প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 11 Jul 2026, 10:55 AM
তিতাসে ৫৯ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
নাজমুল করিম ফারুক
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রায় ৫৯ শতাংশই দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকশূন্য| উপজেলার ৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৬টিতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে| সহকারী শিক্ষকদের পদ খালি রয়েছে ৪৭টি| ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে বিদ্যালয় পরিচালিত হলেও একসঙ্গে পাঠদান এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সহকারী শিক্ষকরা| উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় মাত্র ৩৬টি বিদ্যালয়ে পদোন্নতিপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন| এ ছাড়া ৩৮টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ১৮টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে| ৯২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের পদ ৫১৯ থাকলেও সেখানে কর্মরত আছে ৪৭২জন| অর্থ্যাৎ সহকারী শিক্ষকদের ৯ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে| দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদগুলো পূরণ না হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনা, শিক্ষকদের তদারকি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে | সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের নিয়মিত
পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হয়| এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না| পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রতিবেদন প্রস্তুত, হিসাব-নিকাশ, অভিভাবকদের সঙ্গে সমš^য় এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে| এর প্রভাব শিক্ষার মানের ওপরও পড়ছে| স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ¯^ার্থে দ্রুত শূন্যপদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন| তাদের মতে, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পেলে বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরবে, শিক্ষকদের কার্যক্রমে সমš^য় বাড়বে এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে| শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হলেন প্রধান শিক্ষক| তাই দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ে এ পদ শূন্য থাকায় সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে| দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে তিতাসের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও মানসম্মত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন| এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খাজা মাইনউদ্দীন বলেন, ‘বর্তমানে শূন্য পদগুলোতে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে| তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়| দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন সম্ভব হবে|’
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের শিশুর কন্যাসন্তান : ‘ডিএনএ বলছে, সেই...
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের শিশুটির গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানের বাবা অভিযোগ ওঠা...
যুবলীগের মিছিল: এক ফাঁড়ির ২৭ পুলিশকে অন্য থানায় বদলি
ময়মনসিংহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সমালোচনার মুখে একটি ফাঁড়ি থেকে একস...
চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান
কাজী নজরুল ইসলাম চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। চাঁদপু...
নীরবে মানবিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দানবীর জুনাব আ...
সাদিক মামুনপিতা ছিলেন শিক্ষানুরাগী, দানবীর ও বেশকটি মাদরাসা, এতিমখানা, স্কুল, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহ...
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ২ হাজার পিস ইয়াবা সহ মা - ছেলে গ্রেপ্তার
চাঁদপুর প্রতিনিধি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে ২ হাজার পিস ইয়...
কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের নান্দনিক পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছে...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত অঙ্গনের নান্দনিক পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক...