প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 5 Sep 2026, 12:42 AM
ব্রাহ্মণপাড়ায় পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত কৃষক, ভালো দামের প্রত্যাশা
মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। গ্রামাঞ্চলের খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ে সারি সারি পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্য এখন চোখে পড়ছে। ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেও তাঁদের প্রধান প্রত্যাশা, বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়া।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দুলালপুর, নগরপাড়, মনগুজ, মাধবপুর কলেজপাড়া, বেজুরা, সাহেবাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা দিন-রাত পরিশ্রম করে পাট সংগ্রহ করছেন। এ কাজে পরিবারের সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন, কেউ পাটকাঠি রোদে শুকাতে দিচ্ছেন, আবার কেউ আঁশ ধুয়ে রোদে মেলে দিচ্ছেন। মাঠ থেকে পাট কেটে জলাশয়ে জাগ দেওয়া থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়ানো ও শুকানো—সব মিলিয়ে গ্রামীণ জনপদে এখন কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাহ্মণপাড়ায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ আবারও বাড়ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে এ বছর ফলনও সন্তোষজনক হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
সাহেবাবাদ ইউনিয়নের নগরপাড় গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টির কারণে এ বছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে। উৎপাদন ভালো হওয়ায় তাঁরা লাভের আশা করছেন। তবে সেই আশার সঙ্গে বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে।
দুলালপুর পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেন, এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় গাছগুলো বেশ ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ পাট পাওয়ার আশা করছি। খাল ও বাড়ির পাশের ডোবাগুলোতে এবার পানিরও অভাব হয়নি। ভালোভাবে জাগ দিতে পেরেছি। বাজারে পাটের মোটামুটি ভালো দাম শুনছি। এমন দাম থাকলে কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারব।
কৃষকেরা জানান, উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় বেড়েছে। তাই পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষে আগ্রহী হবেন তাঁরা।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাট চাষে সরকারি প্রণোদনা, উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে ব্রাহ্মণপাড়ায় পাট চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।
স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটের আঁশের রং ও মান ভালো হলে দাম আরও বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আঁশ ছাড়ানোর পর পাওয়া পাটখড়িরও রয়েছে চাহিদা। প্রতি আঁটি পাটখড়ি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। পাটখড়ি বিক্রি করে উৎপাদন খরচের একটি অংশ উঠে আসছে তাঁদের।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, চলতি বছরে এ উপজেলায় মোট ২৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে দেশি জাতের ২২ হেক্টর এবং তোষা জাতের ৬ হেক্টর। এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। পরিমাণমতো বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে কৃষকদের তেমন ঝামেলা পোহাতে হয়নি। বর্তমান বাজারেও পাটের দাম ভালো আছে। আশা করছি, কৃষকেরা পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কুমিল্লায় সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার পরিদর্শনে কৃষিম...
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লায় সরকারি মুরগি প্রজনন ও উন্নয়ন খামার পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ...
কুমিল্লার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা করেন কুস...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা মহানগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে নগর উন্নয়ন, নাগরিক সেবা ও স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে...
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের দেশ, শ্রীকৃষ্ণ...
নিজস্ব প্রতিবেদকমৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, বাংলাদেশ সা...
গরুর খুরা রোগের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন উৎপাদন হচ্ছে, সারেরও মজুদ...
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লাল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) কিংবা খুরা রোগে কৃষকের আর কোনো গরু মারা যাবে না...
বাঞ্ছারামপুরে পাট চাষে অনিহা কৃষকের। "পাট দিয়া করমু কি?"
ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি পাট চাষ কইরা কি করুম? ১মন পাট বেইচ্চা (...
কুমিল্লায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেল দুই শতাধিক প্রাতঃভ্রম...
নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লা নগরীতে প্রাতঃভ্রমণকারীদের অন্যতম সামাজিক সংগঠন 'আমরা তোমাদের ভুলবো না...