প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 11 Mar 2026, 12:19 AM
নাঙ্গলকোটে নতুন ভবন নির্মাণের তিন বছরেও বরাদ্ধ দেওয়া হয়নি
সাইফুল ইসলাম
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হেসাখাল ও চডিয়া বাজার উন্নয়নে নির্মিত দ্বিতলা বিশিষ্ট নতুন ভবন দেখলেই মনে হবে না। গত প্রায় ৩বছর পূর্বে ভবন দু‘টি নির্মাণ হয়েছে। গত প্রায় ৩বছর ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভবনগুলো ব্যবসায়ীদের মধ্যে বরাদ্ধ না দেওয়ায় ভবগুলোর সিঁড়ি, ওয়াশ রুম ও টয়লেটগুলো পরিত্যাক্ত অবস্থায় ব্যাবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভবনগুলোর বিভিন্ন কক্ষ ইজারা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত প্রায় ৩বছরেও ভবন দু‘টি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইজারা দেওয়া হয়নি।
কুমিল্লা এল জি ই ডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘দেশব্যাপী গ্রামীণ বাজার অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৯ সালের শেষেরদিকে ভবনগুলো নির্মাণে আলাদাভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। হেসাখাল বাজার উন্নয়নে ভবন নির্মাণে ২ কোটি ৬২ লাখ ৭১হাজার ৯শ ৬৮ টাকা এবং চড়িয়া বাজার উন্নয়নে ভবন নির্মাণে ৩ কোটি ৬লাখ ২৫ হাজার ৮শ ৬৩টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। হেসাখাল বাজার ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী এবং চডিয়া বাজার ভবন নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করে উপজেলা এল জি ই ডিকে বুঝিয়ে দেন। কিন্তু ভবনগুলো নির্মাণের দীর্ঘ প্রায় ৩বছরেও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ইজারার মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
জানা যায়, গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার জন্যই ভবন দু‘টি নির্মিত হয়েছিল। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে উন্নয়ন প্রস্তাবে বলা হয়েছিল-গ্রামীণ বাজার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি ও অকৃষিপণ্য বাজারজাতের সুবিধা বাড়ানো, গ্রামপর্যায়ে ব্যবসার পরিবেশ এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি। কিন্তু ভবনগুলো ব্যবসায়ীদের মধ্যে বরাদ্ধ না দেওয়ায় একদিকে ভবনের ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যও পূরণ হচ্ছে না। এতে করে প্রতিবছর রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নিচতলায় সবজি, মাছ এবং মাংসের দোকান বসার কথা রয়েছে। সেগুলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বরাদ্দের কথা রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় গার্মেন্টস সামগ্রীর দোকান বরাদ্ধ দেওয়ার কথা রয়েছে।
হেসাখাল ও চডিয়া বাজারের ভবনগুলো সরেজমিনে গুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন থেকে ভবনগুলো ব্যবহার না করায় দ্বিতীয় তলার দোকানঘরের সার্টারগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভবনের সিঁড়ি, টয়লেট এবং ওয়াশরুমগুলোতে ময়লা আবর্জনা ফেলায় দূর্গন্ধে ভবনগুলোতে উঠা যায় না। টয়লেট এবং ওয়াশরুমগুলো পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বৈদ্যুতিক লাইনগুলো ছিন্নবিন্ন এবং বৈদ্যুতিক বাতিগুলো খুলে পড়ে আছে। নিচতলার মাছ বাজার এবং তরকারি বাজারের শেডগুলোর বিভিন্নস্থানে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। চড়িয়া বাজার ভবনে উঠতে সিলিং ভেঙ্গে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পানির ট্যাংকি ও বৈদ্যুতিক মোটর নষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পানির পাইপ ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। বিভিন্নস্থানে কাজ অসমাপ্ত অবস্থায়ও পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিম্নমানের কাজের কারণে দ্বিতীয় তলার বিভিন্ন কক্ষের সার্টারগুলো উপরে উঠানো যায় না। হেসাখাল বাজার ভবনের দ্বিতল ভবনের সিঁড়ি, টয়লেট এবং ওয়াশরুমে ময়লা আবর্জনায় দূর্গন্ধময় পরিবেশের কারণে ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠা যাচ্ছে না।
চডিয়া বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন বলেন, চডিয়া বাজারে আমাদের প্রায় ২০/৩০টি দোকান ছিল। আমাদের সুবিধার্থে দোকানগুলো ভেঙ্গে নতুন ভবন করা হয়। বর্তমানে প্রায় ৩বছর যাবত ভবনটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আমি নিজে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এল জি ই ডি ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে অনেকবার দেখা করে বিষয়টি জানিয়েছি। ওনার বলেছে সময়মত বরাদ্ধ দিয়ে ভবনটি চালু করবেন। কিন্তু এর মধ্যে ভবনটির নিচতলাসহ দ্বিতীয় তলা পরিত্যাক্ত অবস্থায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমি চাই এলাকাবাসী এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থে দ্রুত ভবনটি চালু করা হোক।
চডিয়া বাজার স‘মিল ব্যবসায়ী জিতু কোম্পানী বলেন, ভবনটিতে নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে। ভবনের নিচতলায় কাঁচা বাজার এবং মাছ ও মাংসের দোকানের ফ্লোরগুলো ভেঙ্গে গেছে। ছাদের পলেস্তারা পায়ের সাথে উঠে যাচ্ছে। দারোয়ানের কক্ষের কাজটিও অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সিঁড়ির উপরের সিলিং ভেঙ্গে পড়ে আছে। টয়লেট এবং ওয়াশরুমের বৈদ্যুতিক বাল্বসহ বেসিন এবং বাথরুম সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
হেসাখাল বাজার ব্যবসায়ী গোলাপ হোসেন বলেন, হেসাখাল বাজার ভবনটি দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বরাদ্ধ না দেওয়ায় ভবনটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকালে ভবনটির ছাদে পানি জমে থাকায় ছাদটিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভবনটি সংস্কার করে দ্রুত ব্যবসায়ীদের মধ্যে বরাদ্ধ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানাচ্ছি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুর রহমান সিকদার জানান, এলজিইডি বাজার দু‘টির ভবন নির্মাণ করেছে। নির্মাণ শেষে উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি চালুর দায়িত্ব তাদের নয়।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লীজা আক্তার বিথী বলেন, মার্কেট দু‘টি পরিদর্শনপূর্বক দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধের দাবিতে কুমিল্লায় ১১ দলীয় ঐক্য...
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এবং জোরপূর্বক ভারতীয় নাগ...
কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আব...
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লা।কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কুউক) প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়ো...
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরা...
নিজ¯^ প্রতিবেদকব্রাক্ষণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা বিভিন্ন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষগনের সংগঠন,...
লালমাইবাসীর উন্নয়নে ডেটা শেয়ারিং কর্মশলা।
মাসুদ রানা, কুমিল্লা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলা শহর মাস্টার প্লান প্রণয়ন...
বুড়িচংয়ে কিশোর গ্যাং লিডার ছাব্বির আটক
কাজী খোরশেদ আলমকুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় অভিযান চালিয়ে কথিত কিশোর গ্যাং 'বিকেজি (BKG)'-এর লিডার মো. ছ...
চান্দিনায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কুখ্যাত অস্ত্রধারী বাবুলসহ গ্...
সোহেল রানা:চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।কুমিল্লার চান্দিনায় অভিযান চালিয়ে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক প...