ফয়সল আহমেদ খান
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ২০২৬ উপলক্ষে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ভিজিএফ খাদ্যশস্য সহায়তা বিতরণে বাঞ্ছারামপুরে ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার মোট ৩ হাজার ৮৫ জন এই সুবিধা পাওয়ার কথা।গতকাল ১হাজার ৫ শ ৮৫ জনের ক্ষেত্রে কোন অভিযোগ পাওয়া না গেলেও আজ ১ হাজার ৫০০ হতদরিদ্র মানুষের মাঝে এ খাদ্য সহায়তা বিতরণের পর অভিযোগ আসে,প্রতি ১০ কেজিতে ১ হতে ২ কেজি চাল কম দেয়া হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , আজ রবিবার সকাল থেকেই উপজেলা অডিটোরিয়ামে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও ট্যাগ অফিসার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মানিকুর রহমান ।
বিতরণকৃত চালের বস্তা মেপে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বস্তাতেই ২হতে ৩ কেজি পর্যন্ত ওজনে কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারিকুল ইসলাম চাল বিতরণের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মানিকুর রহমানের সাথে রেগে যান।
এদিকে সকাল থেকেই শত শত উপকারভোগী নারী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ১০ কেজি চাল পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাউকে ৮ কেজি, আবার কাউকে ৯ কেজি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ওজনে কম চাল পাওয়ায় উপকারভোগীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়।
নাম প্রকাশে কয়েকজন উপকারভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদেরকে ১ হতে ২ কেজি করে কম দেয়া হচ্ছে ওজনে।
অভিযোগ উঠেছে, চাল বিতরণে কোনো নির্ধারিত ওজন পরিমাপের মেশিন ব্যবহার না করে বালতি দিয়ে অনুমাননির্ভরভাবে চাল মেপে বিতরণ করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে সঠিক ওজন নিয়ে আরও বেশি প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, আমি ও পৌর প্রশাসক কাম এসি ল্যান্ড আজ সরকারি কাজে জেলায় ছিলাম।বাঞ্ছারামপুর এসে চাল কম দেয়ার অভিযোগ জানতে পেরে আমি তাৎক্ষণিক খোঁজ-খবর নেই। এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন কে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।কমিটি পরবর্তী ৩ কর্মদিবসে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করবে।তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন উপজেলা সমবায় অফিসার অলি আহাদ ও খাদ্য কমকর্তা অসিম কুমার রায়।
ইউএনও আরো বলেন, ইতোমধ্যে চাল বিতরণের সাথে সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসার মানিকুর রহমান ও স্থানীয় খাদ্য গোদামের কর্মকর্তা ( এলএসডি) নজরুল ইসলাম কে শোকজ করা হয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার ভূমি রবিউল হাসান ভূইয়া কালের কন্ঠ কে বলেন, আমি ও ইউএনও স্যার জেলায় ছিলাম।গতকাল তো ঠিকঠাক মতো চাল দেয়া হয়েছে। আজ এলএসডি হতে যে বস্তা এসেছে,তাতে কোন কোনটাতে চাল কম থাকতে পারে।যে বস্তায় চাল কম দেয়া হয়েছে, সেগুলোর ভর্তুকি খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা দিবে।
দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার মানিক মিয়া বলেন, "প্রতিটি বস্তায়ই কম দেয়া আছে। আমি জানতাম না।এটি খাদ্য গুদাম হতে কম এসেছে।"