাড়া লাভ হয় ৩০-৪০ টাকা।
দিনশেষে লাভ হয় ১ হাজার হতে ১৫ শত টাকা।
তালের শাঁস কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, বছরের এই সময়ে তালের শাঁস খুবই ভালো লাগে। বিশেষ করে গরমের দিনে তালের শাঁস খুবই উপকারী। তাই কিনলাম। একটু দাম বেশি তারপরেও ছেলে-মেয়েদের খাওয়ার জন্য নিলাম।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.রঞ্জন বর্মন বলেন, তালের শাঁস শরীরের জন্য খুবই উপকারী। গরমের দিনে তালের শাঁসে থাকা জলীয় অংশ পানি শূন্যতা দূর করে। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ বি সি সহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তালে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় এবং কঁচি তালের শাঁস রক্তশূন্যতা দূর করে। চোখের দৃষ্টি শক্তি ও মুখের রুচি বাড়ায়।