নিজস্ব প্রতিবেদক,দাউদকান্দি
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ‘অপপ্রচার’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলার স্বল্পপেন্নাই গ্রামের বাসিন্দা ও সমাজসেবক মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, শামসুল হক ভূঁইয়া, আলমগীর হোসেন বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া,মনিরুজ্জামান প্রধান,মো. শাহজাহানসহ স্থানীয়রা।গত সোমবার গণমাধ্যমের কাছে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁরা এ প্রতিবাদ জানান।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বল্পপেন্নাই গ্রামের বাসিন্দা সোহেল মিয়া ও তার পরিবারের লোকজনের বসতবাড়ি থেকে বের হওয়ার চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে গ্রামের বাসিন্দা ও গণ্যমাণ্যব্যক্তি, দানবীর পরিবারের সদস্য মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, শামসুল হক ভূঁইয়া, আলমগীর হোসেন,মো. শাহজাহান ও বিল্লাল হোসেন ভূঁইয়া চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য দায়ী করা হয়। তবে ভিডিওতে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার কোনো কারণ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়নি এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ , তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়নি বলে দাবি প্রতিবাদকারীরা।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, ঘটনাটিকে একতরফাভাবে উপস্থাপন করে একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, এতে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
গ্রামের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা জানান, সোহেল মিয়ার পঞ্চম পূর্বপুরুষ সাইজুদ্দিন মিয়া স্বল্পপেন্নাই গ্রামের লক্ষণ দিঘীর সাবেক ৩২৫ দাগের জায়গা ১৯২৩ সালের কবুলিয়ত মূলে ৬৮ শতক দিঘীজলাশয় স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম হোসেন ভূঁইয়ার কাছে ফেরত পাওয়ার শর্তে বন্ধক রেখে টাকা নেন।নির্দিষ্ট সময়ে টাকা পরিশোধ করতে না পারায়, টাকার পরিমাণ অনুযায়ী তৎকালীন বাজারদর বিবেচনা করে ৩০ শতক জায়গা সাইজুদ্দিন মিয়া গোলাম হোসেনের কাছে বিক্রি করেন এবং অবশিষ্ট ৩৮ শতক জমি মুক্ত করেন।
তাদের ভাষ্য মতে, গোলাম হোসেন ভূঁইয়ার মালিকানাধীন ৩০ শতক জমি স্থানীয় জারু মিয়া ও তার বাবা কেরামত আলী যৌথভাবে ক্রয় করেন। পরে তাদের কাছ থেকে একই গ্রামের শমশের আলী ভূঁইয়া ও আব্দুলজলিল ভূঁইয়া আপন দুই ভাই ওই ৩০ শতক জমি ক্রয় করেন। অপর একটি দলিলের মাধ্যমে সাইজুদ্দিন মিয়ার ৩৮ শতক জমি থেকে তাঁর ওয়ারিশদের কাছ থেকে আরও ১৫ শতক জমি শমশের আলী ভূঁইয়া ও আব্দুল জলিল ভূঁইয়া ক্রয় করেন।
পরে প্রথম দলিলে ক্রয়কৃত ৩০ শতক এবং সাইজুদ্দিন মিয়ার ওয়ারিশদের কাছ থেকে কেনা ১৫ শতকসহ মোট ৪৫ শতক জায়গা ছাড়াও মোট ১১০ শতক জায়গা ১৯৬০ সালে স্বল্পপেন্নাই মাদ্রাসা ও মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেন। তাঁদের দাবি, ওয়াকফ দলিলে উল্লেখিত চৌহদ্দি অনুযায়ী সোহেল মিয়া বর্তমানে মসজিদ ও মাদ্রাসার জায়গায় বসবাস করছেন।
এ নিয়ে এর আগে একাধিকবার বিরোধ সৃষ্টি হলে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয় । তাঁদের ভাষ্য, পূর্বের কয়েকটি সালিশ বৈঠকে সোহেল মিয়া ওই জায়গার দখল ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন এবং এ বিষয়ে লিখিত প্রমাণও রয়েছে।প্রতিবাদকারীদের দাবি, ব্যক্তি স্বার্থে নয়, মসজিদ ও মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের জন্য জায়গাটি খালি করে দিতে সোহেল মিয়াকে একাধিকবার অনুরোধ করেন। তবে সোহেল মিয়া বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সোহেল মিয়া বলেন, তাঁর পূর্বপুরুষ সাইজুদ্দিন মিয়া খাজনা দিতে না পারায় সরকার নিলামে দিঘীজলাশয়ের জায়গাটি নিয়ে গেছে। তাঁরা বর্তমানে সরকারি জায়গাতেই বসবাস করছেন। সরকার জায়গাটি ছেড়ে দিতে বললে তিনি ছেড়ে দেবেন ।
এ বিষয়ে গৌরীপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন বলেন, সোহেল মিয়ার দখলে থাকা জায়গাটির মালিকানার সঠিক কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দলিল ও খতিয়ান রয়েছে। শুনেছি, দলিল ও খতিয়ান অনুযায়ী জায়গাটি পূর্বে পরিমাপ করা হয়েছে। পূর্বের পরিমাপের সীমানা সঠিক হয়ে থাকলে, এ সীমানায় সরকারের কোনো খাস খতিয়ান নেই। দিঘির কিছু অংশে খাস খতিয়ান রয়েছে।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, সোহেল মিয়ার নামে নিজস্ব কোনো জায়গা না থাকায়, শমশের আলী ভূঁইয়ার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হালিম ভূঁইয়া মসজিদের এই জায়গাটির দখল ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের দুই শতাংশ ভরাট বাড়ি সোহেল মিয়াকে এক বছর আগে দানপত্র দলিল মূলে রেজিষ্ট্রি করে দেন।
দানপত্র সূত্রে পাওয়া দুই শতাংশ জায়গা সোহেল মিয়া রক্ষণাবেক্ষণ করলেও মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে ওয়াকফ করা জমি ছাড়তে সোহেল মিয়া রাজি নন বলে দাবি করেন প্রতিবাদকারীরা।প্রতিবাদকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ঘটনা প্রচারের আগে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের বক্তব্য নিয়ে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান।