আয়েশা আক্তার।।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, জুলাই যোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে আরেকবার স্বাধীন করেছে। তাদের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার কথা শুধু মুখে বললে হবে না, বরং তা কর্মে, দায়িত্ববোধে এবং অন্তরে ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকারীরা যে সুন্দর ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই এখন সবার দায়িত্ব। এজন্য দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠ প্রাঙ্গণে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
মন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনকারীরা একটি সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিল। আমরা চাই, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে। তাদের ত্যাগ, রক্ত ও আত্মদান যেন কোনোভাবেই বৃথা না যায়—সেদিকে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, আজ আমরা এখানে যারা উপস্থিত হয়েছি, সবাইকে একটি শপথ নিতে হবে—আমরা শহীদদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেব না। ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালে যারা এ দেশকে ভালোবেসে মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
জাকারিয়া তাহের বলেন, দেশের বর্তমান সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারকে সহযোগিতা করা শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং নাগরিক দায়িত্বও। প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করলে দেশকে নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিন-রাত পরিশ্রম করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা ও দেশের মানুষের কল্যাণে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ জর্জরিত হয়ে পড়েছিল। দেশের অর্থনীতি ও সামগ্রিক ব্যবস্থায় নানা সংকট তৈরি হয়েছিল। এখন আপনারা যার যার অবস্থান থেকে দেশ গড়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করলে এ দেশ অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এ দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে। আমরা যদি আমাদের কাজটা সঠিকভাবে করতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ এ দেশের চেহারা বদলে যাবে।
কুমিল্লার শহীদ পরিবারগুলোকে বিশেষ আশ্বাস
কুমিল্লার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের শহীদ পরিবারগুলোকে কোনোভাবেই অবহেলা করা হবে না।
তিনি বলেন, কুমিল্লার গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবারকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই—আমার মন্ত্রণালয় থেকে অন্যান্য শহীদ পরিবার যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবে, ইনশাআল্লাহ আপনারাও সেই সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই পাবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ঘোষিত যেকোনো সুযোগ-সুবিধা কোনো শহীদ পরিবার না পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে তারা যাতে তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
‘জুলাইকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ধারণ করি’
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ দেশের ছাত্র-জনতা দীর্ঘদিনের চেপে থাকা স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। এই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না।
তিনি বলেন, ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে এ দেশের ছাত্র-জনতা দীর্ঘদিনের চেপে থাকা স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। তাদের আত্মত্যাগকে আমরা ভুলে যেতে দেব না। আমরা জুলাইকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ধারণ করি।
তিনি আরও বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সরকারের নেতৃত্বে এ দেশ পথ হারাবে না। আমরা বিশ্বাস করি, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাবে।
বিশ্বাস রাখো, ধৈর্য ধরো—হতাশ করবে না’
জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আশ্বস্ত করতে চাই, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তোমাদের যুগের মানুষ। তিনি তোমাদের ত্যাগ, তোমাদের ব্যথা এবং তোমাদের চাওয়া বুঝতে পারেন। সুতরাং বিশ্বাস রাখো, ধৈর্য ধরো—তোমাদের তিনি হতাশ করবেন না।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণ এবং তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র ও সরকারকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, কুমিল্লা বারের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুম, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসাইন, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ফয়সালুর রহমান পাভেল, যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজুদ্দিন রিয়াজ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক সেলিম রুবেল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লার আহ্বায়ক সাকিব হুসাইন।
এ ছাড়া সভায় কুমিল্লার বিভিন্ন পর্যায়ের জুলাই যোদ্ধা, গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিএনপির জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি এবং শহীদ পরিবারের পাশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।