বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের আর্থ-সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণে সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে কুমিল্লায় একটি রেফারেল কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘রিইন্টিগ্রেশন অব মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় সোমবার (২৭ জুলাই) এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মেহেদী মাহমুদ আকন্দ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম।
এছাড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি), বিসিক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, বিএসটিআইসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, এনজিও, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিদেশ ফেরত অভিবাসীরা কর্মশালায় অংশ নেন। মোট ৪৫ জন প্রতিনিধি এতে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম অভিবাসী শ্রমশক্তি-নির্ভর দেশ। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যান এবং অনেকে দেশে ফিরে আসেন। তাই প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বিশেষ করে নারী অভিবাসীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. মেহেদী মাহমুদ আকন্দ বলেন, ব্র্যাকের মাধ্যমে চিহ্নিত প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের তথ্য নিয়মিত স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হলে তাদের চাহিদাভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে। তিনি বিমানবন্দরে প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের জন্য সেবাব্যবস্থা আরও সমন্বিত করার পাশাপাশি জেলার অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডার হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিদেশগামীদের ‘লেবার মাইগ্র্যান্ট’ বা ‘শ্রমিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করার কারণেই অনেকেই মানসিকভাবে নিজেকে শুধু শ্রমিক হিসেবেই ভাবেন এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। তাই এ ধরনের পরিচয়ের পরিবর্তন জরুরি।” তিনি আরও বলেন, বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের জন্য কোথায় কী ধরনের সরকারি ও বেসরকারি সেবা রয়েছে, সে বিষয়ে তাদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হলে তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পাবেন।
কর্মশালায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের প্রতিনিধি জানান, শাখা ব্যবস্থাপকের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের পুনর্বাসনের জন্য সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদান করা হয়।
আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ সেবার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের তালিকা সরবরাহের আহ্বান জানান, যাতে প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়।
উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যমান সেবাব্যবস্থা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং সমন্বয় বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রেফারেল ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ ফলোআপ কার্যক্রমের জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী জিয়া উদ্দিন আহমেদ। ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ের ম্যানেজার নাজিবা আক্তার প্রকল্পের রিইন্টিগ্রেশন ও রেফারেল কার্যক্রমের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের জেলা সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খলিল।
কর্মশালায় ব্র্যাক সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এনজিও এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করে বিদেশ ফেরত অভিবাসীদের জন্য কার্যকর, সেবামুখী ও জেন্ডার-সংবেদনশীল পুনঃএকত্রীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।