প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 26 Jul 2026, 8:25 AM
তিতাসের শোলাকান্দি গোমতীর তীরে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙ্গুর
নাজমুল করিম ফারুক :
বাংলাদেশে আঙ্গুর চাষ এখনও খুব একটা পরিচিত নয়| তবে আগ্রহ, পরিকল্পনা
আর পরিশ্রম থাকলে যে অসম্ভবও সম্ভব হতে পারে, তারই এক অনন্য উদাহরণ গড়ে
তুলেছেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার শোলাকান্দি গ্রামের মো. মোজাম্মেল
হক| শখের বশে শুরু করা তাঁর আঙ্গুর বাগান এখন স্থানীয়দের কৌতূহল ও
আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু| নতুন লাগানো গাছেই থোকায় থোকায় আঙ্গুর ধরায়
প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন বাগানটি দেখতে|
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোমতী নদীর দক্ষিণ তীরে ৩১ শতাংশ জমিজুড়ে
বাঁশের খুঁটি, মাচা ও নেট দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে গড়ে তোলা হয়েছে
বাগানটি| নিচু জমিকে চাষের উপযোগী করতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে
বালি ও পলিমাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে| এরপর ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে
একুনো, বাইকুনো, ব্যাক ম্যাজিক, একাডেমি ও বরতুকাল জাতের ১৪৪টি
আঙ্গুরের চারা সংগ্রহ করে গত ১৬ মার্চ রোপণ করা হয়| প্রতিটি চারার দাম
ছিল ৪০০ টাকা| চারা, অবকাঠামো ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে এ
পর্যন্ত প্রায় চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে বাগানটিতে|
মো. মোজাম্মেল হক জানান, ইউটিউবে ঝিনাইদহের মহেশপুরের একজন সফল
আঙ্গুরচাষির বাগান দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন| পরে নিজে সেখানে গিয়ে
বাগান পরিদর্শন করেন এবং প্রায় পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি শেষে
আঙ্গুর চাষ শুরু করেন| তিনি আরো বলেন, রোপণের আড়াই মাসের মধ্যেই গাছে
ফল আসতে শুরু করেছে| অতিবৃষ্টি এবং বাগান নতুন হওয়ায় এবার ফলন
কিছুটা কম হতে পারে| তবে আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলনের আশা করছি|
একটি আঙ্গুরগাছ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ফল দিতে সক্ষম|
বাগান দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মইনুদ্দিন, শামীম ও আকলিমা বলেন,
দেশে এ ধরনের বিদেশি ফলের চাষ সম্প্রসারিত হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে|
এতে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি সাধারণ মানুষও তুলনামূলক কম দামে
এসব ফল কিনতে পারবেন|
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এ সময়ে প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি
উচ্চমূল্যের ফল চাষে আগ্রহ বাড়ানো গেলে কৃষির বহুমুখীকরণ সম্ভব হবে|
তিতাসের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য কৃষকের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস
হয়ে উঠতে পারে|
উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কাউছার আহমেদ
জানান, ফুল আসার আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে আঙ্গুর বিক্রির উপযোগী
হয়| বাগানটি আমি পরিদর্শন করেছি; বর্তমান অবস্থা ভালো| বেশি বেশি
ˆজব সার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে| তবে প্রচন্ড গরম হলে গাছের ফুল ও ফল
শুকিয়ে যায়|
এ বিষয়ে তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
মোজাম্মেল হকের আঙ্গুর চাষের বিষয়টি কৃষি বিভাগের নজরে রয়েছে|
প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও
কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে| পাশাপাশি বাগানটির কার্যক্রম নিয়মিত
তদারকি করা হচ্ছে|
ছবি একই ফাইলে আদালা পাঠানো হয়েছে|
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কুমিল্লায় বাড়ছে ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ
অশোক বড়ুয়াকুমিল্লা জেলায় ডেঙ্গু ও হাম—উভয় রোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা স্বাস্থ...
কুমিল্লায় কৃষকদলের ৮ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
আয়েশা আক্তারপরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের...
বদলি শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বললেন তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লা।।কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাত শি...
রূপসী বাংলা পত্রিকায় খবর প্রকাশের পর দ্রুত রাস্তা চলাচলের...
মোঃ আবদুল আলীম খান সামান্য বৃষ্টিতেই জলজট আর কাদামাটিতে একাকার হয়ে যেত কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া...
সবুজ পৃথিবীর প্রত্যয়ে ব্রাহ্মণপাড়ায় ৫০০ গাছের চারা বিতরণ
মো. আনোয়ারুল ইসলাম।।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাগাইশ গ্রামের জাহিদুল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যালা...
পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডস্থ আর্ট নার্সিং কলেজে ফুড ফেয়ার অনুষ...
শ্যামল বড়ুয়াসুস্থ অসুস্থ মানুষের ঔষধের পাশাপাশি খাদ্যের ভূমিকা অপরিসীম, সেই নিরিখে নার্সিং শিক্ষার...