প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 21 Oct 2025, 12:05 AM
ছোট বোনকে জিন ছাড়াতে গিয়ে ধর্ষনের শিকার বড় বোন
মোঃ মাসুদ রানা, দেবিদ্বার
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের জিলানীর ছেলে কুদ্দুস মিয়া নামে এক কবিরাজের কাছে ছোট বোনকে জিন ছাড়াতে গিয়ে ধর্ষনের শিকার হয়েছে উপজেলার ফুলতলী গ্রামের শারমিন আক্তার মিম (১৯) নামের এক গৃহবধু। এই ঘটনায় ভিক্টিমের মা জোসনা বেগম গতকাল সোমবার বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
লিখিত ঐ এজাহার সুত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন সকালে ছোট বোন নাসরিন আক্তারকে জিন ছাড়াতে কবিরাজ কুদ্দুস মিয়ার বাড়ীতে গেলে কুদ্দুস কবিরাজ বিভিন্ন ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তার বসত ঘরের একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যায় ভিক্টিমকে। পরে ঐখানে জোর জবরদস্তি করে ভিক্টিমকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। এরপর ভিডিও ভয় দেখিয়ে ভিক্টিমের কাছে প্রায় এক লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় কবিরাজ কুদ্দুস মিয়া। দীর্ঘদিন যাবত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকী দিয়ে একাধিক বার শারিরিক সম্পর্ক করে ঐ কবিরাজ। এক পর্যায়ে ভিক্টিমের কাছে আরো মোটা অংকের টাকা দাবী করে এতে অস্বীকৃতি জানালে ভিক্টিমের শশুর বাড়ী ও স্বামী সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভিক্টিম শারমিন আক্তার মিম সাংবাদিকদের বলেন, আমি আমার ছোট বোনকে জিন ছাড়াতে নিয়ে যাই কবিরাজ কুদ্দুসের কাছে। সে চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগে ৩০০ টাকা দামের নন জুডিশিয়াল স্টাম্পে আমার স্বাক্ষর নেয়। দু'একদিন যাওয়ার পর এক পর্যায়ে সে আমাকে তার বসতঘরের একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যায়, এরপর জোর করে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে রাখে। একপর্যায়ে সেই মুহূর্তে ভিডিও আমার ইমুতে দেয় এবং মোট অংকের টাকা দাবি করে। আমি বিভিন্ন স্থান থেকে তাকে টাকা এনে দিলেও সে আমার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে একাধিকবার আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। পরে আমার ভাইকে বিদেশ যাওয়ার কথা বলে তিন লক্ষ টাকা নেয় সে। আমি ওই টাকা ফেরত চাইলে ভিডিওর হুমকি দিয়ে আমার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে আমার স্বামীর বাড়ির লোকদের কাছে ভিডিওর ছবি ছড়িয়ে দেয়। এবং এ বিষয়ে কোথাও আইনি ব্যবস্থা নিলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। ভিক্টিমের মা জোসনা বেগম বলেন, ভন্ড কবিরাজের ফাঁদে পড়ে আমার তিনটি পরিবার ভেঙে গেছে। আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে তার সর্বোচ্চ বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইদ্দিস মিয়া জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি। দুই পক্ষকে নিয়ে সামাজিক শালিস বসার আহব্বান করেছি কিন্তু মেয়ের পক্ষ আসেনি। এদিকে ঘটনার বিষয় জানতে কবিরাজ কুদ্দুস মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দেবিদ্বার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মঈনউদ্দিন জানান, ভিক্টিমের মায়ের লিখিত এজাহার পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে, তদন্ত সাপেক্ষে ঐ কবিরাজের বিরুদ্ধে আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ নিয়ে পাল্টাপ...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদ ও পরিচালনা কমিটির বৈধতা নিয়ে পাল...
কুমিল্লায় মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ ওসি সাজেদুল ইসলাম
কুমিল্লা প্রতিনিধিমাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে কুমিল্লা জেলায় শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে সম্...
কুবি ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ব্যতিক্রমী উদ্যোক্তা...
কুবি প্রতিনিধিকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে...
বুড়িচংয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৪৩ পূজামন্ডপের সভাপতি ও স...
কাজী খোরশেদ আলমবুড়িচংয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্...
বাইউস্টে নবীন শিক্ষার্থীদের অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (বাইউস্ট), কুমিল্লা এর ফল-২০২৬ স...
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পাচ্ছেন কুবির ১৬ শিক্ষার্থী
কুবি প্রতিনিধিউচ্চশিক্ষায় কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ‘প্রধানমন...