ধারণক্ষমতার ৪ গুণ যানবাহন চলাচল দেবে যাচ্ছে সড়ক বাড়ছে যানজট-দুর্ঘটনা
মোঃ মাসুদ রানা বিশেষ প্রতিনিধি
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে ধারণক্ষমতার চেয়ে চারগুণ বেশি যানবাহন চলাচল করছে। ওভারলোড নিয়ে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) বলছে, সড়কটির অধিকাংশ এলাকায় মাটির নিচে পানি এবং পলি মাটির স্তরের কারণে সড়কটি দেবে গেছে। এতে প্রতিবছর সংস্কারে কোটি কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কটির কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত দূরত্ব ৬৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৫৪ কিলোমিটার সড়ক কুমিল্লা সড়ক বিভাগের আওতাধীন। সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী পাথরবাহী ওভারলোডের ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের অধিকাংশ এলাকা দেবে গেছে। তাছাড়া অতিরিক্ত থ্রিহুইলার এবং যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছে। এতে যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি এবং দুর্ঘটনা বাড়ছে। কুমিল্লা সড়ক বিভাগ বলছে, ১৮ ফুট প্রস্থের ২ লেনের সড়কটি প্রতিবছর সংস্কার করা হলেও অতিরিক্ত এবং ভারী যানবাহনের চাপে মহাসড়কের দেবিদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ী, পান্নারপুল, নিউমার্কেট, ফুলগাছতলা, কালিকাপুর, জাফরগঞ্জ, কংশনগর এলাকায় সড়ক দেবে যাচ্ছে। এসব এলাকায় প্রতিবছর ইট বালু কংক্রিট ফেলে উঁচু করা হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তা থাকছে না। এসব এলাকায় সড়কের নিচে পানি এবং পলি মাটির স্তরের কারণে সড়ক ওভারলোড নিতে পারছে না। তাই সড়কের ওইসব অংশ নতুন করে সিসি ঢালাই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এ সড়ক ফোরলেন না করা হলে যানজট নিরসন হবে না।
সওজ কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ময়নামতি থেকে দেবিদ্বারের পাঁচটি বিপর্যস্ত এলাকায় ভাঙা সড়ক সংস্কারে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ময়নামতি, কংশনগর বাজার, দেবিদ্বার উপজেলার কালিকাপুর, বারেরা ফুলগাছতলা, দেবিদ্বার নিউমার্কেট ও ভিংলাবাড়ি অংশের সড়ক সংস্কারে বরাদ্দের ১০ কোটি টাকার মধ্যে দেবিদ্বার উপজেলা সদরের সংস্কারে ব্যয় হবে ৫ কোটি টাকা। বাকি ৫ কোটি টাকা অন্যান্য অংশের সড়ক সংস্কারে ব্যয় করা হবে।
সওজ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ সড়কে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ৫-২০ টনের ট্রলি, ড্রাম ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি মরণফাঁদ ও জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। এ সড়কে পাথর বহনকারী পরিবহণসহ দেবিদ্বার, মুরাদনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জের গ্যাস ফিল্ডগুলোতে ভারী মালবাহী ও অন্যান্য প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবহণ চলাচল করে। এসব পরিবহণের জন্য এখন আর এ সড়কটি কোনোভাবেই উপযোগী নয়।
সওজ সূত্র আরও জানায়, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক ছয়লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। মূল মহাসড়কটি হবে চারলেনের। ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য দুপাশে থাকবে সার্ভিস লেন। কুমিল্লার ময়নামতি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধরখার পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশ পড়েছে কুমিল্লা জেলায়। সড়কটি এখন ১৮ ফুট চওড়া। চারলেন হলে এটি প্রস্থে ৬০ ফুট হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ হাজার ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ২০২২ সালেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা। তবে নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে সিলেটের যোগাযোগ মসৃণ হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, সড়কটির যেসব অংশ দেবে যাচ্ছে, সেসব অংশে সড়কের নিচের স্তরে পলি মাটি এবং পানি রয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়কটি চারলেনে উন্নীত করা দরকার। সড়কের বিভিন্ন খানাখন্দ অংশে আপাতত সংস্কার কাজ চলছে।
ক্যাটেগরি:
জাতীয়
ট্যাগ:
বৃহত্তর কুমিল্লা
জাতীয়
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি