প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বিনোদন | প্রকাশ: 3 Oct 2026, 9:45 AM
ঘুরে এলাম পার্কির চর
কাজী খোরশেদ আলম
ভ্রমণ মানুষের মনের ক্লান্তি দূর করে, চিন্তার জগৎকে করে সমৃদ্ধ। অচেনা পথ, নতুন জায়গা, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য—সবকিছুই যেন জীবনের ব্যস্ততার মাঝে একটুখানি প্রশান্তির বার্তা নিয়ে আসে। সেই প্রশান্তির খোঁজেই একদিন ঘুরে এলাম চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার অপূর্ব সুন্দর পার্কির চর সমুদ্র সৈকত থেকে।
সকাল থেকেই মনটা ছিল বেশ উচ্ছ্বসিত। শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে যখন পার্কির চরের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন ধীরে ধীরে বদলে যেতে লাগল চারপাশের দৃশ্য। নগরের কোলাহল কমে এসে চোখে পড়ল সবুজ প্রকৃতি, গ্রামের পথ আর উপকূলীয় জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পথ যত এগোচ্ছিল, ততই মনে হচ্ছিল—আজকের দিনটি অন্য রকম হতে যাচ্ছে।
অবশেষে পৌঁছে গেলাম পার্কির চরে। সামনে বিশাল সমুদ্র। চোখ যতদূর যায় শুধু নীল জলরাশি আর দিগন্ত। দূর থেকে ভেসে আসছে ঢেউয়ের গর্জন। সমুদ্রের নোনাজলের বাতাস এসে যেন মুহূর্তেই মনটাকে সতেজ করে দিল।
সৈকতের বালুচরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নীরবে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে রইলাম। একের পর এক ঢেউ এসে তীরে আছড়ে পড়ছে, আবার ফিরে যাচ্ছে সাগরের বুকে। ঢেউয়ের এই আসা-যাওয়ার মধ্যে যেন জীবনেরও এক অদ্ভুত গল্প লুকিয়ে আছে—আসা, ছুঁয়ে যাওয়া, আবার ফিরে যাওয়া।
সৈকতের চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশও বেশ মনোমুগ্ধকর। কোথাও সবুজের সমারোহ, কোথাও বিস্তীর্ণ বালুচর। বাতাসে নোনাজলের গন্ধ। মাঝে মাঝে চোখে পড়ছিল সমুদ্রের সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক গড়ে তোলা উপকূলীয় মানুষের ব্যস্ততা। সব মিলিয়ে পার্কির চরকে মনে হলো প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকা এক শান্ত ঠিকানা।
ফজলুর রহমান মেমোরিয়্যাল কলেজ অব টেকনোলোজির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তাহের এর নিমন্ত্রণে ভ্রমন পিপাসু মনকে আর বেঁধে রাখতে পারি নাই। ছুটে যাই সাগর তীরে- পারকির চরে। প্রতি বছরই ফজলুর রহমান মেমোরিয়্যাল কলেজ অব টেকনোলোজি থেকে ছাত্রছাত্রীদেরকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যূরে যাওয়া হয়। তাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যূরে এই বছরই প্রথম আমি গিয়েছি। সাথে ছিলেন ফজলুর রহমান মেমোরিয়্যাল ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ মোঃ আবুল কালাম আজাদ, সদস্য মোঃ মনির উদ্দিন, ভরাসার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলাম, কলেজ কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোঃ অহিদুর রহমান। আমরা পাঁচজন একসাথেই পুরো পার্কির চরের সৌন্দর্য উপভোগ করি। পাঁচজনের মধ্যে আমি ছিলাম সর্বকনিষ্ঠ। কিন্ত মনে হয়েছে;আমাদের মধ্যে শত জনমের বন্ধুত্ব রয়েছে।
সকাল বেলায় ঘুম ভাঙ্গে কলেজের অফিস সহায়ক মোঃ অলিউল্লাহ ও ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ মোঃ আবুল কালাম আজাদ ভাইয়ের ফোনে। ঘুম থেকে উঠে গোসল করে বুড়িচং বাজারের দিকে দ্রূুত ছুটে যাই। হতাশার মোড়ে গিয়ে দেখি চারটি বাস সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। মনির ভাই আজাদ ভাইয়ের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। এদিকে কলেজের শিক্ষক মোঃ আজাদ খাঁন আমাদের দেখে খুবই আনন্দিত হলেন। কলেজের আরেক শিক্ষক অধ্যাপক মোঃ রবিউল আলম বাসের মধ্যেই কোলাকোলি করলেন এবং আমাদের তিনজনকে বসার ব্যবস্থা করে দিলেন। ভরাসার বাজার থেকে প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলাম বাসে উঠলেন। তারপর কোটবাড়ী বিশ্বরোডে গিয়ে কলেজ কমিটির সদস্য অধ্যাপক মোঃ অহিদুর রহমান এবং কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবু তাহের বাসে উঠে নিজ নিজ সিটে বসলেন। অধ্যক্ষ সাহেবও ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আসা আামাদের তিনজনকে দেখে খুব খুশি হলেন এবং আমাদের কোন অসুবিধা হয়েছে কি না তার খোঁজ খবর নিলেন।
