নিজস্ব প্রতিবেদক
"আলোর পথে সোন্দ্রম, এগিয়ে চলার দীপ্তি, রক্তের টানে এক ছাদের নিচে খুঁজে পাই তৃপ্তি"—এই চমৎকার ও সুদৃঢ় প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণিল আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘আলোকিত সোন্দ্রম’ গ্রামের পারিবারিক মিলনমেলা। সোন্দ্রম গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সামাজিক, শিক্ষামূলক ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনব্যাপী আয়োজিত এই মিলনমেলায় অংশ নেন সোন্দ্রম গ্রামের সর্বস্তরের বাসিন্দারা।
কুমিল্লা কোটবাড়ি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এর অডিটোরিয়াম 'ময়নামতি হল রুমে এক ছাদের নিচে সমবেত হন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য, পরিবার-পরিজন, বিশিষ্টজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন পারিবারিক মিলনমেলা ও বনভোজনে রূপ নেয়।
আয়োজনকে ঘিরে ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। নারী, পুরুষ ও শিশুদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যরা আনন্দে মেতে ওঠেন।
খেলাধুলা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজক ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। দিনব্যাপী আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সংগঠনের সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা গান, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে আরও আনন্দমুখর করে তোলে।
সোন্দ্রম গ্রামের পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠান বাস্থবায়ন কমিটির আহ্বায়ক একেএম লুৎফুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃমোস্তাক মিয়া এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লাস্থ সোন্দ্রম চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ী ফোরাম এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক এটিএম মিজানুর রহমান
প্রধান বক্তা বলেন, সোন্দ্রম গ্রামকে একটি আদর্শ, শিক্ষিত এবং মাদকমুক্ত আলোকিত গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলাই এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মূল লক্ষ্য। গ্রামের তরুণ সমাজ যেভাবে সামাজিক ও শিক্ষামূলক কাজের মাধ্যমে এগিয়ে আসছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। রক্তের টানে সবাই যেভাবে এক ছাদের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে, তা আগামী দিনে গ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
কুমিল্লাস্থ সোন্দ্রম চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ী ফোরাম এর আয়োজকরা জানান গ্রামটির ঐতিহ্য, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং রক্তের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতেই মূলত এই পারিবারিক মিলনমেলার আয়োজন।
দিনব্যাপী উৎসবমুখর এই আয়োজনে ছিল নানাবিধ কর্মসূচি। যার মধ্যে অন্যতম ছিল— আলোকিত সোন্দ্রম এর দশজনউদ্যোক্ত ফজলুল হক, মোঃ নুরুল আমিন মাস্টার
সহ , ইমাম ও খতিব দশজন, কবর খনন ও লাশ
দোয়া দশজন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ২৯ জন,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠাতা পাঁচ জন,প্রবীন হৈতৌষী ৭ জন,আমন্ত্রিত অতিথি ৭ জন,মুক্তিযোদ্ধা ১ জন,সামাজিক কর্মকান্ডের জন্য মফিজুল ইসলাম, ফরিদ খান মেম্বার, সেলিম মিয়া ও বেলায়েত খানসহসর্বমোট ৯৩ জনকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা এবং এছাড়া সোন্দ্রম গ্রামের গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী প্রামাণ্য চিত্র মিলনমেলায় যোগ করে এক ভিন্ন মাত্রা।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকেরা জানান, ‘আলোকিত সোন্দ্রম’ কেবল একটি উদ্যোগ নয়, এটি একটি পরিবার। গ্রামের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও সেবামূলক কার্যক্রম আরও বেগবান করতে এই সংগঠন ভবিষ্যতেও তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে।
দীর্ঘদিন পর গ্রামের সকল প্রজন্মের মানুষ একসাথে এমন একটি আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ উৎসবে মেতে উঠতে পেরে আয়োজক ও এলাকাবাসী সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথিরা " "আলোকিত সোন্দ্রম" নামের একটি ম্যাগাজিন এর মোড়ক উন্মোচন করেন। এসময় তাঁরা শিক্ষা সংস্কৃতি ক্রীড়া ঐতিহ্যে বলিয়ান হয়ে আলোকিত সুন্দ্রম গড়ার দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালন আমির হোসেন বাদল,রেজাউল করিম দুলাল ও রাসেল খান মেম্বার।