আয়েশা আক্তার।।
কুমিল্লা নগরীতে অনুমোদনহীন ও নিয়মবহির্ভূত বহুতল ভবনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫টি ভবন পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে আটটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানের সময় ভবনের অনুমোদিত নকশা, নির্মাণের অনুমতি, নির্ধারিত সেটব্যাক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। কয়েকটি প্রকল্পের মালিক, ইঞ্জিনিয়াররা নকশা ও অনুমোদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে উন্নয়ন কতৃপ জানিয়েছে।
অভিযানকালে নগরীর পুলিশ লাইন, বাগিচাগাঁও, রানীর বাজার রোড, ডায়াবেটিস রোড, দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া ও প্যারামেডিকেলের বিপরীত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নগরীর পশ্চিম বাগিচাগাঁও এলাকার ডেলমন টাওয়ার প্রকল্পে বেজমেন্টে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে রয়েছে। এতে সেখানে এডিস মশার লার্ভা থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেডিএর কর্মকর্তারা বিষয়টি পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
এ সময় প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে ডেলমনের প্রকৌশলী ইমরান উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এসময় তিনি প্রকল্পের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেন নাই। তবে তাদের বাগিচা গাও এর প্রকল্প ইঞ্জিনিয়ার এর দাবি, ছয়তলা ভবনের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
রানীর বাজার রোডে ডেলমনের বড় একটি প্রকল্পও অভিযানের আওতায় আসে। সেখানে অনুমোদিত নকশার কাগজপত্র দেখাতে না পারায় নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এমআরসি বিল্ডার্সের একাধিক ভবনে অনিয়মের অভিযোগ; অভিযানে এমআরসি বিল্ডার্সের একাধিক প্রকল্পেও নির্মাণবিধি না মানার অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রেসকোর্স এলাকার রোকেয়া মমতাজ প্যালেস, পুলিশ লাইন এলাকার হাইবা টাওয়ার, বাগিচাগাঁওয়ের প্রতীক টাওয়ার, আলপনা টাওয়ার ও কুরাইশী টাওয়ারসহ কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করা হয়।
বাগিচাগাঁও ফায়ার সার্ভিসের পেছনের গলিতে এমআরসি বিল্ডার্সের প্রতীক টাওয়ারে অনুমোদিত নকশার সীমার বাইরে গিয়ে নির্মাণকাজ করার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির সাততলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হলেও সিটি করপোরেশন/কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে এতদূর নির্মাণের অনুমতি ছিল না।
এ ছাড়া ভবনটির সামনের রাস্তা ও পেছনের সেটব্যাক নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। উন্নয়ন কতৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নকশায় ৩৬ ফুট রাস্তা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় ২৪ ফুট জায়গা রাখা হয়েছে। একইভাবে পেছনে ১০ ফুট জায়গা রাখার কথা থাকলেও প্রায় ৫ ফুট রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এমআরসি বিল্ডার্সের কুরাইশী টাওয়ারের ক্ষেত্রেও অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ এবং সরকারি রাস্তার জায়গা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, নকশায় বেজমেন্ট পর্যন্ত নির্মাণের অনুমতি থাকলেও সেখানে সাততলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ সময় বাগিচাগাও এম এ জাহের লিমিটেড এর ছয়তলা ভবনের কাজ চলমান অবস্থায় রয়েছে এই ভবনের মালিক বুড়িচং ব্রাহ্মণ পাড়ার পলাতক এমপি এম এ জাহের তার ইঞ্জিনিয়ার দেখা করেন নাই যার ফলে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন এবং কাগজপত্র নিয়ে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অফিসে দেখা করার নির্দেশ প্রদান করেন।
কেডিএর কর্মকর্তারা জানান, সংশ্লিষ্ট নকশায় বেজমেন্ট/আন্ডারগ্রাউন্ড পর্যন্ত কাজের অনুমতির বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও সেটিকে চূড়ান্ত নির্মাণ অনুমোদন হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোর কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাঁধন টাওয়ারেও নির্মাণকাজ বন্ধ; নগরীর শুভ ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেডের ‘বাঁধন টাওয়ার’ প্রকল্পেও অভিযান চালানো হয়। ভবনটির সেমি-বেজমেন্ট পর্যন্ত কাজের কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় নকশা অনুমোদন না থাকায়, পাশাপাশি মশার পাদুর্ভাব সৃষ্টি হওয়ায় ভবনটি নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেডিএর পক্ষ থেকে বলা হয়, অনুমোদিত নকশা ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ভবনটির নির্মাণকাজ চালানো যাবে না।
বিদ্যুৎ খুঁটির পাশে ভবন নির্মাণ; দক্ষিণ ঠাকুরপাড়ার মম্ রোকেয়া প্যালেস এলাকায়ও নির্মাণবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভবনটির পাশেই বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও প্রয়োজনীয় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টরা অনুমোদিত নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে কেডিএ কর্মকর্তারা জানান।
এ ছাড়া ঠাকুরপাড়ার শাপলা ভবনের মালিক হাবিবের ১০ তলা ভবনের অনুমোদিত নকশা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ভবনটির নির্মাণকাজের অনুমোদন-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ।
১৫ ভবনে অভিযান, বন্ধ ৮টির কাজ; অভিযান শেষে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেন, নগরীর ১৫টি ভবনে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে কেডিএ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব ভবনের মালিক বা সংশ্লিষ্টরা অনুমোদিত নকশা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথমে নোটিশ দেওয়া হবে এবং নির্দেশনা অমান্য করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে কোনো নির্মাণকাজ করার সুযোগ নেই। নির্মাণবিধি, সেটব্যাক ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করেই ভবন নির্মাণ করতে হবে।
অভিযানে কেডিএর প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুমিল্লা নগরীতে অনুমোদনহীন ও নিয়মবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশনের চূড়ান্ত অনুমোদিত নকশা ব্যতীত যারা বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন সে ব্যাপারে অবগত করে সিটি কর্পোরেশনকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়েছেন সেই আলোকে সিটি কর্পোরেশনের সিটি কর্পোরেশনের সাথে আলোচনা করে পরবর্তীতে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নিয়ম বহির্ভূত করার ফলে আই নানুব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।