প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 1 Mar 2026, 12:22 AM
নবীনগরে সানসাইন আলুর আশাব্যঞ্জক ফলন
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া মিনাজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএডিসি আলু-১ বা সানসাইন জাতের আলু উৎপাদন প্রদর্শনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উন্নত জাতের এ আলুর আকর্ষণীয় রং, সমান আকার ও উচ্চ ফলনের কারণে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে । কৃৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নবীনগর উপজেলার বিটঘর, পৌরসভা, ইব্রাহিমপুর ও নাটঘর ইউনিয়নে মোট ৫টি স্থানে ৫ বিঘা জমিতে সাইসাইন জাতের আলু উৎপাদন প্রদর্শনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ২৮৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। তারমধ্যে নতুন জাত হিসেবে ফলন পার্থক্য বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ৫ বিঘা জমিতে। অন্যান্য জাতের তুলনায় আলুর উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। প্রদর্শনী প্লটে হেক্টরপ্রতি ফলন ৩৫ থেকে ৪০ মেট্রিক টন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। শতাংশপ্রতি গড় ফলন প্রায় ৩ মণ। সানসাইন জাতটি স্বল্প মেয়াদি— গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই আহরণযোগ্য হয়। ফলে কৃষকরা কম সময়ে বাজারজাত করতে পারছেন। এই জাতের আলুর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে উজ্জ্বল হলুদাভ রং, মসৃণ চামড়া এবং প্রায় সমান ও মাঝারি আকার। সব আলু একই সাইজের হওয়ায় বাজারজাতকরণ সহজ হয়। এটি যেকোনো আবহাওয়ার জন্য উপযোগী জাত। এছাড়া ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ৪-৫ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর ব্লকের কৃষক আমির হোসেন জানান, “আমি আগে ডায়মন্ট আলু আবাদ করতাম, এবার উপসহকারী কৃষি অফিসারের মাধ্যমে সানসাইন জাতের আলু চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারে এর চাহিদা ভালো থাকবে বলে আশা করছি।” ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজা বেগম বলেন, “উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার, বীজ এবং পরামর্শ নিয়ে এক বিঘা জমিতে সানসাইন জাতের আলু আবাদ করেছি। ৩৩ শতকে প্রায় ১০০ মনের বেশি আলু উত্তোলন হয়েছে। স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় এই জাত লাভজনক মনে হয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করে ভালো ফল পেয়েছি।” এ প্রসঙ্গে নবীনগর উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, “বিএডিসি আলু-১ বা সানসাইন জাতের আলুর গড় বয়স ৬৫ থেকে ৭০ দিন। এটি একটি সুপার ভ্যারাইটি, স্বল্প দিনের উচ্চফলনশীল জাত। শতাংশ প্রতি গড় ফলন প্রায় ৩ মনের অধিক। ফলন সস্তোষজনক হওয়ায় আগামী বছর এ জাতের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা আরও বৃদ্ধি করা হবে।” কৃষি বিভাগ জানায়, নভেম্বর মাস (মধ্য-কার্তিক থেকে মধ্য-অগ্রহায়ণ) এ জাতের রোপণের উপযুক্ত সময়। বিঘা প্রতি (৩৩ শতকে) প্রায় ২০০-২১০ কেজি বীজ আলু প্রয়োজন হয়। বীজ রোপণের আগে শোধন ও অঙ্কুরিত বীজ ব্যবহার করলে ফলন আরও বৃদ্ধি পায়। কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বাড়াতে এ ধরনের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
প্রাথমিকের বৃত্তি: মেধা নাকি কোটা? প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে ফলাফলের...
হোমনা( কুমিল্লা) প্রতিনিধি :প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পর্যায়ের বৃত্তি প্রদান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে...
পুত্রসন্তানের মা হলেন করিশমা
বলিউড অভিনেত্রী করিশমা তান্না ও তার স্বামী বরুণ বাঙ্গেরা প্রথম সন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। গুরু পূর্ণিম...
কুবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা; বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের...
আব্দুল্লাহ, কুবি প্রতিনিধি:কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ...
কুমিল্লায় ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনে দিনব্যাপী ক...
আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কুমিল্লায় দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মুক্তি...
চাঁদপুর পৌরসভার ২শ ৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
কাজী নজরুল ইসলামনতুন কোন কর আরোপ ছাড়াই চাঁদপুর পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের জন্য ২০৫ কোটি ৫৪ লাখ ২৫...
ব্রাহ্মণপাড়ায় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসার শিক্ষক তোফায়েল আহমেদ আ...
মো. আনোয়ারুল ইসলাম।।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাগাইশ গ্রামের জাহিদুল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ...