প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 21 Sep 2026, 8:14 AM
ব্রাহ্মণপাড়া আল বারাকা হাসপাতালের অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন
মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সন্তান প্রসবের অস্ত্রোপচারের পর পপি আক্তার (২১) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আল বারাকা হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের পর রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল ঘেরাও, ভাঙচুর ও বিক্ষোভের পর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিহত পপি আক্তার উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের সাহেবাবাদ গ্রামের মো. মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে এবং একই ইউনিয়নের টাকই অহিদ সরকার বাড়ির মো. মোহন মিয়ার স্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর প্রসবব্যথা উঠলে তাঁকে উপজেলা সদরের আল বারাকা হাসপাতালে (সাবেক ভিশন হাসপাতাল) নেওয়া হয়। সেখানে সন্তান প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচার করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর পপি ও তাঁর নবজাতক সন্তানকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, বাড়িতে ফেরার পর থেকেই পপির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁকে আবার আল বারাকা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সেলাই কেটে গুরুতর কোনো সমস্যা নেই বলে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। অস্ত্রোপচারের স্থানের সেলাই কাটার পর তাঁর রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে দাবি পরিবারের।
পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে পপির অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে পুনরায় অস্ত্রোপচার করেন এবং নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। সেখানে আইসিইউ শয্যা না থাকায় তাঁকে কুমিল্লা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
পপির অবস্থার অবনতিকে কেন্দ্র করে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে আল বারাকা হাসপাতালে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তাঁর মরদেহ নিয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় হাসপাতাল ঘেরাও ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিবারের অভিযোগ, আল বারাকা হাসপাতালে করা অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসায় গাফিলতির কারণেই পপির অবস্থার অবনতি হয়ে মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
প্রসূতির মৃত্যুর পর হাসপাতালটির বৈধ অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আল বারাকা হাসপাতাল’ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের তালিকাভুক্ত নেই।
হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, আমাদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে কোনো গাফিলতি ছিল না। অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, হাসপাতালের নামের জন্য আবেদন করা হয়েছে, তবে এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি। কয়েক দিনের মধ্যে অনুমোদন পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
এদিকে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয়ভাবে বৈঠক করে সাড়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সাহেবাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, আইনগতভাবে আমার পরিষদের গ্রাম্য আদালতের পক্ষে এ ধরনের বৈঠক করার সুযোগ নেই। তবে সামাজিক ও মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা বিষয়টি মীমাংসা করেছি।
হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল কাফি বলেন, রোগী মারা যাওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় লোকজন বসে সাড়ে ১২ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর আল বারাকা হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রাম্য আদালতের এখতিয়ার অনুযায়ী এ ধরনের চিকিৎসাজনিত মৃত্যুর ঘটনা মীমাংসা করার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
পপি আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং আল বারাকা হাসপাতাল বৈধ অনুমোদন নিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্ত প্রতিবেদনেই।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
অপ্রতীম হত্যায় চার অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ
কুমিল্লা প্রতিনিধি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযো...
মোবাইল ছিনিয়ে নিতেই নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে অপ্রতিমকে হত্য...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে...
অপ্রতিমকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি আমার রুহটাও চলে গেলে, আমার ফ...
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লা।। অপ্রতিম, আমার রুহটাও নিয়া গেলা তুমি। আমার ফড়িংটা ছবি তুলতে পছন্দ করত।...
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানা...
কুবি প্রতিনিধি:কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে, হ...
প্রথমে তুহিন পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের ম...
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছ...
বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ব...
মো.জাকির হোসেন। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে...