নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লায় তীব্র জ্বালানি সংকটে জেলার অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। সরকারি হিসাবে ৮১টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে অন্তত ৪৭টিতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না থাকায় বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে। এতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও মালিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে নতুন করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে গোদের উপর বিষফোঁড়া বলছেন গ্রাহকরা।
নতুন মূল্যে প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দরে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা লিটার দরে। এর আগে ডিজেলের দাম ছিল ১০০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। কোথাও সীমিত আকারে তেল বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও কয়েকদিন ধরে পেট্রোল, অকটেন বা ডিজেল একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় খুবই কম জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। যেখানে একটি স্টেশনের দৈনিক চাহিদা ৩০ থেকে ৪০ হাজার লিটার, সেখানে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১ হাজার লিটার। এতে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
স্টেশন মালিকদের অভিযোগ, একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আনতে ১৫ থেকে ১৭ হাজার লিটার জ্বালানি প্রয়োজন হয়। কিন্তু অল্প পরিমাণ জ্বালানি আনতে গেলে পরিবহন খরচই উঠে আসে না। ফলে অনেক স্টেশন সীমিত আকারে বিক্রি করছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ না থাকায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বশীল একজন বলেন, “চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল। এত কম তেল এনে গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।
মহাসড়কের সোনালী, ইস্টার্ন, বিপাশা ও কুমিল্লা ফিলিং স্টেশনসহ অধিকাংশ স্টেশনে গত এক সপ্তাহ ধরে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নগরীর নুরুল হুদা ও টমছমব্রিজ এলাকার স্টেশনগুলোতেও তেল সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে যানবাহনের জটলা দেখা গেছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ছে। মোটরসাইকেল চালক ইব্রাহিম খলিল বলেন, “তেল না পেয়ে ৪ কিলোমিটার মোটরসাইকেল ধাক্কা দিয়ে এনেছি। স্টেশনে এসে দেখি অকটেন নেই—এখন বিপদে পড়েছি।”
অন্যদিকে, সরকারি ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি না মিললেও খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পান্নারপুল এলাকায় বোতলে করে প্রতি লিটার জ্বালানি ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু ব্যবসায়ীরা সংকটকে পুঁজি করে কালোবাজারি করছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে জেলার ১৭ উপজেলায় মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে মজুত, বিক্রি, মূল্য ও পরিমাপসহ বিভিন্ন বিষয় তদারকি করা হচ্ছে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান বলেন, “জ্বালানি নিয়ে কোনো ধরনের কারচুপি সহ্য করা হবে না। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রভাবেই জ্বালানি সরবরাহে এই চাপ তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।