যুবলীগ নেতা বড় ভাই এর মিথ্যা মামলায় আর হয়রানিতে দিশেহারা ছোট ভাই
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বড় ধর্মপুর কলেজপাড়া এলাকার মৃত আবদুস ছোবহানের ছেলে শাহ ইমরান মজুমদার (৫৩)। এক সময়ে যুবলীগ করতেন। আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর তিনি এলাকা ছাড়া। তবে এলাকা ছাড়া হলেও একমসয়ে এলাকার মানুষের উপরে অত্যাচার নির্যাতনের বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৫ই আগস্টের পর সেটি বন্ধ হলেও এবার অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করেছেন নিজের পরিবারের উপরে। খোদ নিজের আপন ছোট ভাই শাহজাহান মজুমদার ও পরিবারের বিরুদ্ধে একে একে দিয়েছেন সাতটি মিথ্যা মামলা , মিথ্যা অভিযোগ করে সাধারণ ডাইরি করেছে। মাকে মারধর ও জোর করে শাহাজান মজুমদার এর ১০ শতক জমি রেজিষ্টি করে নিয়েছে শাহ ইমরান মজুমদার ও মায়ের মৃত্যুর পর জানাজাতে না আসার অভিযোগ উঠেছে এ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে।ছোট ভাই এর চেক প্রতারনার একটি মামলায় ১৮ মাস কারাভোগ করেছেন যুবলীগ নেতা শাহ ইমরান মজুমদার।
মামলা ও নির্যাতনের শিকার ছোট ভাই শাহজাহান মজুমদার বলেন আমার বড় ভাই শাহ ইমরান মজুমদার, সদর দক্ষিণ উপজেলা যুবলীগের সদস্য ছিলেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন এমপি মন্ত্রীর সাথে তার একাধিক ছবি রয়েছে। এসব ছবি কে ফুজি করে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এলাকার মানুষের উপর চালিয়েছেন অত্যাচার অবিচার ও মিথ্যা মামলা। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে হয়েছেন মামলার আসামি।
তিনি আরো বলেন আমরা যৌথ থাকা অবস্থায় আমাদের পরিবারের প্রধান ছিল সে। তখন আমাদের পরিবারের সকলের যৌথভাবে ক্রয় করা সম্পদ ও সকল উপার্জন সে একাই আত্মসাৎ করেছে। সে বাড়িতে অনেক অন্যায় অত্যাচার অনৈতিক কাজ করতো, এইসবে বাঁধা দেওয়ায় আমি শুরু থেকে সবার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি। সে এতটাই অমানবিক যে, ১৯৯১ সালে লালমাই বাজার সংলগ্ন আইটি পার্ক রোডের পশ্চিম পাশে তিন ভাইয়ের অর্থে সমানভাবে ৩০ শতক জমি ক্রয় করা হয়, আমি প্রবাসে থাকায় আমার ১০শতক মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা হয়, সে মাকে অত্যাচার করে আমার অংশ নিয়ে নেয়। আবার এই প্রতারকের কাছ থেকে আমি প্রবাসে অবস্থান করে ৮শতক জায়গা ক্রয় করি, পরে দেশে এসে পরিমাপ করে দেখি ক্রয় করা জায়গার অর্ধেক নেই। তার জালিয়াতি এইখানে শেষ হয়নি, আবার আমি প্রবাসে থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে আমার স্ত্রী কে বলে, ব্যাংক থেকে লোন নিবে তাই গ্রান্টার হওয়ার জন্য চেক দিতে। যেহেতু সে আমার বড় ভাই তাই আমি আমার স্ত্রীকে বলি চেক দেওয়ার জন্য। পরবর্তীতে তাকে ঐ চেক ফেরত দিতে বললে সে বলে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করা শেষ হয়নি। এভাবে কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে এই চেকের কথা ভুলে যাই। আমার বড় বোন গুলশান বেগম ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত সংকটে পরে। পৈতৃকভিটাতে গুলশান বেগম বড় বোনের অংশ আমি ক্রয় করি যেটাকে কেন্দ্র করে সে ২০১৪ সালের চেক কে ২০২৪ বানিয়ে ওই চেক দিয়ে ২০২৪সালে আমার স্ত্রী রোকেয়া মজুমদারের নামে ৪০ লাখ টাকার ভুয়া মামলা করে। ওই জায়গাকে কেন্দ্র করে সে জমি সংক্রান্ত মিথ্যা অভিযোগ এনে আরো ৫-৬ টা ভুয়া মামলা করেছে। কিছু দিন আগে আদালতে আমাকে মারধর করার হুমকি দিয়ে আবার সদর কোতোয়ালি থানায় তাকে হুমকি ধামকি দেওার অভিযোগ দিয়ে আমার নামে সাধারন ডায়েরি করেছে। আমার মা মারা যাওয়ার পর সে জানাজা দিতে পর্যন্ত আসে নাই।
শাহ জাহান মজুমদারের স্ত্রী রোকেয়া মজুমদার বলেন শাহ ইমরান মজুমদার আমার স্বামীর বড় ভাই। ব্যাংক লোনের কথা বলে ২০১৪ সালে আমার কাছ থেকে কৌশলে একটি সাদা চেক নিয়ে যান। এরপর তিনি ওই চেকে ৪০ লাখ টাকার অঙ্ক বসিয়ে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২০২৪ সালে চেকটি ডিজঅনার করান। বিষয়টি জানার পর ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার আদালতে শাহ ইমরান মজুমদারের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামালা দায়ের করি। আদালত মামলাটি অন্তত ৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় শাহ্ ইমরান মজুমদারকে ১৮ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. তৈয়ব উদ্দিন।
এদিকে লাকি আক্তার নামে এক নারী বলেন, চেক-সংক্রান্ত মামলায় তিনি সাক্ষী হওয়ায় তাঁকে, তাঁর বাবা-মা ও স্বামীকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে। এসব মামলা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য বলেন, শাহ ইমরান মজুমদার বর্তমানে এলাকায় থাকেন না; কুমিল্লা শহরে বসবাস করেন। তিনি ছোট ভাই শাহজাহানের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে একের পর এক মামলা করছেন বলে ওই ইউপি সদস্য দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, এসব মামলার অনেকগুলোই সত্য নয় বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কেউ শাহ ইমরানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলে তাঁকেও মামলায় জড়ানো হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে শাহ ইমরান মজুমদারের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি সাংবাদিক পরিচয় জেনে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ক্যাটেগরি:
বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ:
বৃহত্তর কুমিল্লা
জাতীয়
আন্তর্জাতিক
খেলাধুলা
রাজনীতি
বিনোদন