প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 10 Apr 2026, 10:28 AM
কুমেকে চরম স্বাস্থ্য সংকট!
মাহফুজ নান্টু
জায়গা সংকুলান ও শয্যা সংকটে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) শিশু বিভাগ। হাম সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে কুমিল্লা ও আশপাশের জেলা থেকে আসা শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি তিনটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না—বারান্দা ও মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা।
অন্যদিকে, শিশুদের জন্য নির্মিত ১০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল ভবন দেড় বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায়। দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে কুমেকের শিশু বিভাগ ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের টানাপোড়েনে জরুরি এই সময়েও চালু করা যায়নি হাসপাতালটি।
৬ এপ্রিল সোমবার সরেজমিনে কুমেকের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় একটি ও দ্বিতীয় তলায় দুটি কক্ষ মিলিয়ে তিনটি আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর থেকে আসা অন্তত ৩২ জন শিশু। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকেই বারান্দায় চাটাই পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, কেউ কেউ মেঝেতেই বিছানা পেতে রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ না থাকায় গাদাগাদি অবস্থায় ঝুঁকির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে আসা হামে আক্রান্ত ৬ মাস বয়সী শিশু আয়াতের মা ফারজানা আক্তার বলেন, “শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এখানে আনা হয়েছে। ভেন্টিলেশনে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু জায়গার খুব কষ্ট।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে আসা ৫ মাস বয়সী রাজুর বাবা সুখেন দাশ জানান, “ডাক্তার কুমিল্লায় পাঠিয়েছে, কিন্তু এসে কোনো সিট পাইনি। বারান্দাতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।”
কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, ৪০ শয্যার বিপরীতে সাধারণ সময়েই তিনগুণ রোগী থাকে, আর হাম সংক্রমণের পর চাপ বেড়েছে আরও দ্বিগুণ। বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের রোগীরা ভালো চিকিৎসার আশায় এখানে ভিড় করছেন।
তিনি বলেন, পদুয়ার বাজার বেলতলীতে নির্মিত ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি চালু করা গেলে সংক্রমিত রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশনসহ বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। এতে কুমেকের ওপর চাপও অনেকটা কমে যেত।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পদুয়ার বাজার বেলতলীতে নির্মিত তিনতলা আধুনিক হাসপাতাল ভবনটি ঘুরে দেখা গেছে—পুরো অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও নেই চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি বা আসবাবপত্র। প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জটিলতায় হাসপাতালটি চালু করা যায়নি।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে ৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হয়। দেড় বছর আগেই হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব নির্ধারণ না হওয়ায় জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ হয়নি।
কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, “প্রথমে কুমেককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা নেয়নি। পরে আমাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনবল ও যন্ত্রপাতির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা হলে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেখানে একদিকে শিশু রোগীরা বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে, সেখানে আধুনিক একটি হাসপাতাল ভবন কেন দেড় বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকবে? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চলমান সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
অপ্রতীম হত্যায় চার অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ
কুমিল্লা প্রতিনিধি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযো...
মোবাইল ছিনিয়ে নিতেই নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে অপ্রতিমকে হত্য...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে...
অপ্রতিমকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি আমার রুহটাও চলে গেলে, আমার ফ...
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লা।। অপ্রতিম, আমার রুহটাও নিয়া গেলা তুমি। আমার ফড়িংটা ছবি তুলতে পছন্দ করত।...
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানা...
কুবি প্রতিনিধি:কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে, হ...
প্রথমে তুহিন পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের ম...
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছ...
বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ব...
মো.জাকির হোসেন। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে...