...
শিরোনাম
মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কুসিকের মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ে না নগরীতে ⁜ গভীর রাতে বিজিবিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে এমপি জসিমের অভিযান, তিন মোটরসাইকেল আটক ⁜ কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ৮ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে ও বাজি উদ্ধার ⁜ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সৌজন্য সাক্ষাৎ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ⁜ মুরাদনগরে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ৮ মাদকসেবী গ্রেপ্তার ⁜ বরুড়ায় মঞ্চনীড় থিয়েটারের ইফতার ⁜ লালমাইয়ে সাংবাদিকদের সম্মানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ইফতার ⁜ কুবিতে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানে পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন ⁜ সদর উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে মনিরুল হক চৌধুরীর ইফতার ⁜ ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে সেমিনার ও ইফতার ⁜ কুমিল্লায় ইসকনের সাবেক সেক্রেটারিকে হয়রানির অভিযোগে পর্নোগ্রাফি মামলায় আইনজীবী গ্রেফতার ⁜ বুড়িচংয়ে মাদক সেবনের দায়ে ৫ যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড ⁜ মাটি কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মনির চৌধুরী এমপির কঠোর বার্তা ⁜ আমি নিজে অপকর্ম করব না, কাউকে করতেও দেব না-জসীম উদ্দীন এমপি ⁜ কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে ⁜ কুমিল্লা জেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ⁜ চান্দিনায় একই ঘরে মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ, এলাকায় চাঞ্চল্য ⁜ ব্রাহ্মণপাড়ায় দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে এমপি জসিম উদ্দিনের মতবিনিময় ⁜ কুমিল্লাকে বাঁচাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ-মনিরুল হক চৌধুরী এমপি ⁜ খামেনির লৌহকঠিন শাসনের অবসান ⁜
Author Photo

প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: জাতীয় | প্রকাশ: 13 Jan 2026, 11:49 PM

...
দান্তে News Image

জুলফিকার নিউটন

বাস্তব জীবনের সঙ্গে সুদুরপ্রসারী কল্পনা বিস্তার করে যে কবি , পুরগাতোরিও (স্বর্গের আগের লোক) , নরকের একসূত্রে বেঁধে ছিলেন তিনি দান্তে এলিসিইয়া। অতবড়ো কল্পনাশক্তি নিয়ে আর কোনো কবি জন্মগ্রহন করেছিলেন বলে মনে হয় না। অন্যরা খন্ড কল্পনার কবি। কিš‘ দান্তের কল্পনা প্রবাহ নদীর মতো অবিরাম গতিতে বয়ে চলেছে।

ডিভাইন কমেডির রচয়িতা দানেতর জন্ম উত্তর ইটালির ফ্লোরেন্স নগরে ১২৬৫ সালে। সম্ভবত মে মাসের কোনো এক দিন। তার পিতার নাম এলিসিইয়া মাতার নাম বেল্লা। তাদের বংশ প্রাচীন হলেও সম্ভ্রান্ত বনেদি পরিবার হিসেবে গন্য হত না। পরে যখন এক পূর্বপুরুষ নাইট উপাধিতে ভুষিত হন তখন থেকে তারা সম্ভ্রান্ত বংশীয় বলে চিহ্নিত হয়ে যান।

দান্তের বয়স যখন ছয় তখন তার মাতার মৃত্যু হয়। পিতা দ্বিতীয় বার বিবাহ করেন। দান্তের বয়স যখন আঠেরো বছর তখন তার পিতার মৃত্যু হয়। এরপর বিমাতা তাঁর অভিভাবিকা হলেন। পিতার জীবিতকালেই দান্তের লেখাপড়া শুরু হয়। বাড়িতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত হবার পর তাঁকে পাঠানো হয় সান্তাক্রোচের মঠে। সে সময় খ্রিষ্টান যাজকদের মঠই ছিল শিক্ষালাভের কেন্দ্র এখান থেকে চতর শিক্ষলাভের উদ্দেশ্যে তিনি পরে বোলাঞোতেও গিয়েছিলেন। সেকালে যত বিষয় পড়ানো হত সেসব বিদ্যাই তিনি আয়ত্ত করেছিলেন। ধর্ম, দর্শন, সাহিত্য, সংগীত, শিল্প, বিজ্ঞান, অলংকার শাস্ত্র ইত্যাদি সব বিষয়েই দান্তে পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন।

কিš‘ কাব্য রচনা ছিল তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। যৌবনে পা দেবার পূর্ব থেকেই দান্তে কবিতা লিখতে আরম্ভ করেন। অন্যান্য কবিদের সঙ্গে কবিতা বিনিময় করা ছিল রীতি, ফ্লোরেন্সের দুই শক্তিশালী কবি গুইদো গুইনিৎসেল্লি ওগুইদো কাভালকান্তির সঙ্গে পরিচয় হল। তাঁদের কবিতার মুখ্য বিষয় ছিল প্রেম। এই নবীন কবিদের রচনাশৈলীকে রম্যরীতি বলা হয়।

ফ্লোরেন্স নগরের পরিবেশ কাব্যপ্রতিভা বিকাশে যথেষ্ট অনুকুল ছিল। বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি ছাড়া এখানে শিল্প, ¯’াপত্য, সাহিত্যপ্রভ...তি বিষয়ে চর্চা কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল ইউরোপের সর্বত্র। সাহিত্যে দান্তে এবং শিল্পে তাঁর বন্ধু গিওত্তো যে কাজ করে যান তা ছিল ইটালিতে রেনেসাঁসের অন্যতম প্রেরণা। এই নব যুগে সাহিত্যে অগ্রপথিক ছিলেন দান্তের ভক্ত এবং তাঁর প্রথম জীবনীকার বোক্কািচ। একালে বিখ্যাত শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, মাইকেল এঞ্জেলো প্রমুখ ছিলেন ফ্লোরেন্সের নাগরিক।

দান্তের কাব্য রচনায় নতুন প্রেরণা আসে ১২৭৫ সালে যখন এক সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি বিয়াত্রিচে পোরিতিনারিকে দেখেন। আনন্দদর্শন বিচ্যাত্রিচের বয়স মাত্র নয়। দান্তের বয়স বছর দশেক। লাবন্যময়ী বালিকার নিস্পাপ মুখশ্রীর মধ্যে বালক কী দেখতে পেয়েছিল কে জানে! কল্পনায় তিনি গড়লেন এক অপূর্ব মূর্তি। যার মধ্যে মিশেছে পৃথিবীর সকল নারীর মাধুর্যের ঐশ্বর্য। আর একাবার তাঁদের দেখা হয়েছিল যখন বয়স চোদ্দো কি পনেরো। পরে বিয়াত্রিচে  পোরতিনারির বিয়ে হয়ে যায় সিমোনো দেই বারদির সঙ্গে। কিš‘ জুন ১২৯০ সালে মাত্র চব্বিশ বছর বয়েসে বিয়াত্রিচের মৃত্যু হয়। দান্তের বয়স তখন পঁচিশ।

দান্তের প্রেম শুধুই প্লেটোনিক ছিল, এই ব্যাখ্যায় তার সব পাঠক ...প্ত হতে পারে না। তাদের অনেকের প্রশ্ন দান্তে কেন একাবারও বিয়ের প্রস্তাব দিলেন না?উত্তরে বলা যায়, তার পিতা অনেক পূর্বেই সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে জেম্মার সঙ্গে পুত্রের বিবাহ ¯ি করে রেখেছিলেন। মধ্যযুগীয় পিতার ¯ি সিদ্ধান্তকে পালটে দেবার কথা তিনি হয়তো ভাবতে পারেননি। অথবা তার কবি মানসিকতার কালিমালিপ্ত জীবনের মধ্যে মানসীকে টেনে এনে কল্পনার সৌন্দর্যজাল ছিন্নভিন্ন করে দিতে ছিলেন অনিছুক , প্রথম দর্শনেই যে অলৌকিক লাবণ্যময়ীর সৌন্দর্যলোক মনে উদ্ভাসিত হয়েছিল তাকে তিনি পৃথিবীর বলে মনে করতে পারেননি। দান্তে তার ভিতা নুওভা কাব্যগ্রšবলেছেন বিয়াত্রিচের দর্শন আনন্দময়। পূর্বেই বলেছি তখন কবিদের প্রধান উপজীব্য বিষয় ছিল প্রেম। প্রেয়সীর সঙ্গে মিলন না ঘটলে তারা তাদের রচনা অশ্রুজলে সিক্ত করতেন। দান্তের কাব্যে প্রেম ছিল, কিš‘ ছিল না প্রেয়সীকে পাওয়ার জন্য করুন আকুতি। বিয়াত্রিচেকে দেখতে পাওয়া তিনি মনে করতেন এক অলৌকিক আনন্দময় সৌভাগ্য হৃদয়ের পাওয়াটাই বড়ো জীবনে পাওয়ার জন্য অশ্রুসজল প্রার্থনা নেই।

নিশ্চিন্তে কাব্য সাধনায় রত থাকবার সৌভাগ্যে দান্তে পাননি। তাঁর জীবন নানা সংঘাতের মধ্য দিয়ে চলেছে। তিনি একাধারে কবি, দেশপ্রেমিক, যোদ্ধা কুটনীতি বিশাদরত নির্বাসনদগুভোগী। তার এই সব বিভিন্ন সত্তার মিলিত রূপ আমরা দেখতে পাই দ্য ডিভাইন কমেডির মধ্যে। তার জীবনে রচনায় মধ্যযুগীয় সব লক্ষণ দেখা গেলেও তিনি ইউরোপীয় নবজাগরনের অগ্রদুত ছিলেন। রেনেসাঁসের যে সব আভাস তার মধ্যে আমরা পাই তাদের গভীর মানবতাবোধ, ধর্মের একাধিপত্যের প্রতিবাদ, বিশ্ববোধ এবং ক্ল্যাসিকাল ভাষার পরিবর্তে জনগনের ব্যবহৃত ভাষার প্রতি আকর্ষণ প্রভ...তি উল্লেখযোগ্য।

বিয়াত্রিচের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সাত বছর তিনি বিবাহ করবেন কিনা সে বিষয় মন¯ি করতে পারেননি। অবশেষে ১২৯৭ সালে পিতার মনোনীত পাত্রী জেম্মাকে বিবাহ করেন। দুই পুত্র দুই কন্যার জনক দান্তে সাংসারিক কাজকর্মে বিশেষ উৎসাহী ছিলেন না। ১২৯০ সালের পর থেকে তিনি দর্শনশাস্ত্র পাঠে মগ্ন হন। কিছুকাল গ্রš’লোকে বিচরণের পর ফ্লোরেন্সের নাগরিকদের আহ্বানে যোগ দিলেন কর্মক্ষেত্রে। ১২৯৫-৯৬ সালে তিনি জাতীয় পরিষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর পরিষদের পক্ষে দূত হিসেবে তাকে পাঠানো হয় সান ডিমিঞানো শহরে। এই কাজ সমাধা করে আসবার পর দান্তের বড়ো চিন্তার কারণ হল কী করে ফ্লোরেন্সের স্বাধীনতা রক্ষা করা যায়। তার চিন্তার শরিক ছিলেন নেত...¯’ানীয় অন্যান্য ব্যক্তিরাও

এখানে ফ্লোরেন্সের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্বন্ধে দুই একটি কথা বলা প্রয়োজন। দান্তের জন্মসময় ইটালি দুটি রাজনৈতিক দলে বিভক্ত ছিল। একটির নাম গুত্রলফো, অপরটি গিবেল্লিলো। গুত্রলফো দলে ছিল নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকেরা, আর চবিত্ত বংশের লোকেরা যুক্ত ছিল গিবেল্লিলো দলের সঙ্গে। দান্তে যখন যৌবনে পদার্পণ করেন তার অনেক পূর্বেই তাঁদের পরিবার পূর্বপুরুষের ঐশ্বর্য হারিয়ে সমাজে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে নেমে এসেছে। সম্ভাবতই এই স্তরে পৌছে তারা গুত্রলফো দলের সমর্থক হন। দুই দলের রক্তাক্ত কলহে ফ্লোরেন্সের ত্রয়োদশ শতকের ইতিহাস কলঙ্কিত। দলের সমর্থক হিসেবে ১২৮৯ সালে দান্তে কামপালদিনো যুদ্ধক্ষেত্রে একজন প্রথম সারির অশ্বারোহী যোদ্ধা হয়ে লড়াই করেন গিবেল্লিনির বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তিনি পরবর্তীকালে তার মহাকাব্যে উল্লেখ করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি যখন শত্রুপক্ষকে বিপর্যস্ত করতে ব্যস্ত, সেই সময় জানতে পারলেন বিয়াত্রিচের মৃত্যু সংবাদ। এক মুহুর্ত নিভ...তে বসে লাবণ্যময়ী বিয়াত্রিচকে স্মরণ করবেন তার উপায় ছিল না।

দান্তে ছিলেন দেশপ্রেমিক। নাগরিকরা যাতে সুশাসন পেয়ে সমৃদ্ধশালী হতে পারে সেদিকে ছিল তার প্রখর দৃষ্টি। সৌভাগ্যবশত ফ্লোরেন্স নগরী এবং তুসকানি প্রদেশ কোনো জবরদস্ত সম্রাটের অধীনে ছিল না। নাগরিক সংঘ ফ্লোরেন্সের প্রশাসনিক দায়িত্ব পারন করত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে।

কোনো জবরদস্ত সম্রাটের চোখ রাঙানি না থাকলেও ভয় ছিল পোপকে। তিনি তার সামগ্রিক আধিপত্য ফ্লোরেন্সের উপর বিস্তার করতে ব্যগ্র ছিলেন। পোপের ফাঁদে পড়বার অর্থ স্বাধীনতা বিকিয়ে দেওয়া, একথা উপলব্দি করেছিলেন দান্তে আরো কয়েকজন প্রভাবশালী নাগরিক। দান্তে এবং তার দলবল যে ধর্মরাজ্য ফ্লোরেন্সে বিস্তারের বিরোধী তা পোপ বিলক্ষণ জানতেন তিনজনের এক প্রতিনিধি দলকে তিনি তার দরবারেআমন্ত্রণ করলেন আলোচনার জন্য ঠিক একই সঙ্গে ফরাসি সম্রাটের ভ্রাতা চালসকে(ঈযধৎষবং ড়ভ ঠধষড়রং) পোপ নির্দেশ দিলেন তিনি যেন অবিলম্বে সিসিলি অভিযানের পথে ফ্লোরেন্স নগরী জয় করে সেখানকার প্রশাসনের সুষ্ঠু ব্যব¯’ করেন। চালস সহজেই ফ্লোরেন্সে আধিপত্য বিস্তার করে গুত্রলফো গোষ্ঠীর এক উপদল ব্ল্যাক (...ষ্ণ) এর উপর নগরীর শাসনভার ন্যস্ত করেন। এই ব্ল্যাক উপদল ছিল পোপের ভক্ত সুতরাং ক্ষমতালাভ করেই তারা পোপ বিরোধী নাগরিকদের বাড়িঘর ধনসম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল।

এইসব পরিবর্তন ঘটে গেল দান্তে পোপের দরবারে উপ¯ি হবার পূর্বে। প্রতিনিধি দলের তিনি ছিলেন অন্যতম সদস্য। কোনো সার্থক আলোচনা হল না পোপের সঙ্গে। দলের দুজনকে বিদায় দিয়ে পোপ আরো আলোচনার অজুহাতে দান্তেকে কয়েকদিন থেকে যেতে বললেন। অবশেষে দান্তে স্বদেশের অভিমুখে যাত্রা করে যখন সিয়েনা শহরে এসে পৌছোলেন তখন শুনতে পেলেন তার প্রতি দন্ডাদেশের কথা (২০ জানুয়ারী ১৩০২ সাল) দন্ডাদেশ ছিল এইরকম; পাঁচ হাজার ফেøারিন জরিমানা, দুবছরের জন্য নির্বাসন। তিনি আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ অবৈধভাবে নিজদলের স্বার্থে দেশের পৌর প্রতিষ্ঠানের ধনসম্পত্তি আত্মসাৎ , িচত তহবিল তছরুপ ইত্যাদি। বলাই বাহুল্য, দান্তে এইসব অভিযোগের উত্তর দিতে ফ্লোরেন্সে এলেন না বা জরিমানাও দিলেন না। জরিমানা না দেবার ফলে কিছুদিনের মধ্যেই দান্তেও তার বন্ধুদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির কথা ঘোষণা করা হল: যদি তাদের কাউকে ফ্লোরেন্সের সীমানার মধ্যে দেখা যায়, তাহলে পুড়িয়ে মারা হবে।

দান্তে তার আরো কয়েকজন সহকর্মী নির্বাসনদন্ড শোনবার পর ভেবেছিলেন ফ্লোরেন্সের এই অন্যায় কাজের জন্য তারা বিদ্রোহ করবেন। ফ্লোরেন্সে অত্যাচারী রাজশক্তির পতন ঘটিয়ে স্বদেশে প্রবেশ করবেন উল্লসিত গৌরবে। কিš‘ এই পরিকল্পনা যে একান্ত বাতুলতা সেকথা বুঝতে তাদের বেশি বিলম্ব হল না। তাহলে প্রতিকারের কি উপায় নেই। দান্তে ¯ি করলেন ফ্লোরেন্সে নির্বাসিত নাগরিকদের বেদনার করুণ কাহিনি তিনি প্রচার করবেন, তাহলে ফ্লোরেন্সের বাইরে বৃহত্তর সমাজে হয়তো সাড়া জাগবে, তারা সমর্থন লাভ করতে পারবেন। বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিশক্তিশালী ব্যক্তিদের নিকট দান্তে শতশত চিঠি লিখতে লাগলেন কিš‘ সেসব চিঠির কোনো উত্তর পেলেন না। তিনি হতাশ হয়ে চিঠি লেখা বন্ধ করলেন। তার মনে হল, চিঠির প্রভাব ক্ষণ¯’ায়ী, পড়বার পরেই ফেলে দেওয়া হয়। বড়ো লোকেরা তো অনেক চিঠি পড়েই না, সুতরাং দান্তে ভাবলেন চিঠি লিখে কিছুই হবে না, লিখবেন বই। সাহিত্য, রাজনীতি, ধর্ম প্রভ...তি নানা বিষয় বইয়ের মধ্যে দিয়ে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরবেন। পাঠকের সংগ্রহে , গ্রš’াগারে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরবেন। পাঠকের সংগ্রহে, গ্রš’াগারে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার বই থাকবে। বহুলোক পড়বে, এক পুরুষ থেকে অন্য পুরুষে সেই ভাবধারা বয়ে চলবে। সুতরাং একে একে বেরোতে লাগল তার বই। প্রথমেই বের হল দ্য ভুলগপারি এলোকোএনতিআ (ফব াঁষমধৎর বষড়য়ঁবহঃরধ) রচনাকাল ১৩০৪-০৬, তার উল্লেখযোগ্য গদ্যগ্রš’ লাটিনের পরিবর্তে ইটালিয়ান ভাষা ব্যবহারের সুপারিশ করেছেন দান্তে। ইটালিয়ান সংশ্লিষ্ট উপভাষাগুলির আলোচনা এই গ্রš মুখ্য বিষয়ব¯‘ মাত...ভাষার প্রতি আকর্ষণের সুচনা নব চেতনার দ্যোতক। এই আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে দান্তের ভাষা বিজ্ঞান সম্বন্ধে আলোচনাতেও কম আগ্রহ ছিল না।

এর পরের বই হল কনভিভিও (রষ পড়হারারড়) ১৩০৬-০৮ সালে। প্রায় ৭০,০০০ শব্দে ইটালিয়ান ভাষায় রচিত নিজের কয়েকটি কবিতার ব্যাখ্যা এবং দার্শনিক তত্ত্বের আলোচনা

পরবর্তী বই দ্য মনার্কিয়া (ফব সড়হধৎপযরধ)১৩১০-১৩ সালে। এখানে তার রাজনৈতিক ধর্মবিষয়ক মতামতের কথা লাটিন ভাষায় স্পষ্ট করে বলেছেন। রাজার শাসন সমাজের পক্ষে অত্যাবশ্যক কিš‘ এটা পার্থিব ব্যাপার মানুষের ঐশী ভাবনা পরিচালনার জন্য থাকবে পোপের বিধান। সম্রাট পোপ উভয়েই ঈশ্বরের বিধান মেনে চলবে। পার্থিব ক্ষেত্রে একজন শাসক হবেন নিয়ন্তা, তেমনি ধর্মের ব্যাপারে পোপ। দুইয়ের মধ্যে কোনো সংঘাতের অবকাশ নেই। কারণ, উপরে থাকবেন তাদের নিয়ন্তা ঈশ্বর। এই গদ্যগ্রš সঙ্গে কয়েকটি কবিতা সংযোজিত হয়েছে। গদ্যে যে ভাবনা দান্তে প্রকাশ করেছেন কবিতায় তারই প্রতিফলন দেখা যায়। দান্তে এই গ্রšপোপের একনায়কত্ব স্বীকার করেননি। এজন্য তার উপর ধর্মগুরুরা ক্রুদ্ধ ছিলেন। ১৩২৯ সালে পোপ জন ীীরর (দ্বাবিংশ) দ্য মনাকিয়ায় অগ্নিসংযোগ করেন।

উপরোক্ত গ্রš’গুলি তার বিভিন্ন বিষয় সম্বন্ধে চিন্তাভাবনার ফসল। নির্বাসন দন্ডের অনেক পূর্বেই তিনি সৃজনধর্মী সাহিত্য রচনা আরম্ভ করেছিলেন। প্রথম সৃষ্টি ধর্মী বই লা ভিতা নুওভা (ষধ ারঃধ হঁড়াধ)১২৮৩-৯২ বা নবজীবন। এই বই রচনা প্রেরণা লাভ করেছিলেন বিয়াত্রিচেকে দেখবার পর। ১২৭৪ সালে দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ , দীর্ঘ দশ বছর পর তিনি বিয়াত্রিচের অতীন্দ্রিয় সৌন্দর্যালোকে উদ্ভাসিত হয়েছেন এবং কল্পনায় গড়া প্রিয়ার মূর্তিকে মনের বেদিতে ¯’াপন করে মোহময় অলৈৗকিক স্বপ্নজাল বিস্তার করেছেন। এই কাব্যগ্রš’ যেন দান্তের আধ্যাত্মিক জীবন বিয়াত্রিচেকে কেন্দ্র করে কীভাবে একটু একটু করে বিবর্তিত হয়েছে তারই কাব্যময় ইতিহাস। এই ইতিহাস রচিত হয়েছে গদ্যে, গানে সনেটের সমন্বয়ে। প্রত্যেকটি কবিতায় ব্যবহৃত ছন্দের প্রয়োগ বৈশিষ্ট্য লেখক ব্যাখ্যা করেছেন পাদটীকায়।

১২৯০ সালে বিয়াত্রিচের মৃত্যুর পর দান্তে প্রেয়সীর প্লেটোনিক প্রেমের মূর্তিমতী রূপটি আরো উজ্জ্বলভাবে উপলব্ধি করেন। বিয়াত্রিচে মর্তলোকের কেউ নয়, সর্বদাই সে দেবদূতদের সঙ্গে বিচরণ করে এবং ঈশ্বরের সান্নিধ্যে তার অব¯’ান নিজের জীবনে বিয়াত্রিচের নিবিড় উপ¯িতি অনুভব করে তার পুরোনো জীবন জীর্ণ পাতার মতো খসে পড়ল, শুরু হল নতুন জীবন বা লা ভিতা নুওভা। বিয়াত্রিচে এই নবজীবনের পথে যাত্রা আরম্ভ করতে শুধু সহায়ক ছিল না, তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে গেছে মহিমাময় ঈশ্বরের কাছে। নবজীবন কাব্যগ্রš প্রথম সনেটে কবি স্বপ্ন দেখেছেন যেন তার হৃৎপিন্ড উৎপাটিত করে একটি পবিত্র পাত্রে সাজিয়ে তার প্রেমিকাকে দেওয়া েছ পূজার নৈবেদ্য হিসেবে। শরীরী প্রেমকে বিসর্জন দিয়ে প্লেটোনিক প্রেমের সন্ধানে অলৌকিক জগতে যাত্রার ইঙ্গিত। এই যাত্রার কাহিনী পরবর্তী সময়ে বর্ণিত হয়েছে অসামান্য কাব্যগুণ সম্পন্ন মহাকাব্য ডিভিনা কোমমেদিআ (ষধ ফরারহধ পড়সসবফরধ ১৩০৭-২১) নামক মহাকাব্যে। লা দিভিনা কোমমেদিআ দান্তের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। মধ্যযুগীয় সাহিত্যের একটি সর্বশ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। সমগ্র মহাকাব্যটি তিন পর্বে বিভক্ত নরক (১৩০০) পুরগাতোরিও (১৩০৮) স্বর্গ (১৩১১) এই তিনটি পর্ব পৃথকভাবে ১৩০৭ থেকে ১৩২১ এর মধ্যে বেরিয়েছিল। প্রত্যেকটি পর্বে তেত্রিশটি করে সর্গ এবং একটি সর্গ কবি ভুমিকা হিসেবে ব্যবহার করেছেন। দান্তের কাব্যরচনায় ইটালিয়ান ছন্দ টারজা রাইমায় রচিত। এই ছন্দটি তারই আবিস্ক...ত। শেলি, বায়রন এবং এলিয়ট এই ছন্দের ব্যবহার করেছেন। কবি স্বপ্নাবেশের মধ্যে দেখেছেন কীভাবে একজন জীবন্ত মানুষ নরক, পুরাগাতোরিও স্বর্গ ভ্রমন করছে। এই ভ্রমণের অনুপুঙ্খ বিবরণ কবি দিয়েছেন সুবিস্ত... কল্পনার সাহায্যে।

নরক, পুরগাতোরিও স্বর্গের বর্ণনায় দান্তে তার পূর্ববর্তী দার্শনিক, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ধর্মগুরু দের সৃষ্টিতত্ত্ব এবং জীবন সম্বন্ধে প্রচলিত মতবাদের ওপর ভিত্তি করে ডিভাইন কমেডির কাহিনি রচনা করেছেন। মধ্য যুগের সকল চিন্তাভাবনার মিলন ঘটেছে এই মহাকাব্যে। অতীতের ইতিহাস পুরাণ যেমন আছে তেমনি আছে সমসাময়িক ইতিহাসের কথা এবং সেই সঙ্গে মিলেছে তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা। প্রাচীন গ্রীক রোমান সাহিত্যিক দার্শনিকেরা যেমন এসেছেন, তেমনি দান্তের পরলোক ভাবনার সঙ্গে ভারতীয় দর্শন পুরানের ভাবনায় কিছু কিছু মিল দেখা যায়। মহাভারতে যুধিষ্ঠির যে নরক দেখেছেন তার অনেক বর্ণনার সঙ্গে দান্তের ইনফারনোর সাদৃশ্য দেখা যায়। জৈন দর্শনে নরকের সাতটি স্তর স্বীক... হয়েছে। ব্রহ্মবৈবর্তা পুরাণে পাপীদের পাপের গুরুত্ব বিচার করে বহ্নিকুন্ড তপ্তকুন্ড ইত্যাদি ছিয়াশিটি স্তরে বাস¯’ান নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

ডিভাইন কমেডিতে ¯’ান পেয়েছে তার বন্ধু শত্রুদের কথা, অনেক সমসাময়িক ঘটনা তার মহাকাব্যের মধ্য দিয়ে প্রচারলাভ করেছে পরবর্তীকালের সাহিত্যে। প্রত্যেকটি চরিত্র সুচিত্রিত এবং কাব্যে তাদের প্রবেশ প্র¯’ান নাটকীয় দান্তের কাব্য অপরূপ মাধুর্য মন্ডিত, তাই অননুকরণীয় , ইংরেজি ভাষায় ডিভাইন কমেডির সার্থক অনুবাদ সম্ভব হয়নি কাব্যগুণান্বিত মধুরভাষার জন্য। যদিও লা ভিতা নুওভার সার্থক অনুবাদ করেছেন দান্তে গ্যাব্রিয়েল রসেটি।

তখন দান্তের বয়স পঁয়ত্রিশ বৎসর। গুড ফ্রাইডের দিন তিনি স্বপ্নের জগতে বিচরণ করছেন। হঠাৎ দান্তের স্বপ্নের জাল একটু ছিন্ন হলে দেখলেন, তিনি এক গভীর অরণ্যে শুয়ে আছেন। বনের শেষ প্রান্তে দেখা যােছ আলোর রেখা, আরো দুরে পুরগাতোরিওর আলোকোজ্জ্বল শৃঙ্গ দেখা যােছ, আলোর আহানে তিনি বনের বাইরে যাবার জন্য উঠে দাড়ালেন। কিš‘ বাইরে যাবার উপায় নেই। একটি সিংহ, একটি চিতাবাঘ একটি নেকড়ে পথ আগলে দাড়িয়ে আছে। এই অব¯’ায় কী করবেন দান্তে যখন ভাবছেন তখনই সেখানে উপ¯ি হলেন ভার্জিল, তার প্রিয় কবি। ভার্জিল তাকে হাতে ধরে বাইরে নিয়ে এলেন, তারপর নিয়ে চললেন নরকের প্রবেশপথের দিকে নরক বা ইনফারনো (ওহভবৎহড়) আকার মোচার মতো। উপরের দিকের ছুচালো বিরাট এক মোচার আকারের মতো জায়গা।

নরকের বহিরাঙ্গনে দেখা গেল অসংখ্য প্রেতাত্মার ভিড়। ভিমরুল জাতীয় বড়ো বড়ো পোকার দর্শনে তাদের শরীর হতে রক্ত ঝরে পড়ছে। ভীরু এবং দোলায়মানচিত্ত মানুষদের মৃত্যুর পর এরকম শাস্তি পেতে হয়। সেই মোচাক...তি জায়গার প্রথম বৃত্তে দেখা গেল হোমার, ওহিদ, হোরেস প্রমুখের মতো লেখকদের, যারা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহনের সুযোগ পাননি। তারা নানা সদন্ডগুনের অধিকারী হলেও যিশুর ...পালাভ করতে পারেননি বলে নরকের প্রথম বৃত্তেই ¯’ান হয়েছে। অর্থাৎ তাদের পাপী চিহ্নিত করে যন্ত্রণাদায়ক কোনো শাস্তির ব্যব¯’ করা হয় নি। প্রক...তপক্ষে নরকের শুরু নিম্নাভিমুখী মোচাক...তির দ্বিতীয় বৃত্ত থেকে। যারা কামজ প্রেমে মত্ত হয়ে জীবন কাটিয়েছে, তারা এখানে লুটোপুটি খেয়ে ভেসে বেড়ােছ। মুহুর্তের জন্যও তাদের শান্তি নেই। দান্তে এদের মধ্যে দেখতে পেলেন ইটালির রাভেল্লা শহরের পাওলো ফ্রান্সেসকে, যাদের করুণ অবৈধ প্রেমের কাহিনি দান্তে প্রথম বিবৃত করেছেন এবং তারপর বহু গ্রš’ ¯’ান পেয়েছে। ...তীয় বৃত্তে দান্তে পেলেন পেটুকদের। ভোজন ছিল এদের একমাত্র আনন্দ। শাস্তির জন্য এদের রাখা হয়েছে কর্দমের স্রোতে। এদের উপর লক্ষ রাখছে এক ত্রিমুন্ডধারী ভীষণাক...তি পাহারাদার। পরের বৃত্তে দেখা গেল ...পণদের , তাদের শাস্তি একটা প্রকান্ড পাথরের চাইকে ক্রমাগত ঠেলে নিয়ে যাওয়া।। ভার্জিল এবার দান্তেকে নিয়ে গেলেন পঞ্চম বৃত্তে। সেখানে গিয়ে বয়ে চলেছে নরকের নদী ষ্টিকস। এখানকার ময়লা কাদার মধ্যে বাস করে শাস্তি পােছ তারা, যারা বদমেজাজের জন্য অন্যকে জ্বালাতন করেছে। পরবর্তী বৃত্ত নরকের দেবতার নিজস্ব শহর। হাজার হাজার পাহারাদার শয়তানের দল ভার্জিল দান্তের এগিয়ে যাবার পথে প্রবলভাবে বাধা ছিল। কিছুতেই তারা এগোতে দেবে না। শেষ পর্যন্ত দেবতারা এসে তাদের পথ মুক্ত করে দিলেন। একটু এগিয়ে তারা এসে পড়লেন এক বিস্ত... সমাধিক্ষেত্রে। এখানে দেখা গেল অগ্নিবর্ণ তপ্ত কবরের মধ্যে ধর্মে অবিশ্বাসী ব্যক্তিরা এবং যে সব ধর্মগুরু ভ্রান্ত শিক্ষা দিয়েছে তারা সশিষ্য শান্তি পােছ। শাস্তিভোগীদের অনেকেই দেখে তারা চিনতে পারলেন। এদেরই একজন তার অন্তরঙ্গ বন্ধু প্রতিষ্ঠিত কবি গুইদো কাভালকান্তির বাবা। সপ্তম বৃত্তে উপ¯ি হয়ে দান্তে দেখতে পেলেন খুনি নির্মম অত্যাচারীদের ফুটন্ত রক্তস্রোতে এই পাপীদের স্নান করিয়ে দেওয়া েছ। পরবর্তী বৃত্তে শাস্তি পােছ বিভিন্ন শ্রেণির প্রতারকেরা। এদের মধ্যে আছে চোর, গণতকার, চাটুকার প্রভ...তি। নরম বৃত্ত বিশ্বাসঘাতকদের শাস্তির জায়গা। এই বিশ্বাসঘাতকতা হতে পারে স্বদেশের বিরুদ্ধে, বন্ধুর বিরুদ্ধে, ধর্মের বিরুদ্ধে ইত্যাদি। এমন একজন বিশ্বাসঘাতক ছিলেন ইউগেলিনো। দান্তে কিছুক্ষণ তার শাস্তি দেখলেন। কাউন্টকে অন্যায়ভাবে পুত্রকন্যাসহ পিপার টাওয়ারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল এবং সেখানেই অনাহারে তিলে তিলে তাদের মৃত্যু হয়। নরকে এসে ইউগোলিনো তার ঘোর শত্রু আর্চবিশপ রুগারের মাথাটা গোগ্রাসে গিলে খাবার চেষ্ঠা করছে আর ব্যর্থ হয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। নরকের সর্বো বৃত্তে দেখা গেল শয়তান লুসিফারকে। সেখানে বসে সে সবচেয়ে ঘৃণ্য তিন বিশ্বাসঘাতক ব্রুটাস, ক্র্যাসিয়াস এবং জুডাসের শরীর সশব্দের দাঁত দিয়ে কামড়ােছ।

পুরগাতোরিও নরক স্বর্গের মধ্যবর্তী ¯’ান। যাদের জীবনে পাপের পরিমাণ কম তারা এখানে কিছুকাল বাস করে পাপ স্খালন করে স্বর্গে প্রবেশের অধিকার লাভ করেন। কোনো কোনো ধর্মমতানুসারে পুরগাতোরিও আব্রাহামের বক্ষদেশ হিসেবে দেখা হয়। গার্ডেন অব ইডেনের সঙ্গে পুরগাতোরিও আব্রাহামের বক্ষদেশ হিসেবে দেখা হয়। গার্ডেন অব ইডেনের সঙ্গে পুরগাতোরিওর মিল আছে বলা হয়ে থাকে। কোনো কোনো ধর্মমত অনুযায়ী মৃত্যুর পর আত্মা এখানে এসে জীবিতকালে যারা প্রিয় বা বন্ধুজন ছিল তাদের সঙ্গে কিছুকালের জন্য মিলিত হবার সুযোগ পায়।

পৃথিবীর শেষ প্রান্তে, যেখানে অন্তহীন সমুদ্র আরম্ভ হয়েছে, সেখানেই উঠেছে একটি সুউ পর্বতশিখর। এই শিখরই হল পুরগাতোরিও। পবর্তশিখরটিকে ঘিরে নীচে থেকে চুড়া পর্যন্ত সাতটি স্তর বিন্যস্ত। একেবারে চুড়ায় একটি মনোরম বনভুমি, সেটি মর্তের অধিবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট স্বর্গ। পুরগাতোরিওর প্রবেশপথের বাইরে দান্তে দেখতে পেলেন কর্তব্যে অবহেলাধারী চারশ্রেণির পাপী। তারা সবাই তাদের নির্দিষ্ট ¯’ানে যাবার অপেক্ষা করছে। উপরোক্ত সাতটি চত্বরে সাত শ্রেণির পাপীদের বিভিন্ন রকম শাস্তির ব্যব¯’ আছে। সাত শ্রেণির পাপ হল: গর্ব, ঈর্ষা, ক্রোধ, আলস্য, লোভ, অমিতব্যয়িতা কামলালসা। সিঁড়ি দিয়ে ওঠবার সময় এক দেবদূত তার তরবারির অগ্রভাগ দিয়ে দান্তের কপালে একে দিলেন ঝবাবহ ঢ়ং অক্ষর দিয়ে লাটিন চবপপধঃধ (পাপ) বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ সাত প্রকার পাপ। পুগাতোরিও সাত প্রকার পাপীদের সংশোধনাগার, একটি চত্ত্বর পার হবার পর সেই স্তরের জন্য নির্দিষ্ট পাপের নামটি কপাল থেকে মুছে ফেলতে হবে। এই ছিল দেবদুতের উপদেশ।

দান্তে যখন সাত প্রকার পরিবেশে এক চত্বর থেকে অন্য চত্বরে ঘুরে বেড়িয়েছিলেন তখন আকাশে দেবদুতরা স্বগীয় অনুভুতি পূর্ণ ঐক্যতান সংগীত গাইছিলেন। দান্তে সপ্তম চত্বরে পৌছে দেখলেন কামলালসার জন্য যারা অপরাধী তাদের জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে ফেলে শুদ্ধ করা েছ। আগুনের ওপারে সতীত্বের দেবী দাঁড়িয়ে বলছিলেন, হৃদয় যাদের শুদ্ধ তারাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাবার যোগ্য। বেদীদান্তেকে আদেশ করলেন আগুনের ভতির দিয়ে তার কাছে যেতে। আগুনের ভিতর দিয়ে তার কাছে যেতেই দান্তের কপাল থেকে সাতটি পাপের তালিকা মুছে গেল। এবার দান্তে ভার্জিলের সঙ্গে পর্বতের শিখরে উপ¯ি হলেন। এখানে সেই মনোরম বনভুমি, যা পৃথিবীর স্বর্গ বলে পরিচিত। বনের প্রবেশ করতেই বিয়াত্রিচে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে এগিয়ে এলেন।

বিয়াত্রিচে দান্তের নিকট ছিলেন মানব চরিত্রে সর্বশ্রেষ্ঠ গুণাবলির প্রতীক। এখন বিয়াত্রিচের দেহাবয়ব থেকে ঐশ্বরিক জ্যোতি বিছুরিত েছ। বাস্তব কল্পনার জগতে যে বিয়াত্রিচে ছিলেন তার নিত্যসঙ্গী, জ্যোতিলোর্কে তার রূপান্তর ঘটেছে ঐশী সৌন্দর্যের প্রদীপ শিখার মতো। এবার দান্তে গেলেন লিথি নদীতে স্নান করতে। স্নান সেরে উঠতেই বিস্মৃত হলেন অতীত সব স্মৃতি। তার আত্মা পরিশুদ্ধ হল। এবার যাত্রা মূল স্বর্গের পথে। ভার্জিল এখান থেকেই ফিরে গেলেন। বিয়াত্রিচে হলেন তার পথপ্রদর্শক।

এবার যাত্রা স্বর্গের পথে। দান্তের স্বর্গের পরিকল্পনায় আছে নয়টি বেষ্টমি। এখানে যারা পূণ্য অর্জন করেছেন তারা স্বর্গে বসবাসের অধিকারী। দান্তে এখানে বিয়াত্রিচের প্রদর্শিত পথে এগিয়ে চললেন। হঠাৎ সামনে এক সুবিস্ত... আলোর সাগর তার চোখ ঝলসিয়ে দিল। এবার তার অন্তরতম কর্ণেন্দ্রিয় উন্মুক্ত হল। শুনতে পেলেন নবগ্রহের সমন্বিত স্বগীয় ঐকতান। বিয়াত্রিচে দান্তেকে জানালেন এখন তিনি অর্মত্যলোকে উপ¯ি হয়েছেন। বিশুদ্ধ আত্মা যখন ঈশ্বর দর্শনের জন্য আকুল হয় তখনই এখানে আসা সম্ভব এক লোক থেকে অন্য লোকে যেতে বিয়াত্রিচের ঐশী সৌন্দর্য ক্রমশ প্রোজ্জ্বল হতে থাকে। প্রথমেই দুজনে এসে উপ¯ি হলেন চন্দ্র গ্রহে। এর অধিপতি চন্দ্র। বিয়াত্রিচে পান্ডিত্যপূর্ণ আলোচনার সাহায্যে তাকে বোঝালেন চন্দ্র নক্ষত্রদের অতীন্দ্রিয় রহস্যের কথা। ঈশ্বরের করুণালাভে যারা ধন্য হয়েছেন তাদের কয়েকজনকে এখানে দেখা গেল।

এরপরে বুধের রাজ্য। এখানকার বাসিন্দা ঈশ্বর ভক্তরা দান্তেকে ঘিরে ধরলেন। ঈশ্বরের ...পাধন্যর কাছে থেকে ঈশ্বর ভক্তি আরো বৃদ্ধি করবার রহস্য জেনে নিতে তারা আগ্রহান্বিত। পরবর্তী লোকে যেতে যেতে বিয়াত্রিচে দান্তেকে শিখিয়ে দিলেন উদ্ধার পাবার গুপ্ত মন্ত্র; মন্ত্র সকলকে বলা হয় না। যারা প্রেমের অগ্নিশিখায় পরিশুদ্ধ হয়েছেন তারাই মুক্তির মন্ত্র জানবার অধিকারী পরবর্তী গ্রহলোকের নায়ক সূর্য। এখানে খ্রিষ্টধর্মের মহান গুরুদের বাস। দান্তে দেখতে পেলেন অ্যালবার্টস ম্যাগনাস, টমাস অ্যাকুইনাস, পিটার লোমবার্ড, রাজা সলোমন, বথিয়াস প্রমুখ খ্যাতনামা ব্যক্তিদের। দান্তে সেন্ট টমাসের কাছে থেকে কিছু উপদেশ শুনে যাত্রা করলেন। পরবর্তী গ্রহলোক।

পঞ্চমলোকের অধিপতি মঙ্গল। ক্রুশের চারদিক ঘিরে পঞ্চম স্বর্গের ব্যাপ্তি। যারা যিশুর বাণী প্রচারের জন্য অস্ত্র ধারণ করে প্রাণ দিয়েছিলেন তারা এখানে বসবাস করে। জুডাস ম্যাকারিয়াস, শালমেন প্রমুখ বীর যোদ্ধাদের সঙ্গে দান্তের দেখা হল ষষ্ঠ। ষষ্ঠ স্বর্গের অদিপতি বৃহস্পতি। এখানে কর্তব্যনিষ্ঠ প্রজাবৎসল রাজাদের বাস। পরবর্তী ¯’ানটি শনির অধিকারভুক্ত। এখানে তপস্যামগ্ন ঋষিরা বাস করবার অধিকার পেয়েছেন। অষ্টমলোকের অধিপতি ¯ি নক্ষত্রবৃন্দ। দান্তে ভয়মিশ্রিত বিস্ময়ে অপলক দৃষ্টিতে দেখতে লাগলেন দীপ্যমান যিশুকে। তাকে বেষ্টন করে আছেন মাতা মেরী এবং তার দ্বাদশ প্রিয় শিষ্য। এর পরেই দান্তে স্ফটিকনির্মিত নবম স্বর্গে উপ¯ি হলেন সেখানকার বিছুরিত আলোকের ঐশ্বর্য তিনি দেখতে পেলেন বেআত্রিচের পরিশুদ্ধ চোখের মধ্য দিয়ে। সামনে দেখা গেল নয়টি ঐকতান মন্ডলী বৃত্তাকারে ঘুরে বেড়ােছ বিশ্বপতির আসন কেন্দ্র করে। বিশ্বনিয়ন্তার অধিষ্ঠানক্ষেত্র পরমশুদ্ধ অগ্নিলোকে প্রবেশ করে দান্তে দেখলেন সারিবদ্ধভাবে ঐশীশক্তির করুণাধন্য বিশুদ্ধ আত্মাদের অব¯’ান। এবার বিয়াত্রিচে কবির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে করুনাপ্রাপ্ত আত্মাদের মধ্যে গিয়ে বসলেন। এবার কবিকে পথ দেখাবার দায়িত্ব গ্রহন করলেন সেন্ট বার্নার্ড। যেতে যেতে সেন্ট বার্নার্ড দান্তেকে জানালেন মানবজীবনের চরম লজ্জা কী হওয়া উচিত। এরপর তিনি দান্তের জন্য মাতা মেরীর কাছে আশীবার্দ প্রার্থনা করলেন। এই পরিবেশের মধ্যে দান্তে এক ঐশী আনন্দের ¡াসে ঈশ্বরের ধ্যানে মগ্ন হলেন ঈশ্বরের স্নেহময় করুনা প্রার্থনাই মানুষের চরম লক্ষ্য। দান্তে তার মহাকাব্য সমাপ্ত করেছেন এক আদর্শের বাণী শুনিয়ে; এখন আমার সকল কামনা, সকল আকাঙক্ষা প্রেম চালনা করেছে, চক্রাকারে মর্সণ গতিতে। সৌরজগৎও এমনি করেই প্রেমের টানে ক্রমাগত ঘুরছে।

বিশ্বব্যাপী প্রেমের প্রাধান্য ঘোষণা করলেও দান্তে পার্থিব জীবনে দুঃখ দুর্দশার কথা ভোলেননি। কিš‘ বেদনা তাঁকে দুর্বল করেনি, তিনি বলেছেন, দুঃখ আমার হৃদয়ে শক্তি সঞ্চার করে। তার এই বিশ্বাস যে কত বড়ো সত্য তা উপলব্ধি করি কবির নিজের জীবন থেকে। নির্বাসন দন্ডে দন্ডিত হবার পর থেকে ইটালির সবত্র দান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন একটু নিশ্চিত আশ্রয়ের সন্ধানে। জীবিকার্জনের জন্য ছাত্র পড়িয়েছেন, বড়োলোকের চিঠিপত্র লিখে দিয়েছেন, কখনো বা করেছেন দূতের কাজ। ধনী ব্যক্তিরা দু একদিনের জন্য আশ্রয় দিয়েছেন, তাতে গৃহসুখের নিশ্চিন্ততা নেই এদিকে ফ্লোরেন্সের বিধান অনুসারে যে আসামি শান্তি এড়িয়ে পালিয়ে বেড়ােছ সেই শাস্তি ভোগ করতে হবে প্রাপ্ত বয়স্ক পুত্রকে। এই নিয়েও দান্তে সর্বদা চিন্তিত। সৌভাগ্যক্রমে তাঁর দুই পুত্রই যথাসময়ে পালিয়ে তার কাছে আসতে সক্ষম হয়েছে। বড়ো মেয়ে বেআত্রিচে বাবার কাছে আগেই চলে এসেছে। স্ত্রী আসতে পেরেছিলেন কিনা সে বিষয়ে কোনো সুষ্পষ্ট উল্লেখ নেই।

প্রসঙ্গক্রমে বলা চলে যে দান্তে ডিভাইন কমেডি তে বন্ধু শত্রুদের অনেকের নাম উল্লেখ করেছেন, তার পিতা স্ত্রীর নাম সেখানে অনুল্লিখিত। এই দুঃখময় ভ্রাম্যমান জীবনের মধ্যেই তার শ্রেষ্ঠ কাব্য দ্য ডিভাইন কমেডির আরম্ভ এবং কাব্য যে বছরে সমাপ্ত সে বছরেই তার মৃত্যু। যেন জীবনের মহত্তম কাজ সম্পন্ন করার পর বেচে থাকা অবান্তর। ডিভাইন কমেডির প্রথম পর্ব ইনফারনো প্রকাশিত হয় ১৩০৭ সালে। শেষ পর্ব প্যারাডাইস প্রকাশিত হয় ১৩২১ সালে। সে বছরই সেপ্টম্বরের মাঝামাঝি সময় দান্তে পরলোক গমন করেন। ১৩০২ সালে কবি নির্বাসন দন্ডাজ্ঞা জানতে পারেন এবং তার পর থেকে ক্রমাগত মধ্য দক্ষিন ইটালির বিভিন্ন জনপদে ঘুরে ঘুরে বেড়াতে থাকেন আশ্রয়ের সন্ধানে তিনি নিজেই বলেছেন ভিক্ষুকের মতো জীবনধারণ করেছেন, হালভাঙা তরণীর মতো স্রোতের টানে আছড়ে পড়েছে তার জীবন। কিš‘ অব¯’াতেও তার সৃষ্টিশীল কলমের বিরাম ছিল না। ১৩০২ থেকে ১৩০৭ সাল পর্যন্ত ইনফারনো পর্বটি সমাপ্ত হয়েছে। ক্রমে ক্রমে ফ্লোরেন্সে ফিরে আসার আশাসুদূর পরাহত হয়েছে। শরীর দুর্বল হয়েছে, জীবিকার অনিশ্চয়তা ক্রমেই বেড়েছে কিš‘ তার কলম থামেনি। এই অনিয়ম দুঃখময় জীবনের মধ্যেও ডিভাইন কমেডির মতো কাব্য রচনা করা যায় সেটাই পরম বিস্ময়ের কথা। জীবনের শেষ কয়েকটা বছর একটু স্বস্তি পেয়েছিলেন। গুইদো দা পোলেন তার অনুগহে রাভোন্নায় একটি পৃথক বাড়ি পেয়েছিলেন নিশ্চিন্তে বসবাসের জন্য। তার মহাকাব্যের শেষ সর্গ পারদিজো সমাপ্ত করবার পর কয়েকদিনের মধ্যেই আশ্রয়দাতার অনুরোধে যেতে হয় ভেনিস নগরীতে। রাভেন্না ভেনিসের মধ্যে অনেকদিনের একটি কলহ মেটাবার উদ্দেশ্যে তাকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল, কিš‘ সে প্রয়াস ব্যর্থ হয়। ভগ্ন মনোরথ দান্তেকে ফিরে আসতে হয় দুর্গম জলাভুমির মধ্য দিয়ে, এসেই তিনি অসু¯’ হয়ে পড়েন। এই রোগেই তার মৃত্যু হয়। ১৩ কি ১৪ সেপ্টেম্বর ১৩২১ সালে।

প্রায় এক শতাব্দী পরে দান্তে দেহাবশেষ যেখানে সমাহিত করা হয়েছে তার উপরে নির্মিত হয়েছে একটি সমাধিস্তম্ভ, যার ¯’পতি ছিলেন ইবৎহধৎফড় ইবসনড়। কবির মৃত্যুর অনেক পরে ফ্লোরেন্সের নাগরিকরা তার কাব্যপ্রতিভা সম্যক উপলব্ধি করতে পেরেছিল। বারবার সেখানকার নাগরিকরা কবির দেহাবশেষ নিয়ে যেতে চেয়েছিল ফ্লোরেন্সে এবং এক অপূর্ব সমাধিমন্দির গড়ে তুলতে চেয়েছে দেহাবশেষের সমাধিক্ষেত্রে , কিš‘ রাভেন্না তাতে কিছুতেই সম্মতি দেয়নি।

ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দশকের শেষার্ধের পূর্বে কোনো পোপই ডিভাইন কমেডিকে মর্যাদার আসন দিতে চাননি। কিš‘ ধর্মগুরুর স্বীক...তির পূর্বে পাঠকসমাজ এই মহাকাব্যকে যথাযোগ্য মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে। লেখক তার কাব্যে নাম দিয়ে রেখেছিলেনখধ ঈড়সসবফরধ অর্থাৎ মিলনের কাব্য। সে মিলনও ছিল অসাধারণ, স্বর্গে মিলন ঘটল সেই অসামান্য রমনী বিয়াত্রিচের সঙ্গে, স্বয়ং প্রভুর দরবারে। মুগ্ধ পাঠক সমাজ কবির দেওয়া নামের সঙ্গে পরবর্তীকালে যোগ করে দিলউরারহবকথাটি। লেখকের দেওয়া নাম ভুলে গিয়ে বহাল রইল গুণমুগ্ধ পাঠকদের দেওয়া নামটি। সাহিত্যের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল।

জনমতের প্রবল চাপেই গুরু পোপকেও একদিন প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের বিরোধী কবি দান্তেকে স্বীক...তি দিতে হয়। কারণ ডিভাইন কমেডি হল এমন এক ভ্রমন কাহিন যা .... ঢ়রষমৎরসধমব ঃযৎড়ঁময ধহ রহযঁসধহ ড়িৎষফ.



ক্যাটেগরি: জাতীয়
ট্যাগ: জাতীয় আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিনোদন

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

লিংক কপি হয়েছে!

অন্যান্য খবর

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী,  কুসিকের মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ে না নগরীতে
মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কুসিকের মশক নিধন কার্যক্রম চোখ...

মাহফুজ নান্টুকুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে প...

গভীর রাতে বিজিবিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে এমপি   জসিমের অভিযান, তিন মোটরসাইকেল আটক
গভীর রাতে বিজিবিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে এমপি জসিমের অভিযান,...

মো. আনোয়ারুল ইসলামকুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন জসিম মাদ...

কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ৮ লাখ টাকার   অবৈধ ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে ও বাজি উদ্ধার
কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ৮ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় ম...

নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরো...

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সৌজন্য সাক্ষাৎ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সৌজন্য সাক্ষাৎ মন্ত্রী মোহা...

গতকাল সোমবার কৃষি, মৎস্য, খাদ্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সাথে সচিব...

মুরাদনগরে পুলিশের   মাদক বিরোধী অভিযানে   ৮ মাদকসেবী গ্রেপ্তার
মুরাদনগরে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ৮ মাদকসেবী গ্রেপ্ত...

বেলাল উদ্দিন আহাম্মদকুমিল্লার মুরাদনগরে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ৮ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করেছে...

বরুড়ায় মঞ্চনীড়   থিয়েটারের ইফতার
বরুড়ায় মঞ্চনীড় থিয়েটারের ইফতার

‎মোঃ জাহাঙ্গীর আলম‎পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে বরুড়া মঞ্চনীড় থিয়েটারের আয়োজনে বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফ...

আজকের তারিখ
ইংরেজি তারিখ বাংলা সন
প্রিন্ট নিউজ
...
ছবির গ্যালারি
আমাদের Facebook Page
সর্বশেষ
➤ মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কুসিকের মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ে না নগরীতে
➤ গভীর রাতে বিজিবিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে এমপি জসিমের অভিযান, তিন মোটরসাইকেল আটক
➤ কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে ১ কোটি ৮ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় মোবাইল ডিসপ্লে ও বাজি উদ্ধার
➤ ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সৌজন্য সাক্ষাৎ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ
➤ মুরাদনগরে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে ৮ মাদকসেবী গ্রেপ্তার
➤ বরুড়ায় মঞ্চনীড় থিয়েটারের ইফতার
➤ লালমাইয়ে সাংবাদিকদের সম্মানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ইফতার
➤ কুবিতে শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানে পাঁচ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন
➤ সদর উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে মনিরুল হক চৌধুরীর ইফতার
➤ ব্রাহ্মণপাড়া ডায়াবেটিক সমিতির উদ্যোগে সেমিনার ও ইফতার
➤ কুমিল্লায় ইসকনের সাবেক সেক্রেটারিকে হয়রানির অভিযোগে পর্নোগ্রাফি মামলায় আইনজীবী গ্রেফতার
➤ বুড়িচংয়ে মাদক সেবনের দায়ে ৫ যুবকের ৭ দিনের কারাদণ্ড
➤ মাটি কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মনির চৌধুরী এমপির কঠোর বার্তা
➤ আমি নিজে অপকর্ম করব না, কাউকে করতেও দেব না-জসীম উদ্দীন এমপি
➤ কৃষিতে জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে
➤ কুমিল্লা জেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা
➤ চান্দিনায় একই ঘরে মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ, এলাকায় চাঞ্চল্য
➤ ব্রাহ্মণপাড়ায় দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে এমপি জসিম উদ্দিনের মতবিনিময়
➤ কুমিল্লাকে বাঁচাতে দরকার সমন্বিত উদ্যোগ-মনিরুল হক চৌধুরী এমপি
➤ খামেনির লৌহকঠিন শাসনের অবসান
গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্কসমূহ
Logo

সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর মুহাম্মদ আসিফ তরুণাভ (ভারপ্রাপ্ত) কর্তৃক ন্যাশনাল অফসেট প্রেস, আবদুর রশিদ সড়ক, বাগিচাগাঁও, কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত। নির্বাহী সম্পাদক: আরিফ অরুণাভ, মোবাইল:০১৭১২-৭৬৭৮৬৬,  বার্তা বিভাগ: ০১৭১১-৩৩২৪৯৮, ০১৯৭১-৩৩২৪৯৮, ব্যবস্থাপক: ০১৭১১-৫৭০৬৯৪, ঢাকা অফিস : ০১৮১৯-৬০২০২৩, ফোন: +৮৮০২৩৩৪৪০৩৯০০।

অফিসের ঠিকানা

২৪৬ রূপসী বাংলা ভবন

আব্দুর রশিদ সড়ক

বাগিচাগাঁও

কুমিল্লা।

যোগাযোগ

নির্বাহী সম্পাদক: ০১৭১১-৩৩২৪৯৮, বার্তা বিভাগ: ০১৯৭১-৩৩২৪৯৮, ব্যবস্থাপক: ০১৭১১-৫৭০৬৯৪, ঢাকা অফিস : ০১৮১৯-৬০২০২৩, ফোন: +৮৮০২৩৩৪৪০৩৯০০।

E-mail:rupashibangla42@gmail.com

website: www.dailyrupashibangla.com


আমাদের অনুসরন করুন :
© 2026 Daily Rupashi Bangla. All rights reserved.
Design & Developed by: alauddinsir