নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লায় দায়ের করা দুটি মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ, হত্যার হুমকি, হামলা, লুটপাট, অপহরণের চেষ্টা এবং সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র (৩৭)। নিজ ও পরিবারের সদস্যদের আইনগত ও প্রশাসনিক নিরাপত্তা চেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করেছেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমে সাংবাদিকতা এবং মানবাধিকারকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা জিআর মামলা নম্বর-৮৫০/২৪ এবং জিআর মামলা নম্বর-৮১২/২৫-এর আসামি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর কোতয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় হত্যাচেষ্টা, মারধর, লুটপাট, ভাঙচুর ও ভয়ভীতিসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়।পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর তাকে পথরোধ করে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের প্রশাসনের বিশেষ শাখার লোক পরিচয় দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করেন শুভ্র।
তার দাবি, তিনি মামলা প্রত্যাহারের ক্ষমতা নিজের নেই বলে জানালে একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আহত করা হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও পেশাগত কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা নিয়ে যাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আহত অবস্থায় তাকে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তিনি কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তদন্তের সময় একটি মোটরসাইকেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও অভিযুক্ত চারজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর কোতয়ালী মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯২/৩৪ ধারায় মামলা করা হয়।
শুভ্র অভিযোগ করেন, দুটি মামলা দায়ের হওয়ার পরও তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও চাপ দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। তার নামে মিথ্যা তথ্য ও কুৎসা প্রচার, সামাজিকভাবে হেয় করা, ব্ল্যাকমেইল এবং মামলা প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
আবেদনপত্রে আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক পৌনে ৮টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় চার ব্যক্তি একটি পুরোনো সাদা রঙের প্রাইভেটকারে করে তার বাসার সামনে আসে। তারা নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে তাকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তার সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে ওই ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া, বিভিন্ন সময় অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষের মাধ্যমে তাকে হয়রানি, হুমকি ও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, কথিত অপরাধ ও মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ভিডিও চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শুভ্র জানান, বিষয়টি জানিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশ, ডিএনএফআই/অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থা, জেলা আইনজীবী সমিতি এবং কুমিল্লা প্রেসক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আবেদনের শেষাংশে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে, তার আবেদনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গ্রহণের পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পুলিশ সুপার, কুমিল্লাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিসিয়াল মুন্সিখানা শাখার স্মারকে পত্রের মর্ম অনুযায়ী বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করা হয়।