আব্দুল্লাহ, কুবি প্রতিনিধি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার নিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য পুরো ক্যাম্পাসে রয়েছে মাত্র একটি ক্যাফেটেরিয়া, যা শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা পূরণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাসের আয়তন প্রায় ৫০ একর। ৬টি অনুষদের অধীনে রয়েছে ১৯টি বিভাগ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষকে খাবারের জন্য নির্ভর করতে হয় একটি মাত্র ক্যাফেটেরিয়ার ওপর। অন্যথায় যেতে হয় ক্যাম্পাসের বাইরে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর ক্লাসে ফিরতে দেরি হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ায় দুপুরের খাবারের সময় দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। অনেক শিক্ষার্থীকে খাবারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। সময় বাঁচাতে অনেকেই বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করেন, যা বাড়তি সময় ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সকালের দিকেও একই চিত্র দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থী সকালে না খেয়েই ক্যাম্পাসে আসেন। কিন্তু ক্যাফেটেরিয়ায় নাস্তা করতে গেলে সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কেউ কেউ না খেয়েই ক্লাসে অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়-সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ফুড কার্ডসহ খাবারের দোকান রয়েছে। অনেক ক্যাম্পাসে প্রতিটি ফ্যাকাল্টিতে আলাদা আলাদা ক্যান্টিন থাকলেও কুবি ক্যাম্পাসে এমন ব্যবস্থা নেই।
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অনামিকা দাস বলেন, ‘অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন ধরনের দোকান থাকলেও আমাদের ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ক্লাসের ফাঁকে কিংবা দীর্ঘ সময় ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ক্যাম্পাসের আশেপাশে দোকান থাকলেও ভেতরে কোনো ক্যান্টিন বা ছোটখাটো খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্লাস মিস হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রতিটি ফ্যাকাল্টিতে ছোট করে হলেও একটি করে ক্যান্টিন থাকলে শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে একটি প্রাণবন্ত পরিবেশও তৈরি হতো।’
ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাকসুদ নুর বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বর্তমানে কোনো চা-দোকান বা ক্যান্টিন নেই। আমাদের একটি ক্যাফেটেরিয়া থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সব খাবার পাওয়া যায় না। যেমন, একটি ভালো চা খাওয়ার জন্যও দক্ষিণ মোড়ে যেতে হয়। কিন্তু অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক দোকান রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর আমাদের সবারই চা বা কফি খেতে ইচ্ছে করে। সে সময় আমাদের মেইন গেটের বাইরে বা দক্ষিণ মোড়ে যেতে হয়। সুতরাং ক্যাম্পাসের ভেতরে ফ্যাকাল্টিগুলোতে যদি দোকান থাকে, তাহলে আমাদের সবার জন্য উপকারী হবে।’
গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল্লাহ আল মাহবুব বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নাস্তা করার উপযুক্ত কোনো পরিবেশ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। এ প্রেক্ষিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা দুটি ক্যান্টিন স্থাপন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বল্পমূল্যে ফটোকপি ও বাইন্ডিং সুবিধার জন্য অনুষদের বাইরে একটি দোকান স্থাপন করা যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ এবং বিজ্ঞান অনুষদ পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় এই দুই অনুষদের মাঝখানের স্থানটি ক্যান্টিন স্থাপনের জন্য উপযুক্ত হতে পারে। জায়গাটি ছায়াযুক্ত, পরিবেশ সুন্দর এবং বসারও ব্যবস্থা রয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খুবই ছোট একটি ক্যাম্পাস। আমাদের ক্যাম্পাসের অনুষদগুলো কাছাকাছি এবং ক্যাফেটেরিয়াও নিকটেই অবস্থিত। অনুষদ থেকে ক্যাফেটেরিয়ায় যেতে যে সময় লাগে, মেইন গেটে যেতেও প্রায় একই সময় লাগে। তাছাড়া বিভিন্ন হলের সামনে বা বিপরীত পাশে অনেক দোকান রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের চাহিদা মেটাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ক্যাফেটেরিয়া ও কেন্দ্রীয় মসজিদের মাঝামাঝি স্থানে তিনটি দোকান স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। এর মধ্যে একটি ফটোকপি ও বাইন্ডিং, একটি সেলুন এবং একটি লন্ড্রি দোকান থাকবে।’