ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে মাদকবিরোধী ফেসবুক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের এক নেতার উপর দুই দফা হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ছাত্রদল নেতা টেটাঁবিদ্ধ, তার বাবা ও বড় ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন।
এসময় বাড়িতে ভাঙচুর ও মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনাও ঘটে।
গত বুধবার (৬ মে) রাত ১০ টার দিকে উপজেলার বাখরনগর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ছাত্রদল নেতা রহমতউল্লা, তার বাবা মতিউর রহমান,বড়ভাই রুহুল আমিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভতি করা হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ আলমগীর, ফরহাদ ও জাহাঙ্গীর নামের তিনজনকে আটক করেছে।
এই ঘটনায় আহত ছাত্রদল নেতা রহমত উল্লার বোন জামাই হবিউর রহমান বাদী হয়ে ১২জনের নামউল্লেখ করে একটি মামল দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের বাখরনগর গ্রামে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রহমাতুল্লাহ নিজের ফেসবুক আইডিতে মাদকবিরোধী একটি পোস্ট দেন। পোস্টটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়।অভিযোগ রয়েছে, রাত ৮টার দিকে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একই এলাকার ফরহাদ, আলমগীর,কাদির সহ কয়েকজন রহমাতুল্লাহর গতিরোধ করে তার ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে কোনো রকমে বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।কিন্তু সেখানেই শেষ হয়নি হামলা। রাত ৯টার দিকে সংঘবদ্ধ হয়ে একদল লোক রহমাতুল্লাহর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে। হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে রহমাতুল্লাহ, তার বাবা ও বড় ভাইকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
এসময় বাড়ির অন্তত ৯টি বাড়ি ভাঙচুর চালানো হয় এবং একটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। হামলার সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এবিষয়ে বাখরনগর গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে যারা প্রতিবাদ করছেন, তাদের উপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
এবিষয়ে গ্রামের দুলাল মিয়া জানান, “রহমত উল্লাহ একটি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়, এতে কারো নাম লেখা না হলেও ফরহাদকে মেনসন করা হয়, এই কারণে ফরহাদের সাথে সন্ধ্যায় কথা কাটাকাটি হয় রহমতুল্লাহর সাথে, পরে রহমতুল্লাহর বাড়িতে হামলা করা হয় আমি গিয়েছিলাম সেখানে তার বাবাকে বলেছি যা হয়েছে বিষয়গুলো সালিশকরে শেসকরে দেই তার বাবা আমার কথা রাখেনি। আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে এটা সঠিক না হামলার সময় আমি রাস্তায় ছিলাম।”
এবিষয়র ধরিয়াদৌলত ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহমাতুল্লাহ জানান, আমি বুধবার দুপুর বারোটার সময় আমার ফেসবুক আইডিতে মাদকবিরোধী একটা পোস্ট করি, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের গ্রামের ফরহাদ কাদির জাহাঙ্গীর আমাকে বুধবার সন্ধ্যা সাতটার সময় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথ আমার উপর হামলা করে মারধর করে সেখান থেকে কোন রকম আমি পালিয়ে আসছি,তারা আবার রাত ৯ টার দিকে তারা দলবল নিয়ে ২০/৩০ জন লোক আমাদের বাড়িতে হামলা চলায়। এসময় আমাকে টেটা বিদ্ধ করে আমার বাবা ও বড় ভাইকে ব্যাপক মারধর করে। এসময় নয়টি ঘরে ভাংচুর চালায় এবং একটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে। আমি ফেসবুক স্ট্যাটাসে কারো নাম উল্লেখ করে দেয়নি, তারা কেন আমার স্ট্যাটাসে এতো ক্ষিপ্ত হলো? মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে সুযোগ করে দিচ্ছেন আমাদের গ্রামের যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।"
এবিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, ফেসবুকে দেওয়া একটি মাদক সংক্রান্ত স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। ৩জনকে আটক করে আদালতে পাঠোনো হয়েছে।