প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 28 Oct 2025, 9:02 AM
আওয়ামী লীগের দোসর অভিযোগে গণমিছিলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চান্দিনায় জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে উত্তেজনা!
সোহেল রানা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা উত্তর জেলা আয়োজিত এক গণমিছিলে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা বাস স্টেশন এলাকায় আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর চান্দিনা উপজেলার নায়েবে আমীর ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসেন এর বক্তব্য চলাকালে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি, প্রার্থীর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওলানা মোশাররফ হোসেন বক্তব্য শুরু করলে তার একটি অংশের নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ তোলেন, মাওলানা মোশাররফ আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এ সময় কয়েকজন কর্মী “দল বিক্রি চলবে না”, “আওয়ামী দোসর প্রার্থী মানি না” স্লোগান দিতে থাকেন। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দলীয় শৃঙ্খলা কমিটির নেতারা হিমশিম খেয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দলীয় সূত্র জানায়, মাওলানা মোশাররফ হোসেন সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তপন বকশীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দলের একাংশে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, জেলা আমীর আব্দুল মতিন ও জেলা সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।
চান্দিনা উপজেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি সাজিদ আল আমিন সোহাগ বলেন, “জেলা আমীর মতিন ও সেক্রেটারি শহীদ টাকা খেয়ে মোশাররফকে প্রার্থী করেছে। সে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য প্রাণ গোপাল দত্ত ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তপন বকশীর সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। সে আওয়ামী লীগের দোসর। জেলা সংগঠন একজন আওয়ামী লীগের দালালকে জামায়াতের ব্যানারে নরমালাইজ করতে চায়।
জামায়াতে ইসলামীর চান্দিনা উপজেলার নায়েবে আমীর ও জামায়াত মনোনীত মাওলানা মোশাররফ হোসেন বলেন, দলীয় নেতা-কর্মীরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত। যার পক্ষে মিছিল হচ্ছে, অন্য পক্ষ তার বিরুদ্ধে মাঠে আছে। আমি কোনো রাজনৈতিক আপস করিনি। স্থানীয় উন্নয়নমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়াকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। কারণ আমি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, যে দলই ক্ষমতায় আসুক দাওয়াত দিলে আমাকে সেখানে যেতে হয়। তাছাড়া উন্নয়নমূলক কাজে আমাকে অংশ নিতে হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে দলের জেলা সেক্রেটারি শহীদ কে, একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল কেটে দেন, কল রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এবিষয়ে দলটির কুমিল্লা জেলা আমীর আব্দুল মতিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান করছে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
মুরাদনগরে জেলা পরিষদের কোটি টাকার জমি দখলমুক্ত করেছে প্রশা...
বেলাল উদ্দিন আহাম্মদকুমিল্লার মুরাদনগরে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি চক্রের দখলে থাকা জেলা পরিষদের ক...
ঈদের আনন্দ অসহায়দের ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহ...
মো. আনোয়ারুল ইসলামকুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল...
ব্রাহ্মণপাড়ায় বাবার অভিযোগে মাদকাসক্ত ছেলের কারাদণ্ড
মো. আনোয়ারুল ইসলামকুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাবার অভিযোগে মো. নুর...
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া'র ব্যক্তিগত উদ্যো...
কুমিল্লা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক জনাব মোস্তাক মিয়া'র ব্যক্তিগত উদ্যোগে ওনার নিজ বাসভবনে ঈদ-উল...
বিএনপি যা বলে তাই করে-কুমিল্লায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি উদ্বোধন...
নিজস্ব প্রতিবেদকখাদ্য, কৃষি, মৎস ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী আমিন- উর রশীদ বলেন, বিএনপি সরকার যা বলে তাই ক...
আধুনিকতায় রুপান্তরিত হয়েছে প্রাচীন চৌয়ারা বাজার
নিজস্ব প্রতিবেদকশত বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন চৌয়ারা বাজার। কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলাধীন কুমিল্...