সফর সঙ্গীদের সঙ্গে গল্প করতে করতে কখন যে সময় কেটে যাচ্ছিল, বুঝতেই পারছিলাম না। কখনো সমুদ্রের কাছে গিয়ে ঢেউয়ের সঙ্গে পা ভেজানো, কখনো বালুচরে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা—সবকিছু মিলিয়ে সময়টা ছিল আনন্দময়। মোবাইলের ক্যামেরায় ধরে রাখছিলাম প্রিয় মুহূর্তগুলো। তবে ক্যামেরায় যতই ছবি তুলি, বাস্তবে দেখা পার্কির চরের সৌন্দর্যের সঙ্গে তার তুলনা করা কঠিন।
বিকেল গড়িয়ে যখন সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ল, তখন পার্কির চর যেন নতুন রূপ ধারণ করল। আকাশে ছড়িয়ে পড়ল নানা রঙের আভা। সমুদ্রের জলেও সেই রঙের প্রতিফলন। সূর্যাস্তের সেই দৃশ্যের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, প্রকৃতি যেন নিজের হাতে একটি বিশাল ক্যানভাসে ছবি আঁকছে।
সৈকতের বালুচরে বসে সূর্যাস্ত দেখার অনুভূতিই ছিল ভ্রমণের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি। চারপাশে তখন ধীরে ধীরে নেমে আসছে সন্ধ্যা। সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ আর মৃদু বাতাসের সঙ্গে মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি যেন দিনের শেষ গল্পটি আমাদের শোনাচ্ছে।
পার্কির চর শুধু সৌন্দর্যের জায়গা নয়, এটি প্রকৃতিকে কাছ থেকে অনুভব করার একটি সুযোগ। এখানে এসে বুঝতে পারলাম, প্রকৃতির বিশালতার সামনে মানুষের ব্যস্ততা কত ক্ষুদ্র! শহরের শত ব্যস্ততা, কাজের চাপ কিংবা নানা চিন্তা—সবকিছুই যেন কিছু সময়ের জন্য ভুলে থাকা যায় সমুদ্রের সামনে দাঁড়ালে।
তবে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে একটি বিষয় বারবার মনে হয়েছে—প্রকৃতিকে ভালোবাসার অর্থ শুধু তার সৌন্দর্য উপভোগ করা নয়, তাকে রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব। সৈকতে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না ফেলা, প্লাস্টিক ও পলিথিনের ব্যবহার কমানো এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। পর্যটন বাড়ুক, কিন্তু প্রকৃতির ক্ষতি করে নয়।
ফেরার সময় বারবার পেছনে তাকাচ্ছিলাম। দূরে পড়ে রইল বিশাল সমুদ্র, বালুচর আর দিগন্ত। মনে হচ্ছিল, পার্কির চর যেন বলছে—“আবার এসো।”
একটি দিনের ছোট্ট ভ্রমণ, অথচ স্মৃতির পাতায় তার জায়গা অনেক বড়। ব্যস্ত জীবনের মাঝে পার্কির চর আমাকে দিয়েছে কিছু নির্মল সময়, প্রকৃতির সান্নিধ্য আর অসংখ্য সুন্দর মুহূর্ত। তাই ফিরে আসার পরও মনে হচ্ছে, আমি যেন এখনো শুনতে পাচ্ছি সেই ঢেউয়ের শব্দ।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
চান্দিনায় ইউপি মেম্বারের বাড়ির সীমানা বেড়া ভেঙে দিলেন যুবদল...
চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।কুমিল্লার চান্দিনায় এক ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বারের বাড়ির সীমানা বেড়া ভেঙে দ...
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং রতন গ্রুপের প্রধান রতন গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লা নগরীর মিশনারি স্কুলের সামনে ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের আধিপত্য বি...
লালমাইয়ে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা: মাদ্রাসা পরি...
মাসুদ রানা, কুমিল্লা। কুমিল্লার লালমাইয়ে বুনিয়াল ইসলাম মহিলা মাদ্রাসার দুই শিশু শিক্ষার্থীকে ধর...
লালমাইয়ের ভূশ্চিতে আবারও বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভূশ্চি বাজারে বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী সমর্থিত কার্যাল...
বই পড়া কর্মসূচি প্রতিযোগিতায় "গ" গ্রুপে প্রথম সরকারি টেকনিক্...
ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর আলোকিত মানুষ গড়তে বই পড়ার বিকল্প নেই। এ অভ্যাস যদি স্কুল থেকেই গড়া...
অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়তে...
প্রেসবিজ্ঞপ্তি:বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, অন্...