প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 19 Oct 2026, 9:26 AM
স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা ও কঠোর নিরাপত্তায় বুড়িচংয়ে ৪৩ পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব
কাজী খোরশেদ আলম
বুড়িচং উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ৪৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে প্রশাসন, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দুর্গোৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে পূজামণ্ডপগুলোতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা ও ভক্তদের সমাগমের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসব উদযাপনের প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং পূজা উদযাপন কমিটির দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুড়িচং উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৪৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রাজাপুর ইউনিয়নে ৫টি, বাকশীমূল ইউনিয়নে ২টি, বুড়িচং পৌরসভায় ৩টি, ষোলনল ইউনিয়নে ১০টি, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নে ২টি, ময়নামতি ইউনিয়নে ১০টি, মোকাম ইউনিয়নে ৯টি এবং ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নে ২টি পূজামণ্ডপের তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজাপুর ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজাপুরের শ্রী মনমোহন দের বাড়ির শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দির, কর্মকারপাড়া দুর্গাপূজা মন্দির, শংকুচাইলের স্বর্গীয় ভারত চন্দ্র রায়ের বাড়ির পূজামন্দির, মিত্র বাড়ির পূজামন্দির এবং শংকুচাইল পশ্চিম দাসপাড়ার অমূল্য দাসের বাড়ির পূজামণ্ডপ।
বাকশীমূল ইউনিয়নে পালটি রাজাপুরের হরেন্দ্র চন্দ্র শীলের বাড়ির নব উদ্যম সংঘ এবং মনমোহন শীলের বাড়ির দুর্গামন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুড়িচং পৌরসভায় রয়েছে বুড়িচং বাজারের দক্ষিণা কালী বাড়ি দুর্গাপূজা মন্দির, নেপাল চন্দ্র রায়ের বাড়ির পূজামন্দির ও অমর চাঁদ সূত্রধরের বাড়ির পূজামন্দির।
ষোলনল ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে কদম্বতলীর পোদ্দার বাড়ি, আগানগরের বিজয় দাসের বাড়ি ও নরেশ দাসের বাড়ি, মিথিলাপুরের নারায়ণ বীর পালের বাড়ি, ষোলনলের অগ্রদূত দুর্গাপূজা মন্দির, কামারখারার মাতৃ সংঘ, শিবরামপুর সূত্রধর বাড়ি, বাবা লোকনাথ সংঘ, ভান্তি মাঝি বাড়ির সার্বজনীন কালী বাড়ি এবং আগানগরের সচীন্দ্র নমঃ বাড়ির পূজামন্দির।
পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নে উত্তর শ্যামপুর সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দির ও সাদকপুরের সূত্রধর বাড়ির পূজামণ্ডপে উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ময়নামতি ইউনিয়নের পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে রয়েছে কালা কচুয়ার গৌরনিতাই সেবা সংঘ, হরিণধরার লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার আশ্রম, রায়পুরের নারায়ণ সাহা বাড়ি, মিরপুরের দুর্গাচরণ সাহা বাড়ি, গন্ডুলের স্বর্গীয় গৌরাঙ্গ ডাক্তারের বাড়ি, বাগিলাড়ার নাহা বাড়ি ও দত্ত বাড়ি, শাহ দৌলতপুরের ভক্তি উৎসব ফাউন্ডেশন, রামপালের কবিরাজ মনমোহন দেবনাথের বাড়ি এবং পাইকপাড়া দুর্গাপূজা মন্দির।
মোকাম ইউনিয়নে দুর্গাপুরের নারায়ণ দাসের বাড়ি ও রাধাকৃষ্ণ দুর্গাপূজা মন্দির, নিমসারের মোকাম ভৌমিক বাড়ি, লোয়ারচরের চৌধুরী বাড়ি, মনিপুরের সূত্রধর বাড়ি, মোকামের হালগাঁও পূজামণ্ডপ, শিকারপুরের দাস বাড়ি, কোরপাই পশ্চিমপাড়ার মোকাম শ্রীশ্রী কালী বাড়ি এবং কাকিয়ারচরের কৈলাশ সরকার বাড়ির পূজামণ্ডপ রয়েছে।
ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নে রামপুরের হরিভূষণ পালের বাড়ি এবং ভয়েরপাড়ের আশ্বিনী সরকারের বাড়ির পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হচ্ছে।
বুড়িচং থানার ওসি মোঃ লুৎফুর রহমান বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুড়িচং থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তানভীর হোসেন বলেন, ুশারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করার জন্য সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন আনন্দ, উৎসাহ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চায় নগরবাসী
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল, যানজট এবং একের পর এক দ...
এক সপ্তাহের মধ্যে বাখরাবাদ গ্যাস শ্রমিক-কর্মচারী সংসদের নির্...
নিজস্ব প্রতিবেদকবাখরাবাদ গ্যাস শ্রমিক-কর্মচারী সংসদ রেজি. নং-১৯৩৩ (সিবিএ)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ...
কুমিল্লায় বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির বার্ষিক সা...
ফজলুল হক জয়কুমিল্লায় বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি (বাইপ্রমাস) এর জেলা শাখার বার্ষিক সাধারণ স...
আলহাজ্ব জুনাব আলীর নাতি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাব্বিরের ইন্তেকাল
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও দানবীর প্রয়াত আলহাজ্ব জুনাব আলীর কন্যা মোছাম্মৎ পেয...
ব্রাহ্মণপাড়ায় দুই মামলায় ১৫ ও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ডাকাত গ্র...
মো. আনোয়ারুল ইসলামকুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ১৫ ও ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে...
যুবদল নেতা কাউছার হত্যা পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, দুই ভাইয়ের...
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা।কুমিল্লা মহানগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদল নেতা মো. আবু কাউছার হত্যা মামলায় পাঁচ...