প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: জাতীয় | প্রকাশ: 7 Sep 2026, 12:33 AM
আর রক্তপাত না, সমঝোতার রাজনীতি চাই: রাষ্ট্রপতি
দেশের রাজনীতিতে আর রক্তপাত নয়, বরং সমঝোতার রাজনীতি দেখার কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, “আমরা আর রক্তপাত দেখতে চাই না, আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই।”
রোববার বিকাল সাড়ে ৫টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড়মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটাই মির্জা ফখরুলের প্রথম নিজ জেলা সফর। দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার দুপুরে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছান তিনি। যেখানে তাকে স্বাগত জানান ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক।
সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি তার শৈশব, স্কুল জীবনের স্মৃতি, প্রিয় শিক্ষকদের কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, “আমার জন্ম এখানে। আমার শৈশব কেটেছে এখানে, আমার স্কুলজীবন এখানে। আমার শিক্ষকদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, তারা আমাকে মানুষ করেছেন। আমি রুস্তম আলী স্যার ও খান ইউসুফ স্যারকে ভুলতে পারি না। তারা আমাকে গড়ে তুলেছেন, চলতে শিখিয়েছেন, সততা ও নেতৃত্ব শিখিয়েছেন। এই জিনিসগুলো আমি কখনো ভুলতে পারবো না।
“আসুন, এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমাদের সকলের মধ্যে ঐক্য থাকবে, ভালোবাসা থাকবে। ৫ অগাস্টের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটা ছোট্ট বিবৃতি দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, আমরা অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তপাতের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটা সুযোগ পেয়েছি। আসুন, আমরা সংঘাত নয়, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এমন একটা সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে আমরা সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবো।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “আমরা দেখতে চাই না, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হোক। আমরা দেখতে চাই, সবাই একসঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার নিয়ে বসবাস করুক।”
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে বলব- আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু সংঘাতে কখনো জড়াবেন না।”
তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনি প্রচারে এসেছিলেন। তিনি আপনাদের সামনে কতগুলো কথা দিয়েছিলেন। আমরা যে দাবিগুলো রেখেছিলাম, তার মধ্যে ছিল আমাদের একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। এখানে মেডিকেল কলেজের কথা বলেছিলাম। মেডিকেল কলেজ হয়েছে, জায়গাও ঠিক হয়ে গেছে, আগামী বছর থেকে ইনশাআল্লাহ ছাত্রভর্তি শুরু হবে। আমাদের ভূল্লী ও রুহিয়ার দুইটা আলাদা উপজেলা করার দাবি ছিল আপনাদের, দুটোই হয়ে গেছে, ইউএনও যোগ দিয়েছেন এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে।”
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর ও শিল্পায়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, “ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর আপনারা চাইছিলেন, আমি রাজি হয়েছি আপনাদের কথায়। বিমানবন্দর হলে আমাদের সাধারণ মানুষ খুব একটা উপকৃত হবে তা নয়, কিন্তু যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন তাদের জন্য সহজ হবে। কিন্তু বিমানবন্দরটাকে যদি চালু করতে হয়, ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে আমাদের এখানে কলকারখানা বাড়াতে হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে।
“আমাদের এখানে কল-কারখানা, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি একদম নেই। মানুষের কাজ নেই। এই কাজের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সরকারে আসার পর পরই আমরা এখানে অর্থ উপদেষ্টাকে নিয়ে এসেছিলাম, তিনি পুরো জায়গাটা দেখেছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীও এসেছিলেন, তিনিও সব ঘুরে দেখেছেন। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য কিছু বিনিয়োগকারীকে এখানে নিয়ে আসতে সক্ষম হব।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, “মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার লোক নেওয়া হবে, তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে লোকজন একেবারে বিনা খরচে যেতে পারবে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফ সাহেবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তিনি আমাদের ঠাকুরগাঁও থেকেই এটা শুরু করবেন। তবে আমার একটা অনুরোধ, নিজের পায়ে নিজে না দাঁড়ালে কেউ দাঁড় করিয়ে দিতে পারবে না। শুধু চাকরি আর ঠিকাদারির পেছনে দৌড়াবেন না, নিজেরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার চেষ্টা করুন।”
নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান, রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইএসডিওর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ শহীদ উজ-জামান।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ৬ তলা মেসবাড়ি ধস: ধ্বংসস্তূপের নিচ থে...
“আটকে পড়া বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ফোন করছেন। ঠিক কতজন ভেতরে আছেন–পাঁচ, দশ নাকি...
দাউদকান্দিতে দুই মাসে বিপুল মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার...
নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানায় গত দুই মাসে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন...
চান্দিনায় বীনা রাণী হত্যা! ৩ সপ্তাহেও উদঘাটন হয়নি রহস্য, বাড়...
সোহেল রানা:চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিকুমিল্লার চান্দিনায় নিজ বসতঘরে ঢুকে বীনা রাণী রায় (৫৮) নামে...
রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিংয়ে ডিপ্লোমা করলেন লালমাইয়ের ডা. আলমগী...
কাজী ইয়াকুব আলী নিমেলকুমিল্লার লালমাই উপজেলার কৃতী সন্তান ডা. আলমগীর হোসেন রেডিওলজি অ্যান্ড ইম...
শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতি সংরক্ষণে ভাষা কমপ্লেক্স স্থা...
কুমিল্লা জেলা সংবাদদাতা,৬ সেপ্টেম্বর: কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরীর...
ব্রাহ্মণপাড়ায় রেস্টুরেন্ট মালিকের ঘর থেকে কর্মচারীর ঝুলন্ত ম...
মো. আনোয়ারুল ইসলাম।।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় রেস্টুরেন্ট মালিকের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মো. সিফাত হৃদয়...