প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 11 Sep 2026, 9:33 AM
উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের পরও চলছে ১১ তলা ভবনের নির্মাণ কাজ
আয়েশা আক্তার
কুমিল্লা নগরীর নজরুল এভিনিউ রোডে ট্রমা হাসপাতালের বিপরীতে মুজিবুর রহমান গংয়ের মালিকানাধীন একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নকশা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ছাড়াই ভবনটি প্রায় ১১ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নির্দেশনা দেওয়ার পরও সেখানে কাজ চলমান থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভবনটির নির্মাণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কউক চেয়ারম্যানের কাছে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা অনুমোদনের কোনো কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি বলে জানা গেছে। ফলে এত বড় একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন কীভাবে অনুমোদন ছাড়াই বা অনুমোদন-সংক্রান্ত নথি ছাড়া প্রায় ১১ তলা পর্যন্ত নির্মিত হলো, তা নিয়ে নগরজুড়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বন্ধের নির্দেশ, তবুও নির্মাণকাজ! ভবনটির নির্মাণ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে নেয়। পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলার পর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ উপেক্ষা করেই ভবনটির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একটি সরকারি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কোনো ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে সেটি শুধু ভবন মালিকের দায় নয়, বরং নির্দেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
অনুমোদন কোথায়, নকশা কত তলার? নগরবাসীর মূল প্রশ্ন—মুজিবুর রহমান গংয়ের ভবনটির অনুমোদন আদৌ রয়েছে কি না। যদি অনুমোদন থাকে, তাহলে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবনটির উচ্চতা কত তলা? আর বাস্তবে প্রায় ১১ তলা নির্মাণের অনুমোদনই বা কীভাবে দেওয়া হলো?
আর যদি অনুমোদন না থাকে, তাহলে নির্মাণকাজ শুরু থেকে এতদূর এগিয়ে গেল কীভাবে? একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রে ভূমির ব্যবহার, ভবনের উচ্চতা, রাস্তার প্রস্থ, অগ্নিনিরাপত্তা, পার্কিং, আলো-বাতাস এবং আশপাশের অবকাঠামোর সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে অনুমোদন দেওয়ার কথা। এসব শর্ত উপেক্ষা করে নির্মাণ হলে তা ভবিষ্যতে নগরবাসীর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
২০১৮ সালের পর দায়িত্ব কার—উঠছে সেই প্রশ্নও কুমিল্লা নগরীতে ভবন অনুমোদন ও উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের কাঠামোয় পরিবর্তনের পরও যদি অনুমোদনহীন বা নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
কোনো ভবনের নির্মাণ শুরুর পর নিয়মিত তদারকি হলে নকশাবহির্ভূত নির্মাণ বা অনুমোদনহীন কাজ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু একটি ভবন প্রায় ১১ তলা পর্যন্ত নির্মাণের পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।
তাই শুধু বর্তমান ভবন মালিক বা নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই যথেষ্ট নয়—ভবনটির নির্মাণের শুরু থেকে অনুমোদন, নকশা যাচাই, নির্মাণ তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নগরবাসী।
নির্দেশ অমান্য করলে ব্যবস্থা কী? কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের পরও যদি নির্মাণকাজ চলতে থাকে, তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে—কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেবে? নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, অনুমোদনবিহীন নির্মাণের অভিযোগ সত্য হলে ভবনটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এবং ইতোমধ্যে নির্মিত অংশের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন নগরবাসীর প্রত্যাশা।
শুধু একটি ভবন নয়, তদারকি ব্যবস্থারও পরীক্ষা মুজিবুর রহমান গংয়ের ভবনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগকে শুধু একটি ভবনের অনিয়ম হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি স্পষ্ট হবে না। নগরীতে এ ধরনের আরও ভবন রয়েছে কি না, অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ হয়েছে কি না এবং নির্মাণকাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করেছে কি না—সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনায় ভবন নির্মাণের অনুমোদন শুধু একটি কাগজের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জননিরাপত্তা, সড়ক ব্যবস্থাপনা, অগ্নিনিরাপত্তা, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং নগরের সামগ্রিক ধারণক্ষমতা জড়িত।
এখন দেখার বিষয় কর্তৃপক্ষ কী করে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চলমান অভিযানকে ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তারা চান, শুধু নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েই যেন বিষয়টি শেষ না হয়। ভবনটির অনুমোদন, নকশা, নির্মাণের প্রতিটি ধাপ এবং নির্দেশ অমান্য করে কাজ চালানোর অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।
একই সঙ্গে নগরীর অন্যান্য বহুতল ভবনের ক্ষেত্রেও অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।নগরবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই—প্রায় ১১ তলা একটি ভবন যদি অনুমোদনহীন বারনকশাবহির্ভূতভাবে নির্মাণ হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি কোথায় ছিল? আর বন্ধের নির্দেশের পরও যদি নির্মাণকাজ চলে, তাহলে সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে কে?
এ বিষয়ে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেন, ুআমরা আইনানুগভাবে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি। সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পরও তারা নির্দেশনা না মানলে এক সপ্তাহ পর পর্যায়ক্রমে পরবর্তী নোটিশ দেওয়া হবে। এভাবে তিনটি নোটিশ দেওয়ার পরও যদি তারা নির্মাণকাজ বন্ধ না করেন, তাহলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগ পর্যন্ত আমাদের নিয়মিত কার্যক্রম চলমান থাকবে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কুমিল্লায় দুর্ধর্ষ দুই চোর আটক, ল্যাপটপ-মোবাইল ও নগদ টাকা উদ...
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লাকুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকায় বাসার গ্রীল কেটে চুরির ঘটনায় জড়িত দুই দুর্ধর্...
কুবিতে বাসের সিটে বসা নিয়ে জুনিয়রকে থাপ্পড়ের অভিযোগ, প্রক্টর...
কুবি প্রতিনিধি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এক জুনিয়র শিক্ষার...
বুড়িচংয়ে ইয়াবা সেবনের দায়ে যুবকের ১ বছরের কারাদণ্ড
কাজী খোরশেদ আলমকুমিল্লার বুড়িচংয়ে ইয়াবা সেবন ও ব্যবহারের অপরাধে মো. ফারুক নামে এক যুবককে এক বছরের বি...
ব্রাহ্মণপাড়ায় ২৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
মো. আনোয়ারুল ইসলামকুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ২৬ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহ...
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রস্তুতি সভা
আয়েশা আক্তারপ্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা...
ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের জন্য ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা রাষ্ট...
মহিউদ্দিন আকাশ (ব্যুরো চীফ,কুমিল্লা)ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানি কার্যক্রম সম্প্রসার...