প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: জাতীয় | প্রকাশ: 30 Sep 2026, 9:25 AM
ব্রাহ্মণপাড়ায় চরের জমিতে লালশাক চাষ করে লাভবান কৃষক
মো. আনোয়ারুর ইসলাম
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় গোমতী নদীর চরে কৃষকেরা লালশাক চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। জমি তৈরি থেকে বীজ বপনের পর মাত্র ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে শাক বিক্রি করতে পারছেন তাঁরা। এতে অল্প অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তাঁরা। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের মালাপাড়া, অলুয়া ও মনোহরপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জমি থেকে বিক্রির জন্য চাষ করা লালশাক সংগ্রহ করছেন কৃষকেরা। তাঁরা সারিবদ্ধ হয়ে লালশাক তুলছেন। আবার কেউ লালশাকের আঁটি বাঁধছেন।
এ সময় কথা হয় কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি ৩৬ শতক জমিতে লালশাক চাষ করেছি। এতে আমার সাড়ে আট হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বর্তমানে আমার জমিতে চাষ করা লালশাক বিক্রির যোগ্য হয়েছে। ইতিমধ্যে জমির শাক পাইকারদের কাছে সাড়ে ২৪ হাজার টাকা বিক্রি করে দিয়েছি। এতে আমার খরচ গিয়ে ১৬ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম জানান, উৎপাদিত লালশাক বিক্রির পর এই জমিতে তিনি আলু ও মিষ্টি কুমড়ার চাষ করবেন।
লালশাকের চাষাবাদ নিয়ে কথা হয় কৃষক সুলতান আহমেদ, সাহেদ আলী, জব্বার মিয়া, লোকমান হাজারী, সাদেক আহাম্মেদ ও জলিল জামানের সঙ্গে। তারা জানান, জমিতে লালশাকের চাষাবাদ করে বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাচ্ছে। বাজারে লালশাকের চাহিদা রয়েছে। এর চাষাবাদে খুব একটা সার দিতে হয় না। তবে জমি প্রস্তুতের সময় শুকনো গোবর ও জৈব সার দিলে লালশাকের ফলন বেশি হয়। তাঁরা শুধু লালশাক নয়। অন্যান্য শাকসবজিও চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।
লালশাকের পাইকারি ক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, আমরা এখানকার কৃষকদের উৎপাদিত লালশাক জমি থেকে কিনে কুমিল্লা, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় আড়তগুলোতে বিক্রি করি। যেখানে ভালো দাম পাই সেখানেই এই সব লালশাক বিক্রি করতে নিয়ে যাই। বর্তমানে বাজার ভালো হওয়ায় আমরা ও কৃষক উভয়ে লাভবান হচ্ছি।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন বলেন, লালশাক চাষে তেমন একটা শ্রম দিতে হয় না। জমি প্রস্তুত করে বীজ বপন করার ২০ থেকে ২৫ দিনের মাথায় লালশাক বিক্রি করা যায়। তেমন সারও দিতে হয় না। লালশাক সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। তাই ছোট-বড় সবাই এটা খুব পছন্দ করে। লালশাক চাষ করে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি এ থেকে বাড়তি আয় করাও সম্ভব। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর ১ বিঘা জমিতে লালশাক চাষ করে ৪০ হাজার টাকা লাভ করা যায়। পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হলে খরচ কম লাগে। কীটনাশক লাগে না। জমি তৈরির সময় ভালো করে সার দিলে অনেক ভালো হয়।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ...
মোঃ মাসুদ রানা , কুমিল্লা কলাম... দেয়ালে দেয়ালে গ্যাংয়ের নাম। পাড়া-মহল্লায় দলবদ্ধ কিশোরদের আনাগ...
নোটিশের পরও নির্মাণকাজ—আল-আমিন হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা নগরীর নানুয়াদিঘির পাড়ে সিটি করপোরেশনের নকশা অনুমোদন ছাড়াই ৯ তলা ভবন নির্মাণের অ...
কুমিল্লা ওয়াসার কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা উন্নয়ন নিয়ে সিটি প্র...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা নগরীর নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা...
চার শতাব্দীর সাক্ষী খেরুয়া মসজিদ
মো: আজিজুল হক বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা সদরের খোন্দকার টোলা মহল...
বিএনপির এমপির স্বাক্ষরে অনুমোদন পেল কুমিল্লার লাকসাম প্রেস ক...
কুমিল্লা ব্যুরো চিফ.কুমিল্লার লাকসাম প্রেস ক্লাবের কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন বিএনপির কুমিল্লা-৯ আসনের স...
হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে ৩ রোগী আহত
কাজী নজরুল ইসলাম হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে হাসপাতালের ভর্তিকৃত তিন জন রোগী